নেই নতুন গান, একের পর এক বাতিল হচ্ছে কনসার্ট

কারফিউ এবং ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্নের প্রভাব শুধু চলচ্চিত্র বা নাট্যাঙ্গনেই নয়, পড়েছে দেশের সংগীতাঙ্গনেও। একের পর এক বাতিল হচ্ছে কনসার্ট। ইন্টারনেট না থাকায় ঘরে বসেও শিল্পী রেকর্ড করতে পারছেন কোনো নতুন গান। আবার আগের রেকর্ড করা গানগুলো প্রকাশের তারিখ ঘোষণা করেও সময়মতো আপলোড করতে পারছেন না। কারণ বিশ্বায়ণের এই সময়ে কনসার্ট ছাড়া সংগীতের প্রায় পুরোটাই অনলাইন এবং ইন্টারনেট নির্ভর। সেই জায়গায় ইন্টারনেট না থাকা এবং কারফিউয়ের কারণে কনসার্ট বাতিল হওয়ায় আর্থিক ক্ষতিসহ নানা শঙ্কার ভেতর দিয়ে জীবন পার করতে হচ্ছে তাদের। যদিও খুব দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফেরার আশা প্রকাশ করছেন তারা। 

জনপ্রিয় সংগীশিল্পী বাপ্পা মজুমদার বলেন, ‘সার্বিকভাবে আমরা সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। পুরো দেশই তো ডিজিটাল প্লাটফর্মের আন্ডারে। ইন্টারনেট না থাকা এবং কারফিউয়ের কারণে কনসার্টগুলো বাতিল হচ্ছে। সকল মিউজিশিয়ান ঘরে বসে আছে। আমারও ৩টি শো ছিল। যার সবগুলোই বাতিল করতে হয়েছে। সত্যি একটা অস্থির অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছি।’ 

bappa

শুধু বাপ্পারই নয়, একাধিক শো বাতিল করতে হয়েছে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রাপ্ত শিল্পী বেলাল খানের। 

তিবি বলেন, ‘আগামী ২৬ তারিখে ভৈরবে একটা শো ছিল আমার। কিন্তু সেটা বাতিল করতে হচ্ছে। এছাড়া বর্তমানে আমাদের নতুন গানগুলোও তো অনলাইনে আপলোড করতে হয়। কিন্তু ইন্টারনেট না থাকায় সেটাও করতে পারছি না। আবার গান রেকর্ড করতে গেলেও তো সফটওয়ারগুলো ইন্টানেট নির্ভর। সেখানেও ঘরে বসে কিছু করার সুযোগ নেই। আর মানুষ অনলাইনে গান শুনলে সেখান থেকে আমাদের আয়ের সুযোগ থাকে। সেটাও বন্ধ। সব মিলিয়ে ক্ষতির অঙ্কই কষতে হচ্ছে।’ 

belal

আরেক সংগীশিল্পী সালমা বলেন, ‘দেখুন, সবার মতো আমারও একাধিক কনসার্ট বাতিল হয়েছে। কবে সেগুলো করতে পারবো জানি না। আমি তো ব্যস্ত কনসার্ট শিল্পীদের মাঝে অন্যতম। সেই জায়গায় এমন অবস্থা আমার জন্য কতটা কষ্টের এবং ক্ষতিকর সেটা বলে বোঝানো যাবে না। মানুষের জন্য তো আমরা গান করি। তাদের বিনোদন দিই। কিন্তু তারা যদি শান্তিতে না থাকে তাহলে গান কাদের জন্য করবো। আশা করছি, তাড়াতাড়ি সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে যাবে।’ 

এদিকে সংগীতশিল্পী জয় শাহরিয়ার ও কলকাতার সংগীতশিল্পী নচিকেতার একটি কনসার্ট করার কথা ছিল ২৬ জুলাই। কিন্তু সেটাও বাতিল করা হয়েছে বলে জানান জয়। শুধু তাই নয়, এমন অবস্থার শিকার হয়েছেন দেশের বেশিরভাগ শিল্পী। ফলে আর্থিক ক্ষতির হিসেব-নিকেশ কোথায় গিয়ে আটকায় সেই শঙ্কায় রয়েছের তারা।