আটকে পড়েছে শুটিং ইউনিট, কী পদক্ষেপ নিচ্ছে শিল্পী সংগঠনগুলো

আন্দোলনের মাঝেই দেশের বিভিন্ন স্থানে শুটিং করছিলেন দেশের চলচ্চিত্র ও নাট্যাঙ্গনের শিল্পী-নির্মাতা-কলাকুশলীরা। কিন্তু হঠাৎ কারফিউ জারি এবং ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় শুটিংস্পটেই আটকা পড়েছেন তারা। আটকে পড়া তালিকায় রয়েছেন নির্মাতা অভিনেতা কাজী হায়াৎ, সালাহউদ্দিন লাভলুসহ অনেকেই। সেখানে খাবার সংকট থেকে শুরু করে আর্থিক সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন বলে জানিয়েছেন একাধিক নির্মাতা-শিল্পী। 

এমনকি পরবর্তী কার্যক্রম কী হবে তা নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করছেন তারা। তবে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ময়মনসিং থেকে ঢাকায় ফিরেছেন কাজী হায়াৎ। 

তিনি বলেন, ‘রাস্তা কয়েববার চেক করা হয়েছে। ঢাকায় এখনই না ফিরতে অনুরোধ করেছে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। কিন্তু আমার তো কিছু করার নেই। ঢাকায় ফিরতেই হবে। নিজের পরিচয় দিয়ে ছাড় পেয়েছি। কিন্তু আমার অনেক সহকর্মী ভালুকায় আটকা রয়েছে। তারা সত্যি অনেক কষ্ট আর শঙ্কায় দিন পার করছে।’ 

তবে কাজী হায়াৎ ফিরলেও কয়েকশ’ শিল্পী-কলাকুশলী আটকা পড়েছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। তারা ফেরার অপেক্ষায় রয়েছে। এমনকি শিল্পী-নির্মাতাদের সংগঠনগুলোকেও পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ করছেন তারা। নিজেদের এই দুঃসময়ে প্রিয় সংগঠন পাশে থাকবে এমনটাই অনেকে প্রত্যাশা করছেন। 

যোগাযোগ করছেন সংগঠনগুলোর নেতাদের সাথে। বিষয়টি কথা হয় চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অভিনেতা ডিপজলের সঙ্গে। 

তিনি জানান, এরইমধ্যে অনেকের সঙ্গে তার যোগাযোগ হয়েছে এবং তাদের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান এই অভিনেতা।  

ডিপজল বলেন, ‘আমার সাথে এরইমধ্যে ৭-৮টি শুটিং ইউনিটের যোগাযোগ হয়েছে। তারা অনেকে বিপদ আর শঙ্কার ভেতর দিয়ে সময় পার করছে। একটি ইউনিটে ৫০ জনের বেশি মানুষ কাজ করে। সবাই হিসেব করেই টাকা পয়সা নিয়ে শুটিংয়ে যায়। কিন্তু হঠাৎ কারফিয়ের কারণে সব এলোমেলো হয়ে গেছে। তাছাড়া ইন্টারনেট না থাকায় চাইলেও টাকা তুলতে পারছে না। কিছুটা সময় কারফিউ শিথিল হলেও এই অল্প সময়ে ঢাকা ফেরাও কঠিন। তবে আমরা চেষ্টা করছি, তাদের জন্য বিশেষ কোনো ব্যবস্থা করার। সরকারের কাছে অনুরোধ যত দ্রুত সম্ভব দেশটাকে আগের অবস্থায় ফিরে আনার ব্যবস্থা করুন।’ 

শুধু চলচ্চিত্রের ইউনিটই নয়, আটকা পড়েছে একাধিক নাটকের ইউনিটও। তারাও অভিনয় শিল্পী সংঘের দিকে তাকিয়ে আছেন। সহকর্মীদের জন্য কী পদক্ষেপ নিচ্ছেন? 

এমন প্রশ্নে সংগঠনটির সভাপতি আহসান হাবিব নাসিম বলেন, ‘হ্যাঁ, কক্সবাজার, পূবাইলে আমাদের বেশ কয়েকটি শুটিং ইউনিট আটকা পড়েছে। এখনও তারা আশায় আছে যে, দু-এক দিনের মধ্যে সব স্বাভাবিক হবে এবং তারা ফিরতে পারবেন। তবে নিয়ে আসার বিষয়ে এখন অবধি কেউ কিছু আমাদের বলেনি। কেউ যদি আমাদের সহযোগিতা চান তাহলে অবশ্যই চেষ্টা করবো তাদের বিপদে পাশে থাকার।’