আন্দোলনে নিহত শিক্ষার্থীর সংখ্যা কত, যা বললেন মন্ত্রীরা

কোটা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ঘিরে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সংঘাত-সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ পরিস্থিতিতে গত ১৯ জুলাই রাত থেকে দেশে কারফিউ জারি রয়েছে। এর মধ্যে গত ২১ জুলাই সরকারি চাকরির কোটা নিয়ে রায় দেন আপিল বিভাগ। মঙ্গলবার (২৩ জুলাই) কোটা বিভাজনের প্রজ্ঞাপন জারি হয়েছে বলে এক সংবাদ সম্মেলনে জানান আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

আন্দোলনে নিহত শিক্ষার্থীর সংখ্যা কত- সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, আন্দোলনে আসলে শিক্ষার্থীদের কতটুকু অংশগ্রহণ ছিল, কোন কোন জায়গায় শিক্ষার্থী ছিল আর শিক্ষার্থীদের পেছনে কারা ছিল সেটা আগে নিরূপণ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীর সংখ্যা ধার্য করার জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে এবং তার আগেই আমরা একটা অ্যাসেসমেন্ট করছি। আমরা দেখছি কিছুটা আছে তথ্য, কিছুটা অপতথ্য, কিছুটা গুজব। এই তথ্যের বিভ্রাট- সেটাকে ব্যবহার করে জনমনে সার্বক্ষণিক একটা আবেগ উত্তেজনা বা সেটাকে ব্যবহার করে নাশকতামূলক কাজগুলোর ক্ষেত্রে যে জাস্টিফিকেশন বুঝেশুনে কিন্তু করা হচ্ছিল...সুতরাং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার পরেই কঠিনভাবে নিরূপণ করা সম্ভব হবে যে কারা কারা শিক্ষার্থী ছিলেন, আর কোন কোন প্রতিষ্ঠানের ছিলেন। সেটি কিন্তু এই মুহূর্তে নিরূপণ করা খুবই কঠিন।

আইনমন্ত্রী বলেন, এই ব্যাপারে বিচারবিভাগীয় তদন্ত চলছে। সেটা শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমরা কোনো কথা বলবো না। তবে হতাহতের ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

একই প্রসঙ্গে তথ্যপ্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ এ. আরাফাত বলেন, শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ মুভমেন্টের ভেতরে আক্রমণকারী সন্ত্রাসীরা ঢুকেছে। জঙ্গি-জামায়াত শিবির ঢুকে তারা আক্রমণ করেছে। সরকার এবং সরকারের প্রতিষ্ঠানগুলো ছিল আক্রান্ত। বিএনপি-জামায়াত এবং শিবিরের সন্ত্রাসীরা ঢুকে আক্রমণ করেছে। বিটিভি, সেতুভবন, ডেটা সেন্টার, টোলপ্লাজা আক্রান্ত ছিল। তারা পুলিশকে আক্রমণ করেছে। আক্রান্ত যখন আপনি হবেন তখন আত্মরক্ষার্থে ফাইট ব্যাক করতে হয়। যখন আমরা ফাইট ব্যাক করেছি তখন, সংঘর্ষ তৈরি হয়েছে। সেই সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। আমরা বলতে চাই, যে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে তার জন্য আক্রমণকারীরা দায়ী। প্রতিটি হতাহতের ঘটনার জন্য আমরা নিন্দা জানাই, দুঃখপ্রকাশ করি এবং সে যেই হোক বিচার করে প্রত্যেককে সাজার আওতায় আনা হবে।  

এদিকে, ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় সংঘর্ষে ১৯৭ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে  মঙ্গলবার (২৩ জুলাই) পর্যন্ত। সর্বশেষ মঙ্গলবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ছাত্র হৃদয় চন্দ্র তরুয়া (২২)। তিনি গত বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামে গুলিবিদ্ধ হন। আরেক ব্যক্তি মারা যান সাভারে এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।

নতুন করে গতকাল খোঁজ পাওয়া যায় আরও আটটি মৃত্যুর। এর মধ্যে ঢাকার ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হাসপাতালে পাঁচজন এবং শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। সাভারে এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে খোঁজ পাওয়া গেছে নিহত আরেক ব্যক্তির।

মৃত্যুর এই হিসাব কিছু হাসপাতাল, মরদেহ নিয়ে আসা ব্যক্তি ও স্বজনদের সূত্রে পাওয়া। সব হাসপাতালের চিত্র পাওয়া যায়নি। এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ১৬ জুলাই (মঙ্গলবার) ৬, বৃহস্পতিবার ৪১, শুক্রবার ৮৪, শনিবার ৩৮, রোববার ২১, সোমবার ৫ এবং গতকাল মঙ্গলবার ২ জনের মৃত্যু হয়।