কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের ডাকা ‘কমপ্লিট শাটডাউনের’ মধ্যে মেট্রোরেলের কাজীপাড়া ও মিরপুর-১০ স্টেশন ভাঙচুর চালায় দুর্বৃত্তরা। শুক্রবার (১৯ জুলাই) এসব স্টেশনে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরাগুলোও ভাঙচুর করা হয়েছে। তবে ভেঙে ফেলার আগমুহূর্ত পর্যন্ত ক্যামেরাগুলোয় হামলাকারীদের ভিডিও-ছবি ধারণ হয়েছে। সেসব ছবি-ভিডিও দেখেই হামলাকারীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হবে বলে জানিয়েছে মেট্রোরেল সূত্র।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মেট্রোরেল কর্মকর্তা বলেন, ‘মেট্রোরেলের মিরপুর-১০ ও কাজীপাড়া স্টেশনে শুক্রবার হামলা করে দুর্বৃত্তরা। এতে মিরপুর-১০ স্টেশনের শতভাগ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কাজীপাড়া স্টেশনের ৬০ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’
মেট্রোরেল প্রকল্পে যুক্ত এক প্রকৌশলী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘মেট্রোরেলের এই দুই স্টেশনে প্রায় ১০০টির মতো সিসিটিভি ক্যামেরা ছিল। এসব ক্যামেরা জাপানি প্রযুক্তিতে তৈরি। ক্যামেরাগুলোর মাধ্যমে ব্যক্তির চেহারা আলাদা আলাদাভাবে চিহ্নিত করা যায়। নিরাপত্তার জন্যই এসব ক্যামেরায় উচ্চ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। তাই ওই দিন মেট্রোরেলের এসব স্টেশনে যারা হামলা করেছিল, তাদের চেহারা ক্যামেরায় ধরা পড়েছে। এগুলো প্রধান সিস্টেমে জমা আছে। চাইলেই এসব ছবি দেখে হামলাকারীদের খুঁজে বের করা যাবে।’
মেট্রোরেলের অপর এক কর্মকর্তাও নিরাপত্তার স্বার্থে নাম-পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ওই দিন হামলাকারীরা স্টেশনে ঢুকে সবার আগে সিসি ক্যামেরা ভেঙে ফেলে। এরপর স্টেশনের লিফট, টিকিট কাউন্টার, স্বয়ংক্রিয় টিকিট মেশিন, ল্যাপটপ, ইলেকট্রনিক ডিভাইসসহ সবকিছু ভাঙচুর করে। তবে সিসি ক্যামেরা ভেঙে ফেলার আগেই তাদের চেহারা এসব ক্যামেরা শনাক্ত করতে পেরেছে। সেসব ছবি এখন মেট্রো কর্তৃপক্ষের কাছে সংরক্ষিত।
এদিকে রোববার ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) আট সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। এই কমিটির প্রধান অতিরিক্ত সচিব মো. জাকারিয়া ও সদস্যসচিব করা হয়েছে ডিএমটিসিএলের ব্যবস্থাপক (অপারেশন) ইফতেখার হোসেনকে। কমিটি ১০ কর্মদিবসের মধ্যে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করে প্রতিবেদন দেবে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এই দুই স্টেশন আবার চালু হতে প্রায় এক বছর সময় লাগবে।
সার্বিক বিষয়ে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. হাদিউজ্জামান গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এখন প্রযুক্তি অনেক দূর এগিয়ে গেছে। সিসি ক্যামেরার সঙ্গেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যোগ করা হয়েছে। বর্তমান সময়ে এসব সিসি ক্যামেরা মানুষের গতিবিধি দেখে সে অপরাধী কি না, সেটাও বুঝতে পারে।’