কোটা আন্দোলন

গাইবান্ধায় তিন মামলায় গ্রেপ্তার ৮২

কোটা সংস্কার আন্দোলন নিয়ে চলমান পরিস্থিতিতে গাইবান্ধায় এ পর্যন্ত তিনটি মামলা দায়ের হয়েছে। এসব মামলায় গত ৭ দিনে ৮২ জন বিএনপি ও জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীকে আটক করা হয়েছে। এরমধ্যে শুক্রবার রাতে ১৪ জন, শনিবারে ১৯ জন, রোববার রাতে ৬ জন, সোমবার রাতে ১৫ জন, মঙ্গলবার রাতে ১১ জন ও বুধবারে ১৭ জনকে আটক করা হয়।   

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গত বুধবার (১৭ জুলাই) গাইবান্ধায় কোটা সংস্কারের দাবি এবং ছাত্র হত্যার প্রতিবাদে সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করে। এরপর রেলপথ ও সড়কপথ অবরোধ করে শিক্ষার্থীরা শহরের ১ নম্বর রেলগেটে অবস্থান নেয়। এই অবস্থান থেকে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনার অভিযোগ এনে গত বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এস আই) আব্দুল বাতেন বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় ৪৯ জনের নামসহ অজ্ঞাত ৩০০ থেকে ৪০০ জনকে আসামি করা হয়।

একই দিনে ওই বিক্ষোভ থেকে জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে হামলা ও মোটরসাইকেল আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক সাইফুল আলম ছাকা আরও একটি মামলা দায়ের করেন। এতে ৭৪ জনের নাম উল্লেখ করে  অজ্ঞাত আরও ১৫০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়।

গাইবান্ধা সদর থানার ওসি মাসুদ রানা এসব তথ্য নিশ্চিত করে জানান, এই দুই মামলায় গত ৭ দিনে ৮২ জন বিএনপি ও জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীকে আটক করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।  

অপরদিকে গত শুক্রবার বিকালে কোটা সংস্কার আন্দোলনের সমর্থনে জেলা বিএনপির মিছিলে পুলিশ বাধা দেয়। এতে পুলিশ ও বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এক পর্যায়ে বিএনপি নেতাকর্মীরা গাইবান্ধা রেল স্টেশন ভাংচুর করে। এ ঘটনায় গাইবান্ধা রেল পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এস আই) আব্দুর সবুর মিয়া বাদী হয়ে বোনারপাড়া রেলওয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
    
গাইবান্ধা রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির  ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এস আই) আব্দুল মতিন জানান, এ মামলায় অজ্ঞাত ১৫০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এখনো পর্যন্ত এই মামলায় কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।