'হেলিকপ্টার থেকে তিনটি গুলি করে ছেলেকে মারে ফেলেছে। আমার বেটাতো আর ফিরে আসবে না। এখন ওর বউ ছোয়ালপালের দেখবি কিডা? বাড়ি ছাড়া জাগা জমি বলতে কিচ্ছু নাই। কীভাবে চলবে ওর সংসার?' এভাবেই কাঁদতে কাঁদতে কথাগুলো বলছিলেন কোটা সংস্কার আন্দোলনের সহিংসতায় নিহত আলমগীর শেখের মা আলেয়া খাতুন।
কুষ্টিয়ার কুমারখালীর শিলাইদহ ইউনিয়নের কসবা গ্রামের বাসিন্দা আলমগীর শেখ। ২০ বছর আগে জীবিকার তাগিদে ঢাকায় পাড়ি জমান তিনি। রামপুরার হেলথকেয়ার ফার্মাসিটিক্যাল লিমিটেডের একটি গাড়ি চালাতেন। এতে যা বেতন পেতেন, তা দিয়ে তার ছেলে-মেয়ের পড়াশোনা, বাসাভাড়াসহ সংসার চলতো না। এ জন্য অবসরে অ্যাপস ভিত্তিক পাঠাও মোটরবাইক চালাতেন।
গত ১৯ জুলাই বিকালে কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে রামপুরায় বিটিভি ভবন এলাকায় গুলিতে নিহত হন আলমগীর। রোববার (২১ জুলাই) গ্রামের বাড়িতে দাফন করা হয়েছে হয়েছে তার লাশ।
নিহত আলমগীর শেখের স্ত্রী রিমা খাতুন বলেন, চাকরির টাকায় সংসার চলতো না। সেজন্য আলমগীর অবসরে পাঠাও অ্যাপে মোটরসাইকেল চালাতো। এখনতো সব শ্যাষ। শ্বশুর, শাশুড়ি, ছেলে, মেয়ে নিয়ে কী করে খাব? কোম্পানি ও সরকারের কাছে সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
স্বজনদের ভাষ্য, ১৯ জুলাই জুম্মার নামাজ শেষে স্ত্রীকে রান্নার কথা বলে রামপুরা এলাকায় নিজ কর্মস্থলের কার্যালয়ে গিয়েছিলেন আলমগীর। সেদিন পুলিশের পুলিশের ছোড়া গুলিতে আহত হয়ে সড়কে লুটিয়ে পড়েন অনেকে। তখন তিনি পানির বোতল নিয়ে আহতদের পানি পান করাতে যান। সে সময় হেলিকপ্টার থেকে ছোড়া তিনটি গুলি বিদ্ধ হয়ে তিনি আহত হন।
আলমগীরের ভাই আজাদ হক গণমাধ্যমকে জানান, ভাইকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও সেখানে ডাক্তার ছিল না। চিকিৎসা পায়নি। শরীর থেকে গুলিও বের করা হয়নি। গুলিসহ কবর দেয়া হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম মিকাইল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্থ স্বজনদের খোঁজখবর নেওয়াসহ তালিকা করা হচ্ছে। সরকারিভাবে কোনো নির্দেশনা আসলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।