রাজধানীর উত্তরা এলাকায় কোটা আন্দোলনের সংঘর্ষে নিহত হন নর্দান ইউনিভার্সিটির ইংরেজি বিভাগের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আসিফ হাসান। ১৮ জুলাই বেলা সাড়ে ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
ফেসবুকে আসিফের গুলিবিদ্ধ ছবি দেখার পর তার পরিবার বেলা ৩টার দিকে নিশ্চিত হয় যে আসিফ মারা গেছে। ছেলের মৃত্যুর খবর শুনে মা শিরিন বেগম বারবার মুর্ছা যান। বাবা শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েন।
আসিফের মৃত্যুর খবর শোনার পর থেকে সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার আস্কারপুর গ্রামে দলে দলে তার বাড়িতে আসছেন আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশীসহ নিকটজনেরা। আসিফের বাল্যবন্ধুরাও অনেকে এসেছেন। বন্ধুকে হারিয়ে তারা পাথরের মতো দাঁড়িয়ে আছেন।
তিন বোনের পর আসিফ হাসান ও রাকিব হাসান যমজ দুই ভাই। আসিফ আজ নেই, রাকিব সাতক্ষীরা সরকারি কলেজে অনার্স পড়ছেন। ভাইয়ের মৃত্যুতে তিনিও পাগলপ্রায়। আসিফের মৃত্যুর ১০ দিন পরও পরিবারটির আতঙ্ক ও শোক কাটেনি।
আসিফের মা শিরিন বেগম আহাজারি করে বলছিলেন, ‘আসিফ বাবা আর নেই। বাবা, তোরে নিষেধ করলাম। বললাম, ও আব্বা তুমি যাইও না যেন, আব্বা তাও গেছে। আমার আসিফ চলে গেছে।’ এইটুকু বলে আর কিছু বলতে পারলেন না তিনি। চুপ হয়ে গেলেন।
আসিফের স্কুলশিক্ষক আবুল হাসান বলেন, রাজধানীর নর্দান ইউনিভার্সিটিতে ইংরেজি বিভাগে দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিল আসিফ। সে খুব মেধাবী ছিল। তিনি বলেন, আসিফ খুব শান্ত প্রকৃতির ছেলে ছিল। শিক্ষাঙ্গন আজ এভাবে রক্তাক্ত। ছাত্রদের বুকে গুলি, আমরা এমন মৃত্যু দেখতে চাই না।
আসিফের নিকটাত্মীয়রা জানান, আসিফের জানাজা শুক্রবার জুমার নামাজের পর হবে এমন সিদ্ধান্ত হলেও চাপ ছিল দ্রুত দাফন করার। সে কারণে শুক্রবার ফজরের নামাজের পরপরই দাফন শেষ করা হয়।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার রাতে গ্রামের বাড়ি দেবহাটার আস্কারপুরে ফিরে আসতে চেয়েছিলেন আসিফ। কিন্তু বুকটা একেবারেই ঝাঁঝরা। মাথার ডান পাশে গুলির চিহ্ন। ছররা গুলিতে নিহত হয়ে মা-বাবার কাছে ফিরে এসেছে।