বিশ্ববিদ্যালয় সাধারণত শিক্ষার নিশ্চয়তা দেয় তবে গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (বশেমুরবিপ্রবি) দিচ্ছে শিক্ষার পাশাপাশি চিকিত্সার নিশ্চয়তাও। বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থী অসুস্থ হলে তার চিকিত্সায় সার্বিক সহায়তা করে বশেমুরবিপ্রবি প্রশাসন। ফেব্রুয়ারি ২০১৭ থেকে জুন ২০১৯ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রায় ৯০ জন শিক্ষার্থীকে অর্ধকোটি টাকা চিকিত্সা অনুদান প্রদান করেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. খোন্দকার নাসিরউদ্দিনের উদ্যোগে এ সহায়তা তহবিলটি মূলত যাত্রা শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সুবর্ণা মজুমদারের দুর্ঘটনার পরে। দরিদ্র পরিবারের সন্তান সুবর্ণা তখন কেবলই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছেন। স্বপ্ন দেখছিলেন স্বনির্ভর হওয়ার। কিন্তু হঠাত্ই একটি দুর্ঘটনায় জীবনমৃত্যুর সন্ধিক্ষণে চলে যান সুবর্ণা। ২০১৭-এর ১৯ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসের ধাক্কায় মারাত্মক আহত হন সমাজবিজ্ঞান বিভাগের এ শিক্ষার্থী। স্থানীয় চিকিত্সকরা জানিয়েছিলেন, তাদের পক্ষে সুবর্ণার চিকিত্সা করা সম্ভব নয় আবার ঢাকা নিয়ে উন্নত চিকিত্সা করার মতো আর্থিক অবস্থাও ছিল না সুবর্ণার পরিবারের। ঠিক এমন সময়ই ত্রাণকর্তা রূপে পাশে দাঁড়ান বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য। তত্ক্ষণিক সুবর্ণাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকার অ্যাপোলো হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন এবং ঘোষণা দেন সুবর্ণার চিকিত্সার সব খরচ বহন করবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। উপাচার্যের এমন সহায়তায় সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসেছেন সুবর্ণা। সুবর্ণার চিকিত্সায় এখন পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন প্রায় ১৮ লাখ টাকা চিকিত্সা অনুদান প্রদান করেছে। সুবর্ণার দুর্ঘটনার পরে বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য তাত্ক্ষণিক পাশে দাঁড়ালেও শিক্ষার্থী সহায়তার কোনো বিশেষ তহবিল না থাকায় এই বড়ো অঙ্কের টাকা সংগ্রহে বেশ সমস্যার মুখোমুখি হতে হয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে। এ সমস্যার সমাধান করতে গিয়েই মূলত যাত্রা শুরু করে ‘বশেমুরবিপ্রবি দুর্যোগ ও ছাত্র কল্যাণ তহবিল।’ আর বর্তমানে এ তহবিল থেকে উপকৃত হচ্ছে অসংখ্য শিক্ষার্থী।
এই তহবিল থেকে সর্বাধিক সহযোগিতাপ্রাপ্ত সুবর্ণা মজুমদার বলেন ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এ সহযোগিতার জন্য আজ আমি বেঁচে আছি, উপাচার্য স্যার আমাকে নতুন জীবন দান করেছেন, আমি তার নিকট চিরকৃতজ্ঞ।’ শিক্ষার্থী সহায়তা তহবিল সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মোহাম্মদ আশিকুজ্জামান ভুঁইয়া বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের উদ্যোগেই এই তহবিল যাত্রা শুরু করে। সুবর্ণার দুর্ঘটনার পর অনুভব করেন সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য কিছু করা প্রয়োজন আর তখন থেকেই এ তহবিল গঠনের কাজ শুরু হয়।’ এই তহবিলের অর্থের উত্স সম্পর্কে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের ভর্তির সময় শিক্ষার্থীদের দেওয়া ভর্তি ফির একটি অংশ এ তহবিলের জন্য নেওয়া হয় এবং এটিই তহবিলের অর্থ সংগ্রহের একমাত্র উত্স।