ফ্রান্সে প্যারিস অলিম্পিক গেমসে বাংলাদেশের লড়াই শুরু হয়েছে আগেই। আর্চারি দিয়ে বাংলাদেশ নেমেছিল প্যারিসের মাটিতে। সাগর ইসলাম মূল লড়াইয়ের অপেক্ষায় রয়েছেন ইতালির বিপক্ষে খেলবেন বলে। গতকাল শুটিংয়ে নেমে ছিলেন বাংলাদেশের শুটার রবিউল ইসলাম। হতাশ করেছেন রবিউল। ১০ মিটার এয়ার রাইফেল ইভেন্টে রবিউল ৪৯ শুটারের মধ্যে ৪৩তম হয়েছেন (মোটে স্কোর ৬২৪.২)।
শুটিংয়ের কর্মকর্তারা প্রায় ৩০০ কিলোমিটার সড়ক পাড়ি দিয়ে ভালো কোনো খবর দিতে পারেননি। পথে দুই বার গাড়ি দাঁড়িয়েছিল বিদ্যুৎ সংগ্রহ করার জন্য। ইলেকট্রিক গাড়ি, লম্বা পথে চলতে গেলে দম নিতে হয়। সেটাই করতে হয়েছিল। সাতুরু শুটিং কমপ্লেক্স, প্যারিস শহর থেকে দূরে, বলতে গেলে আরেক শহরে গড়ে তোলা হয়েছে ইউরোপের অন্যতম বৃহৎ শুটিং কমপ্লেক্স। খুব বেশি দিন হয়নি।
মূলত অলিম্পিক গেমসে কেন্দ্র করে সুবিশাল জমির ওপর নির্মিত আধুনিক শুটিং কমপ্লেক্স দেখে চোখ ছানাবড়া হয়ে যায়। কমপ্লেক্সের ভেতরে একাধিক শুটিং কমপ্লেক্স। শুটিংয়ের যত ইভেন্ট রয়েছে সবই এখানে আয়োজন করা সম্ভব। পরিবেশটাও চমৎকার। একেবারেই সুনসান নীরবতা। দূরের দ্রুতগতির গাড়ির চাকার শব্দ মাঝ পথেই দুর্বল হয়ে পড়ে, শুটিং কমপ্লেক্সের কাছেও আসে না। পিনপতন নীরব শুটিং কমপ্লেক্সে গভীর মনোযোগে অন্য শুটাররা টার্গেট পূরণ করে নিলেন। যারা পদক জয় করতে এসেছিলেন তারা আজ চূড়ান্ত পর্বের লড়াইয়ে পদক গলায় ফিরবেন। আর বাংলাদেশের শুটার এবং শুটিংয়ের কর্মকর্তারা মাথা নিচু করেই ফিরেছেন।
অলিম্পিক গেমস শুটিংয়ে পদক জয় করতে যায়নি ঠিক, তার মানে কি এই যে, লজ্জার পারফরম্যান্স করে ফিরবে। আগের অলিম্পিক গেমস শুটিংয়ে আব্দুল্লাহ হেল বাকির স্কোরের ধারেকাছে যেতে পারবে না। বাকি যদি ৫০ শুটারের মধ্যে ২৫ হয় এবার সেটাও ছাড়িয়ে যেতে পারবেন না রবিউল ইসলাম, ৪৯ শুটারের মধ্যে নিচ থেকে মাত্র ছয় জনের ওপরে রবিউল। রবিউল সান্ত্বনা পেতে পারেন, কারণ কানাডা, মেক্সিকো, ফ্রান্সের মতো দেশের শুটাররা তার পেছনে ছিলেন।
দেশের মানুষকে হতাশার খবরই দিয়েছে শুটিং। অলিম্পিক গেমসে বাছাইয়ে খেলার কোনো প্রস্তুতিই যে ছিল না রবিউলের, তার প্রমাণ করেছেন তিনি। বাংলাদেশের শুটার আব্দুল্লাহ হেল বাকির ধারেকাছেও যেতে পারেননি রবিউল। রিও অলিম্পিকে আব্দুল্লাহ হেল বাকি ৫০ জনের মধ্যে ২৫তম হয়েছিলেন। আর চার বছর পর রবিউল পেছনে ফেলতে পারেননি আব্দুল্লাহ হেল বাকিকে। ঢাকায় বসে বাকি যখন রবিউলের স্কোর শুনবেন, তখন তৃপ্তির হাসি দিতেই পারেন, এই বলে বাকি ওপরেই থাকলেন।
ফ্রান্সে বাংলাদেশের শুটিংয়ের করুণ চিত্র ফুটে উঠল। ওয়াইল্ডকার্ড নিয়ে গিয়ে ছিলেন রবিউল ইসলাম। তাই বলে অলিম্পিকে স্কোর স্পর্শ করতে পারবে না। কোনো পরিকল্পনা নেই। বছর জুড়ে কর্মকর্তা নিজে যতটা আলোচনায় থাকেন, শুটারদের পারফরম্যান্স তেমন আলোচনায় থাকে না। কিন্তু আজ এই দেশ তো কাল আরেক দেশে যাওয়াআসা নিয়ে ব্যস্ত থাকছেন হাতেগোনা শুটার এবং কর্মকর্তা। দিন শেষে দেশের শুটিং কী পাচ্ছে সেটা এখন বড় প্রশ্ন। বছর জুড়ে বিদেশে গিয়ে কী পদক আনছেন তা এবং সেটা সত্যিকার অর্থে দেশের শুটিংয়ে কতটা কাজে আসছে সেটাও একটা প্রশ্ন। এখনই পরিকল্পনা করা না গেলে চার বছর আবার অলিম্পিক গেমসে গিয়ে বাছাই থেকেই ফিরে আসতে হবে।