ইসরায়েল অধিকৃত গোলান মালভূমিতে একটি ফুটবল মাঠে রকেট হামলায় নিহতদের জানাজা রোববার (২৮ জুলাই) সম্পন্ন হয়েছে। এই হামলার জন্য ইরান সমর্থিত লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহকে সরাসরি দায়ী করেছে ইসরায়েল। সেইসঙ্গে এই হামলার জবাব দিতে লেবাননের একদম ভেতরে পাল্টা হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাল্টাপাল্টি হামলার জেরে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহ সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে পারে- এই আশঙ্কা ক্রমশ জোরালো হচ্ছে।
ইসরায়েলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শনিবার (২৭ জুলাই) গোলান মালভূমির মাজদাল শামস এলাকার একটি ফুটবল মাঠে হিজবুল্লাহ রকেট আঘাত হানলে অন্তত ১২ জন নিহত হয়। নিহতদের বেশিরভাগই ছিল শিশু। তবে এই হামলায় হিজবুল্লাহ তাদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ জোরালোভাবে অস্বীকার করেছে।
গত বছরের অক্টোবরে যখন ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়, তখন থেকেই ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যেও নিয়মিত গোলাগুলি বিনিময় চলছে।
ফিলিস্তিনিদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে হিজবুল্লাহ জানায়, গাজায় আগ্রাসন বন্ধ না করলে ইসরায়েলের ওপর হামলা চলতে থাকবে।
মাজদাল শামস এলাকার যে ফুটবল মাঠটিতে শনিবারের রকেট হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত হন, সেখানে যান বিবিসির কূটনৈতিক সংবাদদাতা পল অ্যাডামস। তিনি জানান, ফুটবল মাঠটির মাঝখানে রকেটের আঘাত বিশাল একটি গর্ত তৈরি হয়েছে।
তিনি বলেছেন, মাঠের চারদিকে যে বেড়া ছিল, সেগুলো বিস্ফোরণে উড়ে গেছে। ঘটনাস্থলে তখনও পড়ে ছিল ফুটবল খেলতে আসা বাচ্চাদের আগুনে ভস্মীভূত বাইকগুলো।
পল অ্যাডামস আরও জানান, হামলার ঠিক আগে সাইরেন বেজেছিল ঠিকই কিন্তু এত দ্রুত রকেটটি এসে আঘাত হানে যেকেউ মাঠ ছেড়ে পালানোরই সময় পায়নি।
‘দ্য টাইমস অব ইসরায়েল’ পত্রিকা জানাচ্ছে, শেষকৃত্যে অংশ নিতে ইসরায়েলের যে মন্ত্রীরা গোলান মালভূমিতে যান তাদের উপস্থিত জনতার তীব্র ক্ষোভ ও রোষের মুখে পড়তে হয়।
ইসরায়েলি মন্ত্রী নির বারকাত ও ইডিট সিলমানকে লক্ষ্য করে একজন ব্যক্তি বলে ওঠেন, আপনাদের কোনো লজ্জা আছে? একটা ছেলে ফুটবল খেলতে গিয়ে আর ফিরে এলো না, ভাবা যায়? সঙ্গে সঙ্গে শত শত মানুষ এই বক্তব্যে সায় দিয়ে চিৎকার করে ওঠেন।
গত বছরের ডিসেম্বরে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সতর্ক করেন যে হিজবুল্লাহ সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরু করলে বৈরুতকে গাজায় পরিণত করা হবে। তবে এর আগে হিজবুল্লাহ ইঙ্গিত দেয় যে তারা এই সংঘাত বাড়াতে চাননা।
গত জুনে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে এক সাক্ষাৎকারে হিজবিল্লাহর ডেপুটি নেতা শেখ নাঈম কাসেম বলেন, ইসরায়েল এই সংঘাতকে কোনোভাবে বৃদ্ধি করলে তা হবে ধ্বংসাত্মক।
বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, দুই পক্ষের মধ্যে সাম্প্রতিক হামলা এই সংঘাতকে আরও বাড়াতে পারে।