দেশব্যাপী ছাত্র হত্যা, নিপীড়ন ও হয়রানির প্রতিবাদ ও রাষ্ট্রীয় শোক পালনের ঘোষণা প্রত্যাখ্যান করে মুখে লাল কাপড় বেঁধে প্রতিবাদ র্যালি ও সংহতি সমাবেশ করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) নিপীড়ন বিরোধী শিক্ষকরা। আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক সংলগ্ন ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কে এ কর্মসূচি পালন করেন তারা।
এদিন সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ বুদ্ধিজীবী চত্বরের সামনে থেকে র্যালি নিয়ে ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে প্রধান ফটকের সামনে যান শিক্ষকরা। এরপর সেখানে সমাবেশ করেন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সালেহ হাসান নকীব বলেন, শিক্ষার্থীদের ন্যায়সঙ্গত আন্দোলনকে ভয়ংকর এক জায়গায় নিয়ে গেছে সরকার। আন্দোলনকে যেভাবে মোকাবিলা করার প্রয়োজন ছিল, সেভাবে করতে ব্যর্থ হয়েছে তারা। এখনও শিক্ষার্থীদের ওপর হয়রানি ও নির্যাতন চালানো হচ্ছে এবং ডিবি কার্যালয়ে বসিয়ে বিবৃতি দেওয়ানো সহ সব ধরনের নোংরা পন্থা অবলম্বন করেছে। আমরা এর অবসান চাই। সেইসঙ্গে নির্বিচারে যেসব হত্যা করা হয়েছে তার তদন্ত করে দোষীদের বিচার চাই। এছাড়াও দ্রুত ক্যাম্পাস খুলে দেওয়ার আহবান জানান তিনি।
অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন খান বলেন, শিক্ষার্থীরা কিছু যৌক্তিক দাবি নিয়ে রাজপথে নেমেছিল। আমরা দেখেছি, প্রথমে সরকার ছাত্রলীগকে ও পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে শিক্ষার্থীদের দমন করতে লেলিয়ে দিয়েছে। পর্যায়ক্রমে তাদের রাজপথে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। শিক্ষক, অভিভাবক ও একজন পিতা হিসেবে এই শোক সহ্য করার ক্ষমতা আমাদের নেই। তাই আমরা আজ বিবেকের তাড়নায় রাস্তায় নেমেছি।
ফাইন্যান্স বিভাগের অধ্যাপক আমজাদ হোসেন বলেন, আমরা আজ শিক্ষার্থীদের রক্তে রঞ্জিত। সারা দেশে শিক্ষার্থীদের এবং সাধারণ জনতার ওপর যেভাবে নির্বিচারে গুলি চালিয়েছে সরকার তা সবাই দেখেছে। এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ড শুধু শিক্ষকদের নয়, সারা বিশ্বের মানুষের বিবেককে নাড়া দিয়েছে। ফলে সরকার ঘোষিত শোককে প্রত্যাখ্যান করে লাল কাপড় মুখে বেঁধে আমরা প্রতিবাদ করছি।
এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের দেড় শতাধিক শিক্ষক একাত্মতা পোষণ করে এ সংহতি সমাবেশে অংশ নেন।