আল্পনায় ফুটিয়ে তোলেন কল্পনার রঙ

যে নারী রাধে সে চুলও বাঁধে— এ কথাটি দিয়ে নারীর বহুগুণে গুণান্বিত হবার বিষয়টি ফুটে ওঠে। তেমনই একজন বহুগুণে গুণান্বিত মানুষের সঙ্গে কথা হয়েছিল। নিজের পেশাগত কাজের বাইরেও তিনি নানা রকম হস্তশিল্প কাজে দিয়েছেন চমত্কার দক্ষতার প্রমাণ। তিনি এমি জান্নাত।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ থেকে অনার্স এবং ভিক্টিমোলজি অ্যান্ড রেস্টোরেটিভ জাস্টিস ডিপার্টমেন্ট থেকে মাস্টার্স করেন। পেশায় তিনি একজন সাংবাদিক। লেখালেখির হাতেখড়ি একদম ছোটোবেলা থেকেই। ছোটোবেলা থেকেই গল্প, কবিতা, ছড়া, উপন্যাস লেখালেখি করেন। নারীবাদী লেখালেখিতে তার অবাধ বিচরণ। সাংবাদিকতা তার নেশা ও পেশা হবার পরেও যেটুকু সময় অবসর পান তখন করেন হস্তশিল্পের কাজ।

নানা ধরনের গ্লাস পেইন্টিং, ওয়্যালম্যাট, শোপিচ, একুরিয়ামসহ বিভিন্ন জিনিস তিনি তৈরি করেন। তার হাতের কাজের জন্য তিনি ব্যবহার করেন ভাঙা চুড়ি, চুমকি, পুতি, রঙসহ সাধারণ কিছু জিনিসপত্র। কিন্তু এর মাধ্যমেই গড়ে তোলেন নান্দনিক সব শিল্প। প্রাতিষ্ঠানিক কোনো শিক্ষা এ বিষয়ে না থাকলেও দীক্ষা নিয়েছেন মায়ের কাছ থেকে। ব্যবসায়িকভাবে এ কাজ তিনি করেননি; তবে তার ইচ্ছা রয়েছে এ হস্তশিল্প নিয়ে বহুদূর এগিয়ে যাওয়ার। একবার চাকরি করাকালীন তার অফিসের সিইওকে একটি গ্লাস পেইন্টিং উপহার দিয়েছিলেন, তারপর সেই অফিসের প্রতিটি রুম তারই হাতের কাজে পরিপূর্ণ। লেখালেখিকে প্রধান গুরুত্ব দিয়ে ইচ্ছা রয়েছে হস্তশিল্পকে প্রাতিষ্ঠানিক একটি রূপ দেওয়ার। তবে তিনি চান, তার মাধ্যমে তার এ কাজ নারীদের মাঝে ছড়িয়ে যাক, তার কাছ থেকে শিক্ষা ও সহযোগিতা নিয়ে নারীরা উদ্যোক্তা হয়ে উঠুক। নিজের জন্য কোনো সময় চান না তিনি, মৃত্যুর আগ পর্যন্ত মানুষের সেবা করার দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে চালিয়ে যেতে চান কলমের প্রতিবাদ আর তার হস্তশিল্প হয়ে উঠবে বহু নারীর কর্মসংস্থানের উপসর্গ— এমনই আশা এমি জান্নাতের।