খুলনায় ‘মার্চ ফর জাস্টিস’ কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে শিক্ষার্থী, সাংবাদিক ও পুলিশসহ আহত হয়েছে অন্তত অর্ধশতাধিক। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ছাত্রীসহ প্রায় ২৫ শিক্ষার্থীকে আটক করেছে বলে জানা গেছে।
বুধবার (৩১ জুলাই) দুপুরে নগরীর সাতরাস্তা মোড়সহ বিভিন্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকা ‘মার্চ ফর জাস্টিস’ কর্মসূচি পালনের জন্য বুধবার সকাল ১১টার দিকে শিক্ষার্থীরা নগরীর সাতরাস্তা মোড়ে জড়ো হওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় পুলিশ বিভিন্ন অলিগলি থেকে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীকে আটক করে। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
দুপুর ১টার পর সাত রাস্তার মোড় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দখলে চলে যায়। এ সময় নগরীর ময়লাপোতা থেকে বিজিবি ও অতিরিক্ত পুলিশ এসে শিক্ষার্থীদের চারপাশ থেকে ঘিরে লাঠিচার্জ করে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। তখন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা-বাহিনীকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। দুই পক্ষের প্রায় আধাঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে সাত রাস্তার মোড় এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এ সময় পুলিশ মুহুর্মুহু রাবার বুলেট ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। তখন কেডিএ এভিনিউসহ ঐ এলাকার সড়ক ও অলিগলিতে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
সংঘর্ষ চলাকালে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন জায়গায় বাসের টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকে। পাঁচ দফায় বিকাল ৪টা পর্যন্ত এ সংঘর্ষ চলে। দুই পক্ষের সংঘর্ষকালে দৈনিক কালবেলার খুলনা প্রতিনিধি বসির হোসেন, পুলিশ কনস্টেবল মেহেদী হাসান ও শিক্ষার্থীসহ উভয় পক্ষের অর্ধশত আহত হয়েছেন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ফাতেমা তুজ আয়শা, আরশা সিদ্দিকা ও এবটি রেস্টুরেন্টের ম্যানেজার মাসুম বিল্লাহসহ বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তার হওয়া শিক্ষার্থী ফাতেমা তুজ আয়শা ও আরশা সিদ্দিকা বলেন, ‘পুলিশের সঙ্গে খারাপ আচরণ না করলেও আমাদের আটক করেছে। আমাদের ভাইদের হত্যার বিচার চাওয়া কি আমাদের অপরাধ?’
এ ব্যাপারে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, কত রাউন্ড টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করা হয়েছে তা এখনো বলা যাচ্ছে না। আটকের ব্যাপারেও পরে জানাতে পারব।