কোটা আন্দোলন ঘিরে সংঘাত : বিশ্বের জনপ্রিয় কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের প্রতিক্রিয়া

কোটা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন রূপ নেয় রক্তক্ষয়ী সংঘাতে। আন্দোলন ছড়িয়ে যাওয়ার পর দেশজুড়ে ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করে দেওয়া, পুলিশের পাশাপাশি মোতায়েন করা হয় সেনাবাহিনী এবং বিজিবি। আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরাও কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়েছে। কিছু বিধিনিষেধ তুলে নিয়ে কারফিউ শিথিল করা হলেও বন্ধ রাখা হয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। বন্ধ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বুধবার থেকে চলছে ধুঁকেধুঁকে। সংবাদমাধ্যমের পাশাপাশি এই পরিস্থিতির চুলচেঁড়া বিশ্লেষণ করেছেন দেশিবিদেশি কনটেন্ট ক্রিয়েটররা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের হ্যান্ডেল থেকে কোটা সংস্কার আন্দোলনের পক্ষে এবং আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার নিন্দা জানিয়ে কনটেন্ট ক্রিয়েটররা পোস্ট করছেন। শিক্ষার্থীদের দাবির সঙ্গে একাত্মতা জানিয়ে রাজপথে নামেন সালমান মুক্তাদির। নিজের ভেরিফায়েড পেইজে সালমান মুক্তাদির জানান, আমরা সবাই এখন বাংলাদেশে আটকা পড়ে আছি। অবিরাম ঠান্ডা মিথ্যা, এবং তাজা আত্মার মৃত্যুকে সম্পূর্ণরূপে উপেক্ষা করা, যেন এটি কেবল একটি আবর্জনার টুকরো। আপনি কিভাবে পুরো জাতিকে হুমকি দিচ্ছেন? আপনার হাতে রক্ত ​​দেখতে পাচ্ছেন না। আপনার কাছ থেকে কেউ আর কিছু আশা করে না। শুধু আপনার মুখ বন্ধ রাখুন। এবং আসুন আমরা এক সেকেন্ডের জন্য মানুষ অনুভব করি।

সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যতম জনপ্রিয় মুখ তাহসিনেশন। কোটা আন্দোলন ঘিরে সহিংসতা-মৃত্যুর ঘটনায় সরব আছেন তিনিও। তাহসিনেশন তার ফেসবুকে লিখেছেন, ২০০৯ এর পিলখানা হত্যাকাণ্ড, ২০১৩ এর ৫ মে মাদ্রাসার ছাত্রদের গণহত্যা, ২০১৮ এর সড়ক আন্দোলনের হত্যাকাণ্ড, আর ২০২৪ এর কোটা আন্দোলন হত্যাকাণ্ড, কিছুই কেউ ভুলেনি। শুধু অপেক্ষায় আছে বিচারের। বিচার হবে। দেশে ইন্টারনেট বন্ধ থাকা প্রসঙ্গে আরেক পোস্টে তিনি লিখেন, ‘তাহলে ডিজিটাল বাংলাদেশ বলতে এটাই বুঝিয়েছে। পুরো দেশকে ডিজিটালি ডিজেবল করে দেওয়া।’

tahsination

জার্মানিতে বসবাসরত ভারতীয় বংশোদ্ভূত কনটেন্ট ক্রিয়েটর আকাশ ব্যানার্জি বলেন, বাংলাদেশের রাস্তায় প্রতিবাদে নেমেছিল অনেক শিক্ষার্থী। সড়কে তাদের গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। স্পেশাল ফোর্স নিয়োজিত রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাদে হেলিকপ্টারে স্পেশাল ফোর্স নামানো হয়। তরুণদের কেউ কেউ এখন মৃত। আহত হাজার হাজার। একে বলা হচ্ছে বাংলাদেশের ইতিহাসে সব বড় হত্যাযজ্ঞ। তিনি আরও বলেন, প্রতি বছর ৪ লাখ গ্র্যাজুয়েট ৩ হাজার পদের জন্য প্রতিযোগিতায় নামে। এর মানে বাংলাদেশে বিসিএসে ৪৪ শতাংশ চাকরি হয় মেধার ভিত্তিতে।

কোটা আন্দোলনের বিপরীতে কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করে আকাশ ব্যানার্জি বলেন, ১৫ জুলাই হামলা শুরু হয়। এই পর্যায়ে শান্তি ফিরিয়ে আনতে অত্যন্ত স্পষ্ট পদক্ষেপ প্রয়োজন। অন্তত কমিটি গঠন করা বা পুলিশকে কড়া নির্দশ দেওয়া আন্দোলনকারীদের ওপর সহিংসতা না চালানোর জন্য।

সোশ্যাল মিডিয়ার সেনসেশন ভারতীয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠী বলেন, ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়া হয়। সামরিক কারফিউ ঘোষণা করা হয়। রাবার বুলেট, টিয়ার গ্যাস আর সাউন্ড গ্রেনেড ছোড়ে পুলিশ। জনসংখ্যা ও সামাজিক ন্যায়ের ভিত্তিতে কোটার সংস্কার চেয়েছেন শিক্ষার্থীরা। ২০১৮ সালেও কোটার বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছিলেন তারা। সে সময় নির্বাহী আদেশে কোটা ব্যবস্থা বাতিল হয়। আন্দোলনকারীদের ন্যায্য দাবি সহিংসতা দিয়ে দমানোর প্রয়োজন ছিল না বলে মনে করেন তিনি।

ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউবে জনপ্রিয় এইগন হেইয়ার। তিনি বলেন, আদেশ না মানলেই কোনো সতর্কতা ছাড়া যে কাউকে গুলি করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে তাদের। দেশের ১ কোটি ৮০ লাখ মানুষ চাকরি পেতে ব্যর্থ হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে মানবিকতার  সংকটের কথা তুলে ধরেন এইগন। তিনি বলেন, প্রায় ২০০ মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি। আমরা দূর থেকে কামনা করতে পারি আর যেন কোনো শিক্ষার্থীর মৃত্যু না হয়।