ব্র‍্যান্ডের শোরুম: ক্রেতার আস্থার স্থান

ধরা যাক আপনার এক জোড়া জুতা কেনা প্রয়োজন। ক্রেতা হিসেবে আপনার কাছে জুতা কেনার অনেকগুলো অপশন আছে। আপনি যেকোন মার্কেটের যেকোন জুতার দোকানে গিয়ে আপনার পছন্দের জুতা কিনতে পারেন। কিন্তু প্রথমেই আপনি ঢুকলেন আপনার বাড়ির কাছের যে Bata বা Apex এর শোরুম আছে, সেখানে। কেন বলুন তো? কারণ আপনি জানেন জুতা কেনার ক্ষেত্রে Bata বা Apex হচ্ছে ‘ব্র‍্যান্ড’।আর ব্র‍্যান্ডের শোরুমে আপনি যেই অভিজ্ঞতা পাবেন তা মার্কেটের অন্য যেকোন দোকানে শপিং করার চেয়ে অবশ্যই বেশি ভাল হবে। ক্রেতাকে এই নিশ্চয়তা দিতে পারছে বলেই Apex বা Bata আজকে ‘ব্র‍্যান্ড’ হতে পেরেছে।

যেকোন সফল পণ্যের ‘ব্র‍্যান্ড’ হয়ে উঠার পিছে কিছু কারণ থাকে। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে পণ্যের গুনগত মান বজায় রাখা, ক্রেতার সন্তুষ্টি ধরে রাখা, সর্বোত্তম সার্ভিস প্রদান করা, ক্রেতাকে অনুভব করানো যে এই পণ্যটি তাকে অন্যান্য পণ্যের থেকে কিছু ভিন্ন বা কিছু বেশি সুবিধা দিচ্ছে যাতে তিনি বার বার সেই একি ব্র‍্যান্ড কিনতে সাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।

ব্র‍্যান্ডের শোরুমে প্রবেশ করা মাত্রই ক্রেতা যেন একটি ভিন্নতা অনুভব করেন যা তার শপিং অভিজ্ঞতা কে স্বরনীয় করে রাখে, আর তাকে আবারো শোরুমে আসতে উদ্বুদ্ধ করে- এটি নিশ্চিত করা সব ব্র‍্যান্ডেরই লক্ষ্য থাকে। আর ব্র‍্যান্ডগুলো এজন্য শোরুমের আকর্ষনীয় সাজ সজ্জা, বিক্রয়কর্মীদের যথাযথ ট্রেনিং প্রদান ইত্যাদি খাতে যথেষ্ট বিনিয়োগ করে থাকে। ঢাকায়  MINISO  এর অনেকগুলো শোরুম আছে যেখানে গেলে দেখা যায় তাদের বিক্রয়কর্মীরা ক্রেতাকে হাসিমুখে ‌‘ওয়েল্কাম টু MINISO’ বলে স্বাগত জানায়।

MINISO এর প্রতিটি শোরুমে সব পণ্য মোটামুটি একই রকম ভাবে সাজানো থাকে, তাদের বিক্রয় কর্মীদের ব্যাবহার সব শাখায় একি রকম থাকে। কারন ভাল ব্র‍্যান্ডের লক্ষ্যই থাকে ক্রেতা তাদের যেকোন শোরুমেই যান না কেন তাকে যেন একই মানের সেবা প্রদান করা হয় সেটি নিশ্চিত করা। ঘড়ির কেনার জন্য TIME ZONE যেমন একটি ব্র‍্যানড শপ, দেশের বিভিন্ন স্থানে যাদের অনেকগুলো শোরুম আছে। TIME ZONE এর যেকোন শোরুমে যখন আপনি যাবেন, সেটির আলোকসজ্জা, ভেতরের ইন্টিরিয়র, বিক্রয়কর্মীদের ব্যবহার, সব কিছুই আপনাকে অনুভব করাবে যে আপনি কোন সাধারণ  ঘড়ির দোকানে যাননি, আপনি ব্র‍্যান্ডের দোকানে গিয়েছেন। আর এই পার্থক্যটা ক্রেতাকে ভালো করে বুঝিয়ে দেয়াটাই একটি ভালো ব্র‍্যান্ডের স্বার্থকতা।

শোরুমের পরিবেশ, বিক্রয়কর্মীদের বন্ধুত্বপূর্ণ ব্যাবহার, ক্রেতাকে সাহায্য করার মানসিকতা, ক্রেতার জন্য সেরা অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করা- এই সবই যখন ক্রেতার মনে একটি আস্থার জায়গা করে নিতে সক্ষম হয় তখনি একটি সাধারণ পণ্য একটি সফল ‘ব্র‍্যান্ড’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। আর সে কারণেই পুরো বিশ্বের নামীদামী ব্র‍্যান্ডগুলো তাদের শোরুমগুলোকে আকর্ষনীয় করে তুলতে এত পরিশ্রম আর এত অর্থ বিনিয়োগ করে থাকে যাতে তারা ক্রেতার মনে একটি বিশেষ জায়গা করে নিতে পারে।