কোটা আন্দোলন

‘ছেলেটা অনেক কষ্ট পেয়েছে, চোখে না দেখলে বোঝানো যাবে না’

‘দীর্ঘদিন আমার ছেলেটা আইসিইউতে ছিল। সেখানে অনেক কষ্ট পেয়েছে, চোখে না দেখলে বোঝানো যাবে না। যদি সেদিন গুলি লাগার পর সেখানেই মারা যেতো, তাহলে হয়তো এতো কষ্ট পেতো না। আমি চাই না আর কোনো মায়ের বুক খালি হোক। সেদিন সকালে আমার ছেলে তার অফিসে যাওয়ার উদ্দেশে বাসা থেকে রওনা দিয়েছিল। সেই যাওয়াই তার শেষ যাওয়া হয়ে গেল।’

কথাগুলো বলছিলেন কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে সহিংসতায় নিহত সেলিম তালুকদারের মা সেলিনা বেগম। দীর্ঘ ১৩ দিন হাসপাতালের আইসিইউতে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে গত বুধবার মারা যান সেলিম। ১৮ জুলাই অফিসে যাওয়ার সময় রাজধানীর বাড্ডায় সহিংসতার মধ্যে পড়ে যান। সেখানেই মাথায় আর বুকে গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন।

তার স্বজনরা জানান, রাজধানীর বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজির শিক্ষার্থী ছিলেন। পাশাপাশি মাল্টিফ্যাবস লিমিটেড নামের একটি বেসরকারি কোম্পানিতে ম্যানেজমেন্ট ট্রেইনার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। শুক্রবার সকাল ১০টায় নিজ বাড়ি ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার মল্লিকপুরে দ্বিতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। বৈরী আবহাওয়া সত্বেও জানাজায় তার ঢাকার সহপাঠীসহ এলাকার অসংখ্য মানুষ অংশ নেন। এর আগে বৃহস্পতিবার ঢাকার বাড্ডা এলাকায় তার প্রথম জানাজা হয়।

এদিকে একমাত্র ছেলে আর নেই; তা মেনে নিতে পারছেন না সেলিমের বাবা সুলতান তালুকদার। মাত্র বছরখানেক আগেই ছেলেকে বিয়ে দিয়েছিলেন।  

সেলিমের মা ইত্তেফাককে বলেন, ১৮ জুলাই বিকালে আমাকে ফোন দিয়ে জানানো হয়, বাড্ডা এলাকায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থী-পুলিশের সংঘর্ষে আমার ছেলের গায়ে গুলি লেগেছে। সে আহত হয়েছে। তাকে আমরা সেখান থেকে প্রথমে মুগদা হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করাই। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে অনেক হাসপাতালে ঘুরে অবশেষে ধানমন্ডি পপুলার হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করানো হয়। ওর মাথায় আর বুকে গুলি লেগেছিল।

সেলিমের জানাজায় এসেছিলেন তার সহপাঠী জয়নাল আবেদীন রানা। তিনি বলেন, আমরা প্রাথমিক থেকে একসঙ্গে লেখাপড়া করেছি, বড় হয়েছি। আমাদের বন্ধুদের মাঝে অত্যন্ত বিনয়ী ও ভদ্র হিসেবে পরিচিত ছিল। মেধাবী ছাত্র ছিল। বন্ধুত্বের টানে আজ তার গ্রামের বাড়ির জানাজায় ছুটে এসেছি।