অভিনেতা রওনক হাসান। নাটক, ওয়েব সিরিজ এবং চলচ্চিত্র সমানতালে কাজ করছেন। পাশাপাশি অভিনয় শিল্পী সংঘের সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। কিন্তু দেশের চলমান সংকটে সবার মতো তিনিও শুটিং থেকে দূরে রয়েছেন। কষছেন শোবিজ এবং সহকর্মীদের লাভ-ক্ষতির হিসেব।
ইন্ডাস্ট্রির সাম্প্রতিক নানা বিষয় নিয়ে কথা বললেন ইত্তেফাকের সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন এ এম রুবেল
চলমান সংকটে অনেকেই শুটিং বাতিল করেছিলেন। তারা নতুন করে শুটিংয়ে ফিরেছেন কি-না?
না, প্রায় সব শুটিং বাতিল হয়ে গেছে। সবাই বেকার ঘরে বসে আছেন। আমাদের নাটকের পেমেন্ট হয় ডেইলি কাজের ভিত্তিতে। শুটিং করলে টাকা পাই, না করলে পাই না।
এই পরিস্থিতি আপনাকে কতটা সমস্যার সম্মুখীন করছে?
আমার বেশ কয়েকটি নাটকের শুটিং ছিল। কিন্তু সবগুলোই বাতিল করতে হয়েছে। এমনকি দুটি ধারাবাহিকের শুটিংয়ের জন্য তো একাধিকবার তারিখ নির্ধারণ করেও পেছাতে হয়েছে।
এভাবে শুটিং বন্ধ থাকলে টিভি চ্যানেলগুলো নাটক সংকটে পড়বে কি-না?
প্রতিদিন এক থেকে দেড়শ' নাটকের শুটিং হতো। কিন্তু শুটিং বন্ধ হওয়ায় হাজার হাজার কোটি টাকা ক্ষতি হচ্ছে। টিভি চ্যানেলগুলোও সংকটে পড়বে। কারণ দীর্ঘ ধারাবাহিক নাটকগুলোর শুটিং না হলে তো একটা সময় প্রচার বন্ধ করে দিতে হবে। তখন হয়তো পুরনো পর্ব চালাতে হবে।
শিল্পীরা এতদিন বিচ্ছিন্নভাবে কোটা সংস্কার আন্দোলন এবং সহিংসতা নিয়ে কথা বলেছেন। তবে সম্প্রতি একসঙ্গে তারা রাজপথে নেমেছিলেন। বিষয়টি আপনি কীভাবে দেখছেন এবং এ নিয়ে আপনার কী মন্তব্য?
অভিনয় শিল্পী সংঘ থেকে আমাদের কখনোই কোটা সংস্কার নিয়ে দ্বিমত ছিল না। শুরু থেকেই আমরা বলেছি কোটা সংস্কার হওয়া প্রয়োজন। কিন্তু যে হতাহত হয়েছে তা অবর্ণনীয়। এটা মেনে নেওয়ার মতো না। আমরা সকল হত্যার যেমন বিচার দাবি করি তেমনি যারা এই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাষ্ট্রীয় সম্পদ ধ্বংস করছে, জ্বালাও-পোড়াও করছে সেই নাশকতাকারী বা দুর্বৃত্তকারীদের সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করে শাস্তি দেওয়া হোক, এটাও চাই। একটা সাধারণ আন্দোলন ঘিরে এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য না। শুরু থেকেই কিন্তু সরকারেরও কোটা নিয়ে কোনো সমস্যা ছিল না। তবু কেন যে এমনটা হলো সেটাও ভাবার বিষয়। আমি ব্যক্তিগতভাবে চাই, যত দ্রুত সম্ভব দেশটা ঠিক হোক।
একাধিক সিনেমার কাজ শেষ করেছেন। সিনেমাগুলো সঠিক সময়ে পর্দায় আসার সম্ভাবনা কতটুকু?
হ্যাঁ, আমার ২-৩টি সিনেমা মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে। কিন্তু দেশের যে পরিস্থিতি তাতে কবে নাগাদ মুক্তি পাবে তা বলা যাচ্ছে না।
কয়েক দিন বন্ধ থাকার সিনেপ্লেক্সগুলো খুলেছে। কিন্তু সেখানেও দর্শকখরা চলছে। এতে চলচ্চিত্র আরও পিছিয়ে পড়বে বলে মনে করছেন?
মানুষ কীভাবে সিনেমা হলে আসবে। সবার ভেতরই তো শঙ্কা কাজ করছে। যেকোনো সময় যেকোনো দিক থেকে আমরা হামলার সম্মুখীন হতে পারি। যতদিন অবস্থা স্বাভাবিক না হবে ততদিন দর্শক হলে আসবে না। তবে দর্শকরা আবার হলমুখী হবেন এই বিশ্বাস আমার আছে।