গ্রেপ্তার সহপাঠীদের মুক্তি ছাড়া পরীক্ষায় অংশ না নেওয়ার হুমকি

কোটা আন্দোলনে গিয়ে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া সহপাঠীদের মুক্তি চায় বিভিন্ন কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। তারা হুমকি দিয়েছে, পরীক্ষার্থীদের মুক্তি ছাড়া কেউ কোনও পরীক্ষায় অংশ নেবে না। ইতিমধ্যে তারা ফেসবুকে এ নিয়ে প্রচারণাও চালিয়েছে। শনিবার (২ আগস্ট) দেশের বিভিন্ন স্থানে এই দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশও করেছে।

আগামী ১০ আগস্ট পর্যন্ত সব পরীক্ষা স্থগিত করে ১১ আগস্ট থেকে নতুন করে এইচএসসি পরীক্ষার রুটিন প্রকাশ করেছে শিক্ষা বোর্ডগুলো। রুটিন প্রকাশের পর থেকেই শিক্ষার্থীরা তাদের দাবি জানিয়ে বলছেন, একজন পরীক্ষার্থীও যদি জেলে থাকে, তবে তারা পরীক্ষায় অংশ নেবে না। বিষয়টি আমলে নিয়ে শিক্ষার্থীদের জামিনে সহায়তার উদ্যোগ নিয়েছে শিক্ষা, স্বরাষ্ট্র ও আইন মন্ত্রণালয়।

গ্রেপ্তার হওয়া ৭৮ এইচএসসি পরীক্ষার্থীর শনিবার জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত। তাদের মধ্যে ৫৫জন ঢাকা বিভাগের, চট্টগ্রাম বিভাগের ১৪জন, খুলনা বিভাগের ৬জন এবং রংপুরে ৩জন পরীক্ষার্থীর জামিন মঞ্জুর হয়েছে। জামিনপ্রাপ্তদের মধ্যে ৩৫জন ওইদিন রাতেই কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছে।

কোটা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সহিংসতার ঘটনায় এসব শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করা হয়। এদিন পরীক্ষার্থীদের প্রবেশপত্র ও রেজিস্ট্রেশন কার্ড আদালতে দাখিল করে পরীক্ষার্থী বিবেচনায় জামিনের আবেদন করা হয়। ঢাকা মেট্রোপলিটন থানার মামলায় জুডিশিয়াল রশিদুল আলম ও ঢাকা জেলার মামলায় জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোস্তাফিজুর রহমান জামিন মঞ্জুর করেন। জামিন পাওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে মিরপুর মডেল থানার ছয়জন, শাহবাগ থানার পাঁচজন, উত্তরা পশ্চিম থানার পাঁচজন, পল্লবী ও যাত্রাবাড়ী থানার তিনজন রয়েছেন। এছাড়াও সাভার, আশুলিয়া, রূপনগর, ওয়ারী, লালবাগ, উত্তরা-পূর্ব, তুরাগ ও সবুজবাগ থানার দুইজন করে রয়েছেন। তাছাড়া চকবাজার, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ, ধানমন্ডি ও কদমতলী থানার একজন করে শিক্ষার্থী রয়েছে।

মন্ত্রণালয় বলছে, আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের বিশেষ উদ্যোগে শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও ঢাকার দুই আদালত থেকে ৪২জন এইচএসসি পরীক্ষার্থী জামিন পেয়েছেন। এছাড়া বৃহস্পতিবার পুলিশের হেফাজতে থাকা তিনজন এইচএসসি পরীক্ষার্থী জামিন পেয়েছে। অন্য কোনও এইচএসসি পরীক্ষার্থীর আটকের তথ্য থাকলে ইমেইলে (helphsc24@gmail.com) সকল তথ্য পাঠানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া শিক্ষার্থীদের আইনি সহায়তা দেবে শিক্ষামন্ত্রণালয়।

পরীক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ, কোটা সংস্কার আন্দোলনে যাওয়ার কারণে অনেক শিক্ষার্থী গ্রেপ্তার হয়েছে। পরীক্ষার্থীরা বলছে, জেলে বা থানায় বসে কীভাবে তারা পড়াশোনা করবে। পরীক্ষা খারাপ হলে তো সরকার দায় নেবে না। সবচেয়ে বড় কথা, সহপাঠীরা জেলে থাকলে তারাও পরীক্ষা দেবে না। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অংশ হিসেবে শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে ঢাকার উত্তরায় রাজউক উত্তরা মডেল কলেজের সামনে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে শিক্ষার্থীরা। তাদের সঙ্গে যোগ দেন কলেজের বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষক ও অভিভাবক। 

সমাবেশে শিক্ষার্থী সাজ্জাদ বলেন, আমি এইচএসসি পরীক্ষার্থী। কিন্তু আমি পড়ায় মনোযোগ দিতে পারছি না। কারণ, পুলিশ আমার সহপাঠী ভাইদের কোনও প্রকার অপরাধ ছাড়া ধরে নিয়ে যাচ্ছে। শিক্ষক ও অভিভাবকরাও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিচারের দাবিতে স্লোগান ধরেন। কোটাসংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে গ্রেপ্তার হওয়া সাতক্ষীরার দুই শিক্ষার্থীকে কারাগারে বসে এইচএসসি পরীক্ষা দেওয়ার অনুমতি দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড যশোর। শিক্ষার্থীরা বলছে, এভাবে কেউ জেলে থেকে পরীক্ষার অনুমতি পেলেও আমরা পরীক্ষায় অংশ নেব না।

এদিকে অভিভাবকরা অভিযোগ করেছেন, ১৮ জুলাই বিকালে সাইনবোর্ড এলাকা থেকে রাজধানীর ডেমরার মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজের দুই এইচএসসি পরীক্ষার্থী মাহাতাব জামাল মাহিন ও মোহাম্মদ সৃজন নামে দুজনকে আটক করে পুলিশ। পরে তাদের, বিগত জানুয়ারি মাসে ফতুল্লা মডেল থানার নাশকতা ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে করা পুরাতন দুটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। কোটাসংস্কার আন্দোলনের সময় আটক করলেও তাদের পুরোনো নাশকতা ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে পুলিশের করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ তাদের অভিভাবক ও সহপাঠীরা।