মঞ্চে আলো জ্বলবে কবে?

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় থেকেই পর্দা নেমেছে মঞ্চের। একের পর এক কয়েক ডজন নাটকের প্রদর্শনী বাতিল করেছে নাট্য সংগঠনগুলো। যদিও সদ্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করে দেশ ছাড়ার পর পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছে। তবে চারদিকে লুটপাট, ডাকাতি, হত্যাকাণ্ড, অগ্নিসংযোগ নিয়ে মানুষ এখনো নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

শোবিজ তারকারাও এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন। এমন অবস্থায় কবে আবার মঞ্চে আলো জ্বলবে তা পরিষ্কার করে বলতে পারছেন না নাট্য-নির্দেশক, অভিনেতা বা শিল্পকলার কেউ। গত ১৬ জুলাই বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির পরীক্ষণ থিয়েটার হলে ছিল দেশ নাটকের 'নিত্যপুরাণ' নাটকের প্রদর্শনী। আন্দোলন নিয়ে উদ্ভুত পরিস্থিতির কারণে তা বাতিল হয়ে যায়।

পুনরায় মঞ্চে আনার বিষয়ে এখনো শঙ্কায় আছেন নাটকটির নির্দেশক মাসুম রেজা। তিনি বলেন, ‘১৬ জুলাই আমাদের “নিত্যপুরাণ” এবং প্রাচ্যনাটের “অচলায়তন” নাটকের শো ছিল। কিন্তু পরিস্থিতি অনুকূলে না থাকায় সেগুলো স্থগিত করতে হয়। কিন্তু এখন তো পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে। এই সপ্তাহের ভেতর হয়তো রিহার্সেল শুরু করতে পারব। আপাতত শো করা হয়তো সম্ভব হবে না। তবে যাদের হল বরাদ্দ নেওয়া আছে তারা হয়তো দু-এক সপ্তাহের ভেতর শো শুরু করতে পারবে।’

এদিকে এরইমধ্যে দুটি নাটকের প্রদর্শনী স্থগিত করেছে নাট্য সংগঠন এথিক। তবে নতুন করে আবারও মঞ্চে সরব হওয়ার অপেক্ষায় আছেন তারা। এ প্রসঙ্গে নাট্য- নির্দেশক রেজানুর রহমান বলেন, ‘আমাদের দুটি নাটকের প্রদর্শনী স্থগিত করা হয়েছে। আমরা আবার মঞ্চের কার্যক্রম শুরু করতে চাই। কিন্তু এখন যে অবস্থা তাতে এখনই সেটা সম্ভব না। তবে আমাদের সন্তানরা যে পরিবর্তন নিয়ে এসেছে তাতে সংস্কৃতিকর্মীরা স্বাধীনভাবে কাজের চিন্তা করতেই পারি। নতুন প্রধান উপদেষ্টা যেটা বলেছেন, কোনো রেষারেষি না, আমরা সবাই একটা পরিবার। সবাই মিলে যেন একটা সুখী বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারি। আমিও এমনটাই চাই।’

এছাড়া টিভি নাটকের জনপ্রিয় অভিনেতা ফারুক আহমেদ প্রথমবার ঢাকা থিয়েটার থেকে ‘রঙমহলা’ নাটকের একটি নিদের্শনা দিচ্ছেন। কিন্তু মহড়া শেষ হলেও মঞ্চে আসেনি নাটকটি। কবে মঞ্চে আসবে ‘রঙমহলা’? জানতে চাইলে ফারুক বলেন, ‘এখনো আমি বিষয়টি নিয়ে ভাবছি না। আগে সব ঠিকঠাক হোক তখন দেখা যাবে।’

এর বাইরেও ম্যাড থিয়েটারের একটি নাটকের প্রদর্শনী স্থগিত করা হয়েছে। তবে চলতি মাসে সেটি মঞ্চে আনার কথা জানান সংগঠনটির প্রধান আসাদুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আমাদের “অ্যানা ফ্রাঙ্ক” নাটকটি ১৯ জুলাই মঞ্চে আসার কথা ছিল। কিন্তু ছাত্র আন্দোলনের কারণে সম্ভব হয়নি। আর এখন তো মানুষের নিরাপত্তা জরুরি। সবার মতো আমিও অপেক্ষায় আছি ফিরে আসার। ইচ্ছে আছে এই মাসের শেষে বা সামনের মাসে নাটকটি মঞ্চে আসবে।’

অন্যদিকে প্রাচ্যনাটসহ আরো একাধিক সংগঠন তাদের নাটক স্থগিত করেছেন। ১৬ এবং ২৬ জুলাই থাকা দুটি শো বাতিল করেছে প্রাচ্যনাট। বিষয়টি নিয়ে নাট্য অভিনেতা শাহেদ আলী বলেন, ‘সবকিছু স্বাভাবিক না হলে মঞ্চে কাজ শুরু করা কঠিন। কারণ মানুষ বিনোদন নেওয়ার মতো অবস্থায় নেই। মঞ্চে ফিরতে আর-একটু
সময় লাগবে।’

তবে নাট্য-নির্দেশক এবং অভিনেতারা মঞ্চে ফেরার অপেক্ষায় থাকলেও কবে খুলবে থিয়েটারের দরজা তা বলতে পারছেন না সংশ্লিষ্টরা। বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে শিল্পকলা একাডেমির পাবলিক রিলেশন অফিসার সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, 'আমরা এখনই বিষয়টি নিয়ে নিশ্চিত কিছু বলতে পারছি না। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আবার সব কার্যক্রম শুরু হবে।'