নির্মাতা অনন্য মামুন। আগামী সেপ্টেম্বরে মুক্তি প্রতীক্ষিত 'দরদ' সিনেমা নিয়ে রয়েছেন আলোচনায়। পাশাপাশি দেশের চলমান সংকট এবং ইন্ডাস্ট্রি প্রসঙ্গেও সরব ভূমিকা পালন করছেন তিনি। সার্বিক এই বিষয়গুলো নিয়ে কথা বললেন ইত্তেফাকের সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন এ এম রুবেল
মুক্তির ঘোষণা দিয়ে প্রচারণায় আসার কথা বলেছিলেন। সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরেও দাঁড়িয়েছেন। নির্ধারিত সময়ে 'দরদ' আদৌ মুক্তি পাবে কি-না?
আমরা এখনো সেপ্টেম্বরে মুক্তির চিন্তাই করছি। এখনো তারিখটা বলছি না, কারণ সার্বিক পরিস্থিতি তো এখনো ঠিক হয়নি।
‘দরদ’ নিয়ে দর্শকদের যেমন কৌতূহল রয়েছে তেমনি আপনিও আশার কথা শোনাচ্ছেন। আসলে এটা কি শাকিবের কারণে নাকি অন্য কোনো বিষয় রয়েছে?
দেখুন, মানুষ যা দেখতে চায় তার সব আছে 'দরদ' সিনেমায়। একটা নতুন গল্প, একজন নতুন শাবিবকে দেখতে পাবেন তারা। তাছাড়া 'দরদ' একমাত্র সিনেমা হতে যাচ্ছে, যা ২০টির বেশি দেশে মুক্তি পাবে। যে কারণে আমি মনে করি দর্শকরা দরদ দেখতে আসবেন।
চলতি বছর একাধিক হিরোর সিনেমা পর্দায় এলেও শাকিব ছাড়া সবাই ব্যর্থ। এই কারণেই কি আপনি শাকিব খানে ভরসা করেছেন?
এই জায়গাতে আমি দ্বিমত পোষণ করছি। শাকিব ছাড়া সিনেমা চলে না এটা ভুল। তা না হলে পরাণ, হাওয়া চলত না। এখানে একটু সংশোধন করে বলতে পারি, ভালো সিনেমা না হলে চলে না। আর উৎসবের বিষয়টি নিয়ে বলব, উৎসব তো মাত্র ৭দিন থাকে। কিন্তু একটি সিনেমা হিট হতে হলে দুই মাস লাগে। উৎসবের পর সিনেমা নিজের গতিতেই চলে।
সিনেপ্লেক্সগুলোতে আবার দর্শক খরা চলছে। এমনটা চলতে থাকলে চলচ্চিত্র আরো পিছিয়ে যাবে মনে করছেন না?
দর্শক হলবিমুখ হয়নি। আসলে পুরো দেশের পরিস্থিতি ভালো না। যে কারণে এমনটা হচ্ছে। বিনোদন ছাড়া তো মানুষ চলতে পারবে না। সব ঠিক হলে মানুষ সিনেমা দেখবেই।
বেশ কয়েকটি সিনেপ্লেক্সে ভাঙচুর চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এটা চলচ্চিত্রের জন্য অশনিসংকেত কি-না?
রাজশাহীসহ বিভিন্ন স্থানে সিনেমাহল ভাঙা হয়েছে। এটা চলচ্চিত্র ধ্বংসের একটা চিন্তা-ভাবনা। সিনেপ্লেক্সের জন্যই কিন্তু নতুন পরিবেশ এবং নতুন দর্শক তৈরি হয়েছে। আমরাও বড় বাজেটের সিনেমা বানানোর পরিকল্পনা করছি। কিন্তু এ ধরনের কর্মকাণ্ড তো আমাদের জন্য বড় আঘাত।
নতুন সরকার গঠনের পর অনেকেই আশায় বুক বাঁধছেন। মামুন কী স্বপ্ন দেখছে?
দেখুন, এই চলচ্চিত্রের জন্য বিন্তু আমি জেলও খেটেছি। আমি স্বপ্ন দেখি প্রতিবছর অন্তত ১০টি ১শ' কোটি টাকা বাজেটের সিনেমা হবে এবং বলিউডের মতো আমরাও যাতে বলতে পারি বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি।
এর আগে একাধিক সিনেমা সেন্সরে আটকে দেওয়া হয়েছে। নতুন সময়ে পরিবর্তনের ছোঁয়া সিনেমাতেও লাগবে মনে করছেন?
আমার মনে হয়, যাদের আন্দোলনে নতুন করে স্বাধীনতা পেলাম, তারা সিনেমার বিষয়টিও বুঝবে। সিনেমা আপনি কেটে দিতে পারেন। বলতে পারেন, এই ৩০ মিনিট বা ১ ঘণ্টা আপনি চালাতে পারেন। কিন্তু সিনেমা আটকে দিতে পারেন না। সিনেমা বাতিল করার ক্ষমতা কারো থাকা উচিত না।
অন্যান্য দেশে বিগ বাজেটের সিনেমা ওটিটিতে মুক্তি পাচ্ছে। ভালো ব্যবসাও করছে। আমাদের সিনেমা ওটিটি সহযোগী প্ল্যাটফর্ম হতে পেরেছে বলে মনে করছেন?
আমরাও কিন্তু ওটিটিতে ভালো অবস্থানে পৌঁছে গেছি। বেশ কয়েকটি প্ল্যাটফর্ম দাঁড়িয়ে গেছে। অনেক ভালো ভালো কাজ হচ্ছে। আমি নিজেও কাজ শুরু করেছি।