চলতি অর্থবছরের বাজেটে অপ্রদর্শিত অর্থ বা কালোটাকা সাদা করার যে সুযোগ দেওয়া হয়েছে, সেটি বাতিল করার সুপারিশ করেছেন অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন । এ বিষয়ে তিনি অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক এই মুখ্য অর্থনীতিবিদ উল্লেখ করেন, 'কালোটাকা সাদা করার যেই সুযোগটি এ অর্থবছরের বাজেটে দেওয়া আছে, সেটি বাতিল করা হোক। সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ আয়করের সঙ্গে ৫ থেকে ১০ শতাংশ জরিমানা যোগ করে সীমিত সময়ের (তিন থেকে ছয় মাস) জন্য এ সুযোগ পুনর্বহাল করার বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। অর্থ উপদেষ্টার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।'
এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে ড. হোসেন ইত্তেফাককে বলেন, ১৫ শতাংশ কর দিয়ে কালোটাকা সাদা করার সুযোগ শুধু সৎ করদাতাদের প্রতি অবিচার নয়, বরং এর মধ্য দিয়ে মানুষকে অসৎ হওয়ার জন্য উৎসাহিত করা হয়। তার মতে, সর্বোচ্চ করহারের সঙ্গে জরিমানা দিয়ে সীমিত সময়ের জন্য এ সুযোগ রাখা যেতে পারে৷
তিনি বলেন, বিশ্বের অনেক দেশে কর ফাঁকির জন্য জরিমানার সঙ্গে জেলও খাটতে হয়। এ ধরনের সুবিধা সৎ করদাতাদের প্রতি অবিচার বলে তিনি উল্লেখ করেন।
চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেটে নির্দিষ্ট হারে কর দিয়ে অপ্রদর্শিত অর্থ প্রদর্শন বা কালোটাকা সাদা করার সুযোগ দেওয়ার পর তা নিয়ে তীব্র সমালোচনা হয়। বাজেটে বলা হয়েছে, নগদ টাকা ১৫ শতাংশ কর দিয়ে বিনা প্রশ্নে বৈধ বা সাদা করা যাবে। একইভাবে জমি, ফ্লাট, আযাপার্টমেন্ট কিনেও এলাকাভেদে নির্দিষ্ট 'হারে কর দিয়ে টাকা সাদা করা যাবে। একেক এলাকার জন্য বর্গমিটার অনুসারে নির্দিষ্ট কর দিতে হবে।
ড. জাহিদ হোসেন বলেন, আবাসন খাত বা শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করলে ছাড় দেওয়া হবে--এমন নিয়ম রাখা যাবে না। নিয়ম হতে হবে সোজাসাপটা ৷ সেই সঙ্গে অবৈধভাবে উপার্জিত অর্থের ক্ষেত্রে এ সুযোগ দেওয়া যাবে না। যারা সং পথে আয় করে আয়কর নথিতে তা প্রদর্শন করেননি, শুধু তাদের এ সুযোগ দেওয়া উচিত, সেটিও নির্দিষ্ট করের ওপর জরিমানা দিয়ে ।
২০০৬-০৭ সময়ের তত্বাবধায়ক সরকারের আমলে কালোটাকা সাদা করার সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি দুর্নীতিবিরোধী টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছিল প্রকাশ করা হয়েছিল সন্দেহভাজন দুর্নীতিবাজদের তালিকা। তখন প্রায় ৩২ হাজার করদাতা ১১ হাজার ১০৭ কোটি টাকা সাদা করেন।
ড. জাহিদ হোসেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ের কথা উল্লেখ করে বলেন, এ সময়ে সবচেয়ে বেশি কালোটাকা সাদা হয়েছিল ৷ কারণ সে সময় একটি নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। এবারও তিন থেকে ছয় মাস সময় বেঁধে দেওয়ার সুপারিশ করে তিনি বলেন, প্রতি বছর এই ধরনের সুবিধা দিলে তার সুফল পাওয়া যাবে না। একটি নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দিয়ে ঘোষণা দিতে হবে। এ সময়ের পর যার কাছে কালোটাকা পাওয়া যাবে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে, তাহলে এর সুফল পাওয়া যাবে বলে তিনি মনে করেন।