আন্দোলনে আহতদের চিকিৎসায় পাশে দাঁড়াচ্ছে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান

বেসরকারি অনেক প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যে আহতদের চিকিৎসায় এগিয়ে এসেছে। যদিও সরকারের তরফ থেকে ঘোষণা করা হয়েছে, আহতদের চিকিৎসার পুরো ব্যয়ভার বহন করবে সরকার। কিন্তু চিকিৎসার বাইরেও আহতদের নানা ধরনের সহযোগিতার প্রয়োজন হচ্ছে। আহতদের সুস্থ্য হয়ে বাড়ি না ফেরা পর্যন্ত পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছে সুহানা অ্যান্ড আনিস আহমেদ ফাউন্ডেশন (এসএএএফ)।

সংস্কার আন্দোলকারী সমন্বয়কদের সঙ্গে মিলে আহতদের চিকিৎসায় জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালসহ দেশের বিভিন্ন হাসপাতালের সঙ্গে তারা কাজ করছে।

ফাউন্ডেশনটি রোববার (১৮ আগস্ট) বেশ কিছু চিকিৎসা সরঞ্জাম পঙ্গু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেছে। সেখানে ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা ছাড়াও কোটা সংস্কার আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক সমন্বয়ক নুসরাত তাবাসসুম এবং মো. ওয়াহিদ উজ জামান ও হাসপাতালের উর্ধ্বতনরা উপস্থিত ছিলেন।

ফাউন্ডেশনের মূখপাত্র আশা পাল বলেন, আমরা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষগুলোকে বলেছি, রোগীদের চিকিৎসার জন্য সরকারী সুবিধার বাইরে আরও কিছু লাগলে সেগুলো আমরা দিচ্ছি। যেমন ধরেন, কারও পা ভেঙ্গে গেছে বা কেটে ফেলতে হবে। তখন অপারেশনের সময় অনেক সরঞ্জাম লাগে। সেগুলো আমরা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও আন্দোলনের সমন্বয়কারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে কিনে দিচ্ছি। এখন পর্যন্ত আমরা ঢাকার তিনটি হাসপাতালে ২১০ জন ও ঢাকার বাইরে ১১টি জেলায় ১১০ জন রোগীকে সহযোগিতা করেছি।

সুহানা অ্যান্ড আনিস আহমেদ ফাউন্ডেশন সহ-প্রতিষ্ঠাতা এবং কো চেয়ারম্যান আনিস আহমেদ বলেন, আমরা শুধু আর্থিক সহযোগিতাই প্রদান করব না। কোটা সংস্কার আন্দোলনের মধ্যমে যারা আমাদের বাক স্বাধীনতা এবং শান্তিপূর্ণ জীবনের সুযোগ দিয়েছেন তাদের পুরোপুরি সুস্থ হওয়া পর্যন্ত সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করবো। এর জন্য আমাদের বাজেটের কোন সীমাবদ্ধতা নেই। যত বরাদ্দ লাগে সেটা করা হবে।      

কোটা সংস্কার আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক নুসরাত তাবাসসুম বলেন, আমার কাছে কয়েকটি বেসরকারী প্রতিষ্টান এসেছিল। এর মধ্যে সুহানা অ্যান্ড আনিস আহমেদ ফাউন্ডেশন অন্যতম। আমি তাদের কাজের সমন্বয় করছি। তারা যে তালিকা করছে, আমি সেগুলো দেখে তাদের কাজে সহযোগিতা করছি। আসলে হাসপাতালে যারা এখন চিকিৎসাধীন আছেন তাদের চিকিৎসায় আরও অনেক টাকার প্রয়োজন। ফলে সরকার কেবল যে ঘোষণাটি দিয়েছে চিকিৎসা ফ্রি করবে, সেটা দেখতে হবে তারা কতটা ফ্রি করে। এর বাইরে আহত প্রতিটি ব্যক্তিকে আমাদের সহযোগিতা করতে হবে। এজন্য এই ফান্ডেশনের মতো আরও অনেক প্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে আসতে হবে।