দেশাত্মবোধের অভাব ও বৈষম্যের শিকড়

একটি দেশ কখনো কোনো একজন ব্যক্তির হতে পারে না। দেশ কোনো পরিবারের ব্যক্তি সম্পদ নয়। একটি দেশ কখনো কোনো চক্রের অর্থ উপার্জনের হাতিয়ার হতে পারে না। একটি দেশ সেই দেশের জনগণের, বাংলাদেশ বাংলাদেশের জনগণের।

বৈষম্যের যাঁতাকলে বাংলাদেশ আজ জর্জরিত, কি পরিবার, কি সমাজ, কি রাষ্ট্র, বাংলাদেশের সবখানেই বৈষম্য। বৈষম্যের মূলেই হল দেশাত্মবোধের অভাব। এর পেছনে রয়েছে আমাদের দুর্নীতি, মাত্রাতিরিক্ত লোভ, জবাবদিহিতার অভাব, অন্যায়কে অন্যায় বলতে না পারা, বিচারহীনতাসহ নানা অনাচার। এসব অনাচারের প্রধান কারণ, বাংলাদেশ এখনও জনগণের হতে পারেনি। একটি দেশ জনগণের হলে সেই দেশে পরিবারতন্ত্র, রাজতন্ত্র, ... জমিদারি প্রথা চলতে পারে না। এই ধরনের তন্ত্রে জবাবদিহি তৈরি হয় না, বরং রাষ্ট্রের কাছে জনগণকেই নানা হয়রানিতে পড়তে হয়। রাষ্ট্রযন্ত্রের সঙ্গে জড়িতরা দেশের কর্মচারী। দেশ এবং দেশের জনগণের কল্যাণে তাদের নিয়জিত থাকার কথা। কিন্তু গত কয়েক দশকে এটাই প্রকট হয়ে উঠেছে যেন রাষ্ট্রের কর্মচারীরাই রাষ্ট্রের মালিক, আর দেশের জনগণ তাদের প্রজা। এর পেছনে কারণ একটিই, সেটা হল সর্বস্তরে দুর্নীতি, যার ফলশ্রুতিতে চলছে বৈষম্য। রাষ্ট্রীয়ভাবেই যেন লাগামহীন দুর্নীতির লালন চলছে। জনগণের কল্যাণের জন্যে যে রাষ্ট্র, সে রাষ্ট্রে দুর্নীতি থাকতে পারে না। রাষ্ট্রের কর্মচারীরা যদি জনগণের স্বার্থে হয়ে থাকে, তবে মহামান্য, মাননীয় এই শব্দগুলোর অহেতুক প্রয়োগ বন্ধ করতে হবে। রাষ্ট্রপতি থেকে রাষ্ট্রের যে কোন কর্মকর্তা এবং কর্মচারীর ক্ষেত্রে শুধুমাত্র জনাব শব্দটিই ব্যবহৃত হতে হবে।  

রাষ্ট্রে আজ ত্যাগী এবং সংযমী মানুষ চোখে পড়ে না বললেই চলে। বিশেষ করে পদবিধারী যারা। আজ নতুনভাবে আমাদের শপথ নিতে হবে, নিজের কাছে, সমাজের কাছে, এবং রাষ্ট্রের কাছে – আমরা আর দুর্নীতি করব না, দুর্নীতির প্রশ্রয় দেব না। নিজের এবং রাষ্ট্রের প্রয়োজনে আমাদেরকে ত্যাগী এবং সংযমী মানুষ হতে হবে। এর জন্য আমাদের সবাইকে, বিশেষ করে যারা চাকরিজীবী, তাদের শুধুমাত্র বেতনে চলতে শিখতে হবে। বেতনের বাইরে অন্য কোন উপার্জন থাকতে পারবে না।  

ত্যাগ এবং সংযমের নিদর্শন হতে হবে খোদ রাষ্ট্রযন্ত্রে থাকা মানুষগুলোকেই। রাষ্ট্রপতি থেকে মন্ত্রিপরিষদ এবং সংসদ সদস্যরা হবেন ত্যাগ ও সংযমের মূর্ত প্রতীক। তারা নামে বা বেনামে কোনভাবেই ব্যবসার সঙ্গে জড়িত হতে পারবেন না। আজ রাষ্ট্রের প্রয়োজনে তাদের অতিরিক্ত রকমের সুবিধায় লাগাম টেনে ধরতে হবে। তা না হলে তারা রাষ্ট্র এবং জনগণের কল্যাণের চেয়ে নিজের লাভক্ষতিতেই বেশি জড়িয়ে পড়েন। এর থেকে উত্তরণ না হলে দেশ থেকে দুর্নীতি দূর হবে না এবং রাষ্ট্রের প্রকৃত কল্যাণও সাধন হবে না।  

মন্ত্রী এবং সংসদ সদস্যরা চার সিটের সেডান গাড়ি পাবেন। অফিস কাজের বাইরে এবং নির্দিষ্ট কিছু ব্যাক্তির বাইরে সেই গাড়িতে অন্য কেউ উঠতে পারবেন না। এপিএস, পিএস,... এর বাইরে কোনো রাজনৈতিক কর্মী, পরিবারের সদস্য, এমনকি রাষ্ট্রের অন্য কোনো কর্তাব্যক্তিও সেই গাড়িতে চড়তে পারবেন না। এটা শপথের মাধ্যমে নিশ্চিত করতে হবে। এর সামান্য ব্যত্যায় হলেই যেন তার পদ চলে যেতে পারে। অফিসের বাইরে অন্য কোথাও যাতায়াতের জন্যে মন্ত্রী সংসদ সদস্যরা সাধারণ গনপরিবহন ব্যবহার করবেন, তবে এ ব্যাপারেও তাদেরকে বিশেষ কোনো সুবিধা দেওয়া হবে না। তাদের স্বামী, স্ত্রী এবং সন্তানরাও গণপরিবহন ব্যবহারে বাধ্য থাকবেন। নিজের অর্থ থাকলেও তারা রাষ্ট্রের স্বার্থে গণপরিবহনের বাইরে অন্য কোনো সুবিধা নিতে পারবেন না। 

মন্ত্রী, সংসদ সদস্য এবং তাদের পরিবার আর বিদেশে চিকিৎসা নিতে যেতে পারবেন না। দেশের অভ্যন্তরেই চিকিৎসা নিতে হবে। আর এই চিকিৎসা শুধুমাত্র সরকারি হাসপাতালেই সীমাবদ্ধ থাকতে হবে। শুধু তাই নয়, যিনি যে এলাকার সংসদ সদস্য, তাকে সেই এলাকার সরকারি হাসপাতালেই চিকিৎসা নিতে হবে। সরকারি হাসপাতালের কেবিন নিতে পারবেন না, কেবিন থাকবে বিশেষ ধরণের রোগীর জন্য। তাদের সন্তানরা দেশের বাইরে পড়তে যেতে পারবে না। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শুরু করে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে হবে। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে মেধাভিত্তিক ভর্তির সুযোগ না পেলে তাকে সরকারি কলেজে ভর্তি হতে হবে। 

একদিন আমাদের দেশে আবার নির্বাচন হবে। যারা নির্বাচন করবেন তারা যদি এই দেশের স্বার্থ এবং কল্যাণের জন্য নির্বাচিত হতে চান, তাহলে নির্বাচনের আগেই তাদের এসব নিয়ম মেনে চলার শপথ নিতে বাধ্য করতে হবে। এই দেশকে এগিয়ে নিতে হলে, এই দেশের প্রকৃত অবস্থা হাড়ে-মাংসে অনুধাবন করতে হবে। নির্বাচিত হয়েই এক লাফে রাষ্ট্রের লাগামহীন সুবিধায় ভেসে গিয়ে দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া যায় না। রাষ্ট্রের ভালো-মন্দের চেয়ে তখন ব্যক্তিস্বার্থই প্রধান হয়ে উঠে। তখন ক্ষমতায় থাকার জন্য সরকার যালিম হলেও তাকে সমর্থন দিতে হয়। এই অবস্থা আর চলতে দেওয়া যায় না, মেনে নেওয়াও যায় না।   

উপরোক্ত নিয়মগুলো সরকারি কর্মচারীদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে। প্রযোজ্য হবে বিশেষ প্রতিষ্ঠান যেমন, পিএসসি, ষ্টক এক্সচেঞ্জ, বিকেএসপি, ওয়াসা, ব্যাংকের এমডিসহ রাষ্ট্রের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জন্যও। আমাদের দেশের পদাধিকারীরা এবং তাদের সন্তানরা দেশের চিকিৎসা সুবিধা এবং শিক্ষা ব্যবস্থা এড়িয়ে চলেন বলেই দিনে দিনে দেশের শিক্ষা এবং চিকিৎসার সাধারণ সেবায় উন্নতি পরিলক্ষিত হচ্ছে না।

সুষ্ঠু রাষ্ট্রের জন্যে চাকরি, ব্যবসা, রাজনীতি এগুলোকে আলাদা রাখতে হবে, তা না হলে শুধু ব্যক্তিস্বার্থই মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রের নানান দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে হবে। এর মধ্যে প্রথম হল, এক বেতনের বাইরে যে কোন উপার্জনে শক্ত আঘাত হানতে হবে, তা না হলে বাজার চলে যায় দুর্নীতিবাজদের হাতে। সাধারণ মানুষ হয়ে যায় কোণঠাসা এবং অবহেলিত। 

সরকারি ডাক্তাররা প্রাইভেট প্র্যাকটিসের নামে ঘড়ির কাটার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে অর্থ উপার্জন করেন। এটাকে দুর্নীতি বলতে হবে। তারা যদি সাধারণ মানুষকে অতিরিক্ত সেবা দিতে চান, সরকার চাইলে নিজেই এর ব্যবস্থা করতে পারে। তবে সেটা কোনোভাবেই সরকারি হাসপাতাল বাদ দিয়ে প্রাইভেট ক্লিনিকে নয়। একজন সরকারি ডাক্তার, সাধারণ বা বিশেষজ্ঞ, তার ডিউটির পর সরকারি হাসপাতালেই জনস্বার্থে সেবা দিতে পারেন, এই অতিরিক্ত উপার্জনের শতকরা নব্বই ভাগ চলে যাবে সরকারের কাছে, বাকি দশ ভাগ পাবেন অতিরিক্ত সেবাদানকারী ডাক্তার। অর্থাৎ, লাগামহীন অর্থ উপার্জনে লাগাম টেনে ধরতে হবে।

শিক্ষকদের প্রাইভেট এবং কোচিং বন্ধ করতে হবে। প্রাইভেট আর কোচিংয়ের মাধ্যমে নানান অনাচার ছড়িয়ে পড়ছে ছাত্র-শিক্ষক সমাজে। যার মাঝে আছে প্রশ্নফাঁস এবং নকলের মত ভয়াবহ দুটো দুর্নীতি। স্কুল-কলেজের কোচিং বন্ধ করতে হবে, বিশেষ স্কুল কলেজে ভর্তি বাণিজ্য রুখে দিতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা পার্টটাইম অন্য কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াতে পারবেন না। প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শুধু নিজের ক্যাম্পাসেই নয়, নিজের শিক্ষক দিয়ে শিক্ষা পরিচালনা করবে। প্রাইভেট এবং পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় দুটো ক্ষেত্রেই উপাচার্য, উপাচার্য সহ, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মাত্রাতিরিক্ত সুবিধায় লাগাম টেনে ধরতে হবে। দেশের স্বার্থে তাদের হতে হবে ত্যাগ এবং সংযমের মূর্ত প্রতীক।

বিভিন্ন নিয়োগ নিয়ে বাংলাদেশে তৈরির হয়েছে হাজারটা দুষ্ট চক্র। স্কুল, কলেজ, ব্যাংক, বিসিএস এসব নিয়োগে বেশ খোলামেলাভাবেই প্রশ্নফাঁস, ঘুষসহ নানান দুর্নীতি সমাজে চাউর হয়ে গেছে। যেগুলো এতোটাই গা সওয়া হয়ে গেছে যে সমাজ এগুলো নিয়ে প্রশ্ন তুলতেও ভুলে গেছে। যারা সুবিধা পাচ্ছে, বৈধ কি অবৈধ, তারা এসব দুর্নীতি নিয়ে কিছু বলছেন না, যারা বিশেষ কোনো সুবিধা পাননি- তারাই এসব দুর্নীতি নিয়ে মাঝে মাঝে কিছু কথা বলেন। এসব দেখে একটি কথাই মনে হয়, সমাজে আজ যেন প্রাপ্তিই ন্যায়, আর অপ্রাপ্তিই অন্যায়! 

নিয়োগ দুর্নীতিতে পিছিয়ে নেই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। যেখানে শিক্ষক নিয়োগে বিভাগে বিভাগে তৈরি হয়ে আছে আত্মসম্মানহীন একেকটি চক্র। ছাত্র এবং শিক্ষক অপ-রাজনীতিকে পুঁজি করে নানা ধরণের দুর্নীতি ছড়িয়ে গেছে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে।

বৈষম্য আর দুর্নীতি শুধু অফিসেই সীমাবদ্ধ নয়। এগুলো ছড়িয়ে গেছে দেশের সবখানে। দেশের রাস্তাঘাট দেশের সবার। রাস্তা ব্যবহারের বৈষম্যও রোধ করতে হবে, কোনো গাড়ি বিচারপতির, কোনটা পুলিশের, কোনটা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের, এই ধরণের বৈষম্য আর চলতে দেওয়া ঠিক হবে না। মনে রাখতে হবে, জনগণের রাষ্ট্রে অহেতুক বিশেষ সুবিধা দেওয়ার নামই দুর্নীতি।

রাষ্ট্র যন্ত্রের কর্ণধার হয়ে নিজের নামে প্রতিষ্ঠান খোলা বড় একটি দুর্নীতি, এবং দেশের জন্যে বড় একটি লজ্জার কথা। এই ধরণের দুর্নীতিকে না বলতে হবে, এবং দেশে লজ্জামুক্ত করতে হবে, তা না হলে বৈষম্য দূর হবে না। 

জনসাধারণকে বলছি, মানুষ হিসেবে আমাদের জন্ম হয়েছে, আজ শপথ নিতে হবে, মানুষ হিসেবেই যেন আমাদের মৃত্যু হয়। সেজন্যে আমাদেরকেই বৈষম্যকে না বলতে শিখতে হবে। বৈষম্যকে না বলতে হলে দুর্নীতিকে না বলতে হবে। চাকরির সুপারিশ, ঘুষ, মিথ্যা এসব থেকে নিজেকে দূরে রাখুন। কালোবাজারি, কালো টিকেট, প্রশ্নফাঁস, নকল, প্রাইভেট, কোচিং, এসব থেকে নিজেকে এবং সন্তানকে মুক্ত রাখতে হবে। আমাদের সন্তানরা নিজের জীবন দিয়ে বৈষম্যের বিরুদ্ধে যে অবস্থান নিয়েছেন আমাদেরকেই এর ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে হবে এবং দেশ থেকে বৈষম্য দূর করতে সচেষ্ট হতে হবে। আমাদের হৃদয়ে ধারণ করতে হবে বৈষম্য মুক্ত বাংলাদেশ ২০২৪। এতগুলো তরতাজা প্রাণের আকুতি নিঃশব্দে মিলিয়ে যেতে পারে না।

নিজের জীবন ও সন্তানের সুন্দর ভবিষ্যৎ-এর জন্য স্বীকার করে নিতে হবে যে আমাদের সততার অভাব আছে, জাতিগতভাবে নীতি নৈতিকতাতেও আমরা যথেষ্ট পিছিয়ে আছি। দেশ যখন দুর্নীতির ভারে একদিকে হেরে পড়েছে, তখনও আমরা মাতালের মত নিজেদেরকে সৎ প্রমাণে ব্যতিব্যস্ত হয়ে আছি। এই ঘৃণ্য মিথ্যাচার থেকে বের হয়ে আসতে হবে। মনে রাখতে হবে মিথ্যা নিজেই একটি দুর্নীতি, এবং মিথ্যার মাধ্যমেই দুর্নীতি প্রসার লাভ করে! রাষ্ট্র সমাজ পরিবার সবাইকে এক সঙ্গে দুর্নীতির বিরুদ্ধে শপথ গ্রহণ করতে হবে, দুর্নীতিকে দুর্নীতি বলতে হবে, এবং দুর্নীতিকে বিচারের আওতায় আনতে হবে। তবেই না একটি সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরি হবে। একটা সুষ্ঠু পরিবেশ গড়ে তুলতে না পারলে কখনোই দুর্নীতিকে দূরে রাখা যাবে না। 

শেষ কথায় আসি। যে কথাগুলো বলা হয়েছে, এগুলো কি আমার একান্ত কথা, না কি আমাদের অনেকেরই কথা; এর উত্তর পাওয়া যাবে আমাদের নিজের হৃদয়ে কান পাতলেই। আমার একার কথা হলে এড়িয়ে গেলেই চলে। কিন্তু যদি অনেকের হৃদয়ের কথা হয়ে থাকে, তাহলে এড়িয়ে যায় উচিৎ হবে না; অনেকের কথার মানেই হল সময়ের কথা। আজকের সমস্যাকে এড়িয়ে গেলে, কাল সে সমস্যা নিজে তো মহীরুহ আকার ধারণ করবেই, সে সঙ্গে আরো অনেক নতুন সমস্যার সৃষ্টি করবে। আজকের সমস্যার জন্য কতজনকে প্রাণ দিতে হয়েছে, কাদেরকে প্রাণ দিতে হয়েছে, একটু ভেবে দেখতে পারেন। যারা প্রাণ দিয়েছেন তারা আমাদের সন্তান, সময়ের সাহসী সন্তান! তারা কীসের জন্যে প্রাণ দিয়েছেন, বৈষম্য নামক এক দুর্নীতির মূলে আঘাত করতে গিয়ে তারা জীবন দিয়েছেন। তারা এর কোনো সুফল চাননি, তারা এর সুফল পাওয়ার অনেক ঊর্ধ্বে চলে গেছেন। কিন্তু তারা চেয়েছিলেন, দেশের সাধারণ মানুষ যেন এর সুফল পেতে পারে। কিন্তু দুর্নীতি থাকলে দেশের সাধারণ মানুষ এই বিপ্লবের সুবিধা পাবেন না। সাধারণ মানুষ আবার নিজের মত করে ঘুষ, দুর্নীতি, প্রশ্নফাঁস, ... এগুলোতে আটকা পড়ে থাকবেন। দেশটা যদি আমাদের নিজের হয়, আমাদের জীবনও যদি আমাদেরই হয়, তাহলে সুন্দর ভাবে বাঁচার অধিকার আঁকড়ে ধরতে হবে।