আ য়ো জ ন

বিজয়ের আমেজে ফ্যাশন উদ্যোগ

দেশীয় ফ্যাশন হাউসগুলো পোশাক ডিজাইনে বাংলাদেশের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও গর্ব করার মতো বিষয়গুলো তুলে ধরে বরাবরই বর্তমান ও ভবিষ্যত্ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করার চেষ্টা করে। ডিজাইনাররা বিশেষ দিন ও উত্সবগুলোকে সর্বদাই রাঙিয়ে তোলেন সময়োপযোগী পোশাক ডিজাইনের মাধ্যমে। বিজয় দিবস আমাদের কাছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এই দিনটি আমাদের কাছে আনন্দ ও অর্জনের বার্তা দিয়ে যায়। আমরা এই দিনটিকে উদযাপন করি শহীদদের স্মরণ করে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান দিয়ে। বিজয় দিবস আমাদের জীবনে শুধু একটি বিশেষ দিন নয়, আমাদের প্রাণ, আমাদের নতুন জীবনের প্রতীক। তাই এই দিনটিকে ঘিরে আমাদের আয়োজন থাকে ব্যাপক। ফ্যাশন হাউসগুলো নতুন নতুন পোশাক ডিজাইন করে এই দিনটিকে অন্যরকম একটি মাত্রা দিয়ে থাকে। প্রতি বছরের মতো এবারের বিজয় দিবসকে কেন্দ্র করে ফ্যাশন হাউসগুলো বড় ধরনের আয়োজন করেছে। এই আয়োজনকে সবার সামনে তুলে ধরতে ফ্যাশন উদ্যোগ (Fashion Entrepreneurs Association of Bangladesh) লাল-সবুজের পোশাক নিয়ে একটি বিশেষ ফটোশুটের আয়োজন করেছে। এবারের আয়োজনে প্রতিটি ফ্যাশন হাউসের পোশাকে লাল-সবুজ রং প্রাধান্য পেয়েছে। পোশাক-ডিজাইনে তুলে ধরা হয়েছে বিজয় দিবসের চেতনা।

 

সাদাকালো

ভাস্কর সৈয়দ আব্দুল্লাহ খালিদের ভাস্কর্য ‘অপরাজেয় বাংলার’এবং মুক্তিযুদ্ধের উজ্জীবনী গান’ একটি ফুলকে বাঁচাবো বলে যুদ্ধ করি’ বিষয় দুইটির নান্দনিক সংমিশ্রণে সাদাকালো এবারের বিজয় দিবস সাজিয়েছে সাদা আর কালোতেই। স্ক্রিনপ্রিন্ট, ব্লকপ্রিন্টএর মাধ্যম ব্যবহার করে তৈরি হয়েছে শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ, মেয়েদের কুর্তা আর পাঞ্জাবি।

 

মুনমুন’স

মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে মুনমুন’স এবার নিয়ে এসেছে মেয়েদের কুর্তি, বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে। এ ছাড়া মুনমুন’স-এ অর্ডার দিয়েও ডিজাইনার কুর্তি, পাঞ্জাবি, শাড়ি করিয়ে নেওয়া যায়। তবে এ সুযোগ ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত রাখা হয়েছে।

 

নন্দন কুটির

বিজয়ের মাস ডিসেম্বরে অবধারিতভাবে ফিরে আসে লাল-সবুজ রঙ। ডিসেম্বর মাসে আমাদের প্রিয় এই বাংলাদেশে লাল-সবুজ রঙ জীবন্ত হয়ে ওঠে যেন! আর পোশাকে তার প্রতিফলন তীব্রভাবে দেখতে পাই আমরা। তাই তো বিজয় দিবসের চেতনার সঙ্গে মিল রেখে দেশীয় উপকরণ দিয়ে নন্দন কুটির লাল-সবুজ পোশাক তৈরি করে থাকে প্রতি বছর এই বিজয়ের মাসে। শুধু লাল-সবুজ রঙই নয়, পোশাকের নানা দেশীয় উপাদান ব্যাবহার করে বিজয়ের পোশাক তৈরি করে নন্দন কুটির। বরাবরের মতো এবারও নন্দন কুটিরের বিজয়ের পোশাকগুলো পরিবেশবান্ধব।

বিজয়ের লাল-সবুজ পোশাকের মধ্যে রয়েছে মেয়েদের সালোয়ার-কামিজ, ওড়না, মেয়েদের শাল ও গহনা, ছেলেদের পাঞ্জাবি, ছেলেদের শাল ইত্যাদি।

নিপুণ

প্রতি বছর ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশে বিশেষ দিন হিসেবে দেশের সর্বত্র পালন করা হয়। শুরু থেকে নিপুণ আজ পর্যন্ত দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে প্রতিটি ইভেন্টকে সামনে রেখে নতুন নতুন ডিজাইনের পোশাকে আউটলেটগুলো সমৃদ্ধ করে। এবারও বিজয় দিবসকে সামনে রেখে লাল ও সবুজ রঙকে প্রাধান্য দিয়ে তারা তৈরি করেছে ফতুয়া, শার্ট, পাঞ্জাবি, শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ, কুর্তিসহ বিভিন্ন পোশাক। মোটিফের ক্ষেত্রে বেছে নেওয়া হয়েছে ক্যালগ্রাফি ও ফ্লোরাল। মিডিয়া হিসেবে স্ক্রিন প্রিন্ট, ব্লক প্রিন্ট, হাতের কাজ ব্যবহার করা হয়েছে।

 

মিয়া বিবি

প্রকৃতির লাল-সবুজ রঙ নিয়ে এবারের বিজয়ের সবার জন্য মিয়া বিবির পক্ষ থেকে অ্যান্ডি, সুতি ও হাফ সিল্ক শাড়ির ওপর সুতার কাজ ও অ্যাপ্লিক এমব্রয়ডারি ও সুতার জুল কাজ করা হয়েছে। রয়েছে পাঞ্জাবি, ফতুয়া ও সালোয়ার-কামিজে বিজয়ের ছোঁয়া।