নাকের পলিপ অপারেশন করাতে গিয়ে রাজধানীর গ্রিন রোডের কমফোর্ট হাসপাতালে ভুল চিকিৎসার কারণে এক রোগীর মৃত্যু হয়েছে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে বলে জানান ঐ রোগীর স্বজনরা। মৃত্যু হওয়া ব্যক্তি হলেন—দেশের শীর্ষস্থানীয় ইলেকট্রনিকস পণ্যসামগ্রী উৎপাদনকারী শিল্পপ্রতিষ্ঠান মিনিস্টার-মাইওয়ান গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক মো. সামসুদ্দোহা শিমুল (৪৯)।
মৃতের ভাগনে আদনান সাদিক রিয়াদ অভিযোগ করে বলেন, রাজধানীর গ্রিন রোডে অবস্থিত কমফোর্ট হাসপাতালে নাকের সেফটি প্লাস্টিক সার্জারি করার সময় চিকিৎসক প্রফেসর ডা. জাহের আল-আমীনের ভুল চিকিৎসায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। মিনিস্টার-মাইওয়ান গ্রুপের সকল সদস্যসহ তার পরিবার সঠিক তদন্তের মাধ্যমে উল্লেখিত ডাক্তারসহ দোষী সকলকে আইনের আওতায় এনে অতিদ্রুত বিচার করার জন্য দাবি জানিয়েছেন।
আদনান সাদিক রিয়াদ বলেন, মঙ্গলবার বিকালে নাকের পলিপ অপারেশন করানোর জন্য তাকে কমফোর্ট হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। রাত ১১টায় তাকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রায় দেড় ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও তাকে বের করা না হলে আমরা খোঁজ নিতে যাই। তখন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আমাদের জানায়, রোগী অপারেশন টেবিলে দুবার স্ট্রোক করেছিলেন। পরে সেখান থেকে বুধবার ভোর সাড়ে ৫টায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
রিয়াদ অভিযোগ করেন, চিকিৎসকদের ভুলের কারণে সামসুদ্দোহা মারা গেছেন। তাকে মেরে ফেলা হয়েছে। আমরা দায়ীদের বিচার দাবি করছি। পরে তাদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে চিকিৎসক প্রফেসর ডা. জাহের আল-আমীনকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গ্রেফতার করছে। সামসুদ্দোহার বাড়ি চুয়াডাঙ্গা জেলায়। তিনি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ময়মনসিংহ থেকে পড়াশোনা শেষ করে কর্মজীবন শুরু করেন। তার সুদীর্ঘ কর্মজীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে তিনি দক্ষতার স্বাক্ষর রাখেন। এদিকে সামসুদ্দোহা শিমুলের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই মিনিস্টার-মাইওয়ান গ্রুপের সকল সদস্যসহ তার পরিবারের আত্মীয়স্বজনরা হাসপাতালের সামনে মানববন্ধন এবং তার মৃত্যুর জন্য দায়ীদের বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেন। তিনি ধানমন্ডি ৪ নম্বর রোডের ১৬ নম্বর বাসায় বসবাস করতেন। তিনি এক ছেলে এবং এক মেয়ের জনক। বর্তমানে তার স্ত্রী ও সন্তানরা আমেরিকায় অবস্থান করেন।