৫ দিনের নবজাতককে নিয়ে রাতভর পানিবন্দী মা, এরপর...

মা কল্পনা আক্তার ও বাবা আব্দুল জলিলের ঘর আলো করে গত ১৭ আগস্ট জন্ম নেয় কন্যা শিশু জান্নাত। জন্মের একদিন পর থেকে শুরু হয় বৃষ্টি। টানা বৃষ্টিতে পানি বেড়ে বন্যায় পরিণত হয়। এতে নিজ বাড়িতেই পানিবন্দী হয়ে পড়েন। এই নবজাতককে নিয়ে পানিবন্দী অবস্থাতেই ১ রাত কাটিয়ে দেন মা কল্পনা আক্তার। তবে পরদিন সকালে পানিবন্দী ওই পরিবারটিকে উদ্ধার করেন কুমিল্লার মনোহরগঞ্জে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উজালা রানী চাকমা।

নবজাতক ঐ শিশুটির মা কল্পনা আক্তার জানান, ‘শনিবার শিশুটি জন্মগ্রহন করে এর একদিন পর থেকে শুরু হয় বৃষ্টি। টানা বৃষ্টিতে পানি বেড়ে বন্যায় পরিণত হয়। এতে নিজ বাড়িতেই পানিবন্দী হয়ে পড়ি। ২১ আগস্ট বুধবার রাতে বসতঘরে পানি ঢুকে গেলে দিশেহারা হয়ে ২২ আগস্ট সকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে মোবাইলে বিষয়টি অবগত করি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ২০ মিনিটের মধ্যে নিজের গাড়ি নিয়ে এসে আমাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে থাকার জায়গা করে দেন।’

এদিকে সিলেটে পানিবন্দী হয়ে পড়ায় শিশুটির বাবা আব্দুল জলিল এলাকায় আসতে পারেননি। এমন সহযোগিতার জন্য তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট কৃতজ্ঞতা জানান।

এ বিষয়ে কথা হলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উজালা রানী চাকমা ইত্তেফাককে জানান, বৃহস্পতিবার সকালে নবজাতক শিশুর মা কল্পনা আক্তার মুঠোফোনে পানিবন্দী হয়ে পড়ার বিষয়টি অবগত করেন। তাৎক্ষনিক একটি টিম নিয়ে উপজেলার কাশিপুর বাজারে গিয়ে নৌকাযোগে তাদের উদ্ধার করে উপজেলায় নিয়ে আসি। পরে নবজাতক ঐ শিশু ও তার মাকে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডাক্তারের তত্বাবধানে রাখা হয়। পরিবারের অন্য সদস্যদের নিকটবর্তী আশ্রয়কেন্দ্রে রাখার কথা জানান তিনি।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী পানিবন্ধী হয়ে পড়েছে মনোহরগঞ্জ উপজেলার প্রায় ৩ লক্ষাধিক মানুষ। বন্যার পানিতে ডুবে গেছে বাসস্থান, তলিয়ে গেছে ফসলি জমি। অসহায় অধিকাংশ মানুষ আশ্রয় নিয়েছে উঁচু দালান ও আশ্রয় কেন্দ্রে। 

গত ২৪ ঘণ্টা উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের ৮টি ইউনিয়নে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এতে টেলি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার কথা জানিয়েছেন বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা। উপজেলার বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্র পরিদর্শন ও বন্যা কবলিত মানুষের মাঝে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়।