দেহে ৯২টি রাবার বুলেটের ক্ষত নিয়ে হাসপাতালের বেডে কাতরাচ্ছেন মাছরাঙ্গা টেলিভিশনের সাভার প্রতিনিধি সৈয়দ হাসিব। ডান চোখ ছররা গুলি ঢুকে আটকে আছে চোয়ালের হাড়ে। তিন সপ্তাহ ধরে ভর্তি আছেন রাজধানীর জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে। চিকিৎসা শেষে চোখে স্বাভাবিক দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাবেন কিনা, তাও অনিশ্চিত এখনো।
গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকারের পতনের দিন সকালে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাভারে রেডিও কলোনি এলাকায় গুলিবিদ্ধ হন হাসিব। বর্তমানে তিনি রাজধানীর জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিট ও হাসপাতালে ৬১৬ নম্বর কেবিনে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সেখানে অস্ত্রোপচারের পরেও তার ডান চোখে আদৌ আর দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাবেন কিনা তা নিয়ে নিশ্চিত নন চিকিৎসকরা। হাসিব বসবাস করেন সাভারের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় হাউজিং সোসাইটিতে। তার গ্রামের বাড়ি রাজবাড়ির পাংশা উপজেলায়।
সেদিনের ঘটনা সম্পর্কে সৈয়দ হাসিব জানান, পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে আমার চোখের সামনেই দেখলাম পুলিশের গুলিতে দুজন মারা গেলেন। এক পর্যায়ে আমার দিকে তেড়ে আসেন এক পুলিশ সদস্য। আমাকে লক্ষ্য করে গুলি করতে উদ্যত হলে আমি নিজের পরিচয়পত্র দেখিয়ে বলি, ‘ভাই আমি সাংবাদিক। মাছরাঙা টেলিভিশনে কাজ করি’। তখন এক পুলিশ কর্মকর্তা অশ্লীল গালি দিয়ে আমাকে উদ্দেশ্য করেই গুলি করতে বলেন। তখন কিছু বুঝে ওঠার আগেই গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ি। আমার ফোনটিও খোয়া যায়। তারপর নিজেকে হাসপাতালে আবিষ্কার করি।
সাংবাদিক হাসিবের বাবা অবসরপ্রাপ্ত প্রকৌশলী এসএম গোলাম মোত্তর্জা জানান, ‘আমার একটি মাত্র ছেলে। তার সারা দেহে ৯২টি বুলেটের ক্ষত। বাবা হিসেবে ছেলের যন্ত্রণা সহ্য করতে পারি না’। হাসিবের শারীরিক জটিলতা ক্রমেই অবনতির দিকে যাচ্ছে বলেও জানান তিনি।