অবিরাম বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানিতে শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। গত তিনদিন ধরে অবিরাম বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানির তোড়ে মহারশী নদীর দীঘিরপাড়ের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে ৩টি বাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।
ভাঙা অংশ দিয়ে পানি প্রবেশ করে কয়েকটি গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কৃষকদের বীজ তলা। ভেসে গেছে পুকুরের মাছ। সোমেশ্বরী নদীর পানি বিপদ সীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে কোচনীপাড়া-বাগের ভিটা রাস্তা বিধ্বস্ত হয়ে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
ঝিনাইগাতী সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোফাজ্জল হোসেন জানান, পাহাড়ি ঢলের পানিতে ছুড়িহারা, দিঘিরপাড়, চতল, রামনগর, কালিনগর, দরিকালিনগর,বালুরচর, দারিয়ারপাড়সহ কয়েকটি গ্রামের কয়েকশত মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কৃষকদের বীজ তলা। রাস্তাঘাট বিধ্বস্ত হওয়ার পাশাপাশি অর্ধ শতাধিক পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। মালিঝিকান্দা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম তোঁতা জানান, দেবোত্তরপাড়া, জুলগাঁও, হাসলিগাঁও, বাণিয়াপাড়া, রাঙামাটিসহ কয়েকটি গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
হাতিবান্ধা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল আমিন দোলা জানান, হাতিবান্ধা, লয়খা, কামার পাড়া,মাগলার মুখসহ কয়েকটি গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। কৃষকদের বীজ তলা পানির নিচে তলিয়ে গেছে।
ধানশাইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম জানান, সোমেশ্বরী নদীর পানিতে বাগের ভিটা, দাড়িয়ারপাড়, কান্দলী, কোচনীপাড়া,মাঝাপাড়াসহ কয়েকটি গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ঢলের পানির তোরে বাগের ভিটা কোচনীপাড়া রাস্তা বিধ্বস্ত হয়ে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
গৌরিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান মন্টু জানান, মহারশী নদীর পানির তোড়ে দিঘিরপাড়ে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে ৪টি গ্রামে পানি প্রবেশ করেছে। শতাধিক একর জমির বীজতলা পানির নিচে তলিয়ে গেছে।
বুধবার বিকালে উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুবেল মাহমুদ এবং সদর ইউনয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোফাজ্জল হোসেন চাঁন জানান, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান মহারশী নদীর দিঘিরপাড় বিধ্বস্ত বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ এলাকা পরিদর্শন করেন। নদী গর্ভে বিলীন হওয়া ৩ পরিবারকে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
উপজেলা কৃষি অফিসার হুমায়ুন কবির জানান, ৬শ ৭০ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরি করা হয়েছে। তন্মধ্যে ১৫ হেক্টর জমির বীজতলা পানির নিচে নিমজ্জিত হয়েছে।
আরও পড়ুন: রায়পুরা সরকারি কলেজে হঠাৎ মাসিক বেতন বৃদ্ধি, শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ
উপজেলা মৎস্য অফিসার মো. সিরাজুস সালেহীন জানান, পানিতে তলিয়ে কি পরিমাণ মাছের ক্ষতি সাধিত হয়েছে তা এখনো জানা যায়নি।
ইত্তেফাক/নূহু