বরগুনার পাথরঘাটায় সরকারি সড়কের ইট দিয়ে নিজের বাড়ি নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে কাঠালতলী ইউনিয়নের সদস্য সওগাতুল আলম ছগির সিকদারের বিরুদ্ধে।
জানা গেছে, ইউপি সদস্য ছগির এলাকার দুটি সরকারি সড়কের ইট তুলে নিয়ে খোয়া তৈরি করেছেন এবং বাকি ইট দিয়ে নিজ বাড়িতে পাকা ঘর নির্মাণ করছেন। বর্তমানে সড়ক দুটিতে চরম দুর্দশার মধ্য দিয়ে যাতায়াত করছেন স্থানীয় মানুষজন। ছগির স্থানীয় আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা হওয়ায় ভয়ে তখন কেউ কিছু বলতে পারেননি।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কাঠালতলী ইউনিয়নের কালিপুর গ্রামের অশ্রু মাস্টারের বাড়ি থেকে চৌকিদার বাড়ি এবং কামাড়হাট থেকে তালুকদার বাড়ি পর্যন্ত সড়কের ১২শ ফুট জুড়ে ইট বসানো আছে। ওই সড়কের আগের সব ইট তুলে ট্রাক ভর্তি করে নিজের বাড়িতে নিয়ে গেছেন ছগির সিকদার। তার বাড়িতে গিয়ে দেখা গেছে, সড়কের কিছু ইট দিয়ে তিনি খোয়া তৈরি করেছেন এবং অন্য ইটগুলো বাড়ি নির্মাণের কাজে লাগিয়েছেন।
কাঠালতলী ইউনিয়নের বাসিন্দা দফাদার আব্দুর রহমানসহ আরও কয়েকজন বলেছেন, এলাকাসীর দাবির প্রেক্ষিতে প্রায় ১০ বছর আগে লোকাল গভর্ন্যান্স সাপোর্ট প্রজেক্টের (এলজিএসপি) অর্থায়নে পাথরঘাটা উপজেলার কাঠালতলী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের অশ্রু মাস্টারের বাড়ি থেকে চৌকিদার বাড়ি এবং কামাড়হাট থেকে তালুকদার বাড়ি পর্যন্ত ইটের সলিং দিয়ে সড়ক নির্মাণ করা হয়। এই সড়কে নতুন করে ইট বসানোর কাজ এনে পুরনো ইটগুলো তুলে ট্রাকে করে তার বাড়িতে নিয়ে গেছেন। পরে সেই ইট দিয়েই ভবন নির্মাণ করেছেন ছগির সিকদার। এলাকার প্রভাবশালী হওয়ায় এবং আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক নেতাদের ছত্রছায়ায় থাকায় তার এ অপকর্মের প্রতিবাদ করতে কেউ সাহস করেনি। এখন রাস্তার বেহাল দশায় এলাকার মানুষের চলাচল ও জমির ফসল আনা-নেওয়াসহ সব কাজে চরমভাবে বিঘ্ন ঘটছে।
ওই এলাকার সাবেক ইউপি সদস্য দেলোয়ারা তানভীর লাকী এবং শফিকুল আলম প্রিন্স জানান, তারা ওই গ্রামের মানুষের দুর্ভোগ দেখে একটি প্রকল্পের মাধ্যমে রাস্তায় ইটের সলিং বসিয়ে ছিলেন। একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে সড়কের ইট নিয়ে নিজের বাড়ি তৈরি করা নজিরবিহীন ঘটনা। এই ইটগুলো অন্য কোনো স্থানে সড়কের কাজে লাগানো যেতো।
এ ব্যাপারে কথা বলতে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য ছগির সিকদারের মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। পরে তার বাড়িতে গেলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
কাঁঠালতলী ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. জসিম উদ্দিন জানান, প্রায় এক বছর আগে দুটি সড়কের ১২০০ ফুটের ইট ওই ইউপি সদস্য সাওগাতুল আলম ছগির শিকদারের জিম্মায় রাখা হয়েছে। এরপরে ইটগুলো দিয়ে তিনি কী করেছেন সে বিষয়টি আমার জানা নেই।
পাথরঘাটার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রোকনুজ্জামান খান জানান, সড়কের ইট নেওয়ার বিষয়টি আপনাদের মাধ্যমে জেনেছি। বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের বরগুনা জেলা উপ-পরিচালক মো. তানভীর ইত্তেফাককে জানান, সড়কের ইট নিয়ে ইউপি সদস্যের বাড়ি নির্মাণ করার কোনো সুযোগ নেই। এমন কোনো তথ্য এখনো আমাদের কাছে আসেনি। বিষয়টির খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।