বিসিবির সিইও সুজনের ভবিষ্যৎ কী? 

নাজমুল হাসান পাপনের পদত্যাগের পরে বিসিবির কয়েক জন পরিচালক ও কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। দীর্ঘদিন ধরে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে দায়িত্ব পালন করা নিজাম উদ্দিন চৌধুরী সুজনের বিপক্ষেও উঠেছে এমন কিছু অভিযোগ। সে বিষয়ে কথা বলেছেন বিসিবি সভাপতি ফারুক আহমেদ। অন্যান্য অনিয়মের মতো এটি নিয়েও তদন্ত করা হবে বলে তিনি জানিয়েছেন। সেখানে কোনো প্রমাণ পাওয়া গেলে জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে তাকে, এমন নিশ্চয়তা দিয়েছেন। 

তবে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করার কারণে অভিজ্ঞতার দিক থেকে সুজন এগিয়ে থাকবেন, এমনও মনে করেন ফারুকসহ আরও অনেকে। গেল বৃহস্পতিবার বিসিবির বোর্ড সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে সুজনের বিষয়ে প্রশ্ন ওঠে। বিগত সভাপতির আমলে যত অনিয়ম হয়েছে সেগুলো সিইওর স্বাক্ষরেই হয়েছে, এমনই প্রশ্ন ওঠে। জবাবে ফারুক আহমেদ বলেছেন, 'একজন মানুষ যদি দোষী না হয়, তাকে সরাসরি দোষারোপ করা ঠিক না। অফিসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে তাকে স্বাক্ষর করতে হয়। এটাই হয়ে থাকে। যদি তদন্ত করা হয়, তাহলেই জানা যাবে প্রকৃতপক্ষে কী ঘটেছে। তার আগে এটা বলা কঠিন।' 

ফারুক আরও বলেছেন, 'এই মুহূর্তে সবদিকে নজর দেওয়া সম্ভব না। ধাপে ধাপে যেতে হবে। একটা সিস্টেমকে চলমান রেখে এগোতে হবে। আমি নিশ্চিত, আমাদের সিইও অত্যন্ত কার্যকর। বিগত ১২ বছর ধরে এই দায়িত্বে থাকায় তিনি এখন খুবই অভিজ্ঞ, তিনি আমাদের সহায়তা করতে পারেন। কিন্তু তার বিষয়েও যদি কোনো কিছু পাওয়া যায়, সেটি নিয়ে তদন্তের আগে কোনো কিছু না বললে ভালো হয়, এটি আমি অনুরোধ করছি। আর তদন্ত থেকে কিছু বের হলে তাকেও জবাবদিহি করতে হবে। এটা আমি বলতে পারি।' 

বিসিবি সভাপতি ফারুক আহমেদ।

বিসিবির দুর্নীতির বিষয়ে ফারুক আহমেদ বলেছেন, 'এটি আমি অস্বীকার করতে পারব না। আমি নিশ্চিত, অন্যান্য বিভাগে যে দুর্নীতি হয়েছে তার কিছু তো এখানেও (বিসিবিতে) হয়েছে। এটা আমরা সবাই জানি। এটা যেন আমরা ঠিকভাবে দেখতে পারি, এজন্য একটা অডিট ফার্ম করার বিষয়ে কাজ হচ্ছে। তবে যারা আগে করেছে তারা না, আমরা নতুন করে শুরু করছি। আমার যতটুকু ক্ষমতা রয়েছে, সেটি দিয়ে আমি চেষ্টা করব।' 

সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে গতকাল সুজন বলেছেন, 'নিয়ম অনুসারে যেখানে আমার স্বাক্ষর করার ছিল সেখানে করেছি। এটা পুরোটাই অফিসিয়াল নিয়ম মেনে করেছি। এর বাইরে আমি কিছু করিনি।' সাবেক ক্রিকেটার রকিবুল হাসান মনে করেন, 'বিসিবিতে সিইও পেশাগত দায়িত্ব পালন করেন। এই জায়গায় যারা যত বেশি কাজ করবেন, তারা অভিজ্ঞ হবেন। অনেক বোর্ডে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন এমন সিইও রয়েছেন। কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে সেটি স্পষ্ট করে বলতে হবে, নাহলে সেটি মানহানিকর।' 

এ দিকে ফোন দিয়ে বিভাগীয় ক্রিকেটে খেলানোর সুপারিশ করেন সুজন, এমন অভিযোগও রয়েছে। বরিশাল বিভাগে আবু সায়েম চৌধুরী ও শচী চৌধুরীকে খেলানোর জন্য তিনি সুপারিশ করতেন, এমন অভিযোগের বিষয়ে সুজন গণমাধ্যমে বলেছিলেন, 'বিষয়টা আমি শুধু মিডিয়ার কাছেই শুনেছি এবং এমন কোনো কিছুর সঙ্গে আমি কখনো জড়িত ছিলাম না। যদি কেউ বলে থাকে, ঠিক বলেনি।' 

এই অভিযোগসহ যত অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে, সেগুলোর বিষয়ে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন ফারুক আহমেদ। তিনি বলেছেন, 'বোর্ডের অর্থনৈতিক কার্যক্রমে কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না, তা আমরা খুঁজে বের করব। যদি এমন কিছু ঘটে থাকে, তা অডিটের মাধ্যমে প্রকাশিত হবে। দুর্নীতি দমন কমিশন যদি অনিয়ম খুঁজে পায়, তাহলে তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। দেশের শীর্ষ চারটি অডিট ফার্মের মধ্য থেকে একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠান নিয়োগ করা হবে।' 

এর আগে একনাবিন চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্টস অডিটের কাজ করেছে। তবে এবার সেখান থেকে বের হয়ে আসার জন্যই নতুন অডিট ফার্ম নিয়োগে কাজ করছে বিসিবি। প্রসঙ্গত, ২০১২ সালে বিসিবির সিইও মনজুর আহমেদ (৫৫) হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। তারপর ২০১৪ সাল পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত সিইও এবং ২০১৪ সাল থেকে এখন পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ সিইও হিসেবে কাজ করছেন সুজন। ২০০৮ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত বিসিবির ভারপ্রাপ্ত সিইও হিসেবেও তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন। এর আগে তিনি বিসিবির মহাব্যবস্থাপকের দায়িত্বে ছিলেন।