শাবিপ্রবিতে দ্রুত উপাচার্য নিয়োগের দাবি

দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ হচ্ছে সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি)। শেখ হাসিনা সরকার পতনের পর এ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা প্রায় ৮৩ জন ব্যক্তি পদত্যাগ করেছেন। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনিক ও অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সকলের এখন প্রাণের দাবি অতি দ্রুত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়োগ করা। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বলছেন, ‘যদি দ্রুত বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নিয়োগ না হয় তাহলে শিক্ষার্থীরা সেশনজটসহ চতুর্মুখী সমস্যায় পড়বে।’ 

ইতোমধ্যে শিক্ষার্থীরা নানা সময় প্রশাসন নিয়োগের দাবি জানিয়ে আসছে। গত মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক জোট বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান অস্থিরতা নিয়ে মানববন্ধন করে। সেখানে তারা চারটি দাবি উত্থাপন করে। যেখানে একটি দাবি ছিল অনতিবিলম্বে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীবান্ধব ও নিরপেক্ষ প্রশাসন নিয়োগ দিতে হবে। গত বৃহস্পতিবার দ্রুত সময়ের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নিয়োগের দাবি জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে এই সংগঠনটি। এছাড়া গত শনিবার দ্রুত সময়ের মধ্যে নির্দলীয় প্রশাসন চেয়ে মানববন্ধন করেছ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

মানববন্ধনে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক ও রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী আসাদুল্লাহ আল গালিব বলেন, শাবিপ্রবির শিক্ষার্থীরা গত ৩মাসেরও অধিক সময় ক্লাস-পরীক্ষা থেকে বিচ্ছিন্ন। তাই সরকারের কাছে আহ্বান করবো বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্রুত প্রশাসন নিয়োগ দেন।’ 

উপাচার্য না থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত যমুনা স্টার সেভ গার্ড সার্ভিস লিমিটেডের শতাধিক নিরাপত্তাকর্মী তাদের বেতন উত্তোলন করতে পারছেন না। এতে পরিবার নিয়ে অনেক কষ্টে দিনাতিপাত করছেন নিরাপত্তাকর্মীরা। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্রুত উপাচার্য নিয়োগ চেয়ে ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী হাফিজুর রহমান বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক কাজ দীর্ঘদিন বন্ধ রয়েছে। এসব কাজে গতিশীলতা আনতে অতি দ্রুত উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন। নয়তো শিক্ষার্থীরা চতুর্মুখী বিপদে পড়বে।’

উপাচার্য না থাকায় নিরাপত্তাহীনতার কথা উল্লেখ করে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী হেদায়েত বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসন না থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে ও বাহিরে কোথাও শিক্ষার্থীরা নিরাপদ নয়।’

ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহসিন আজিজ বলেন, অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক কাজে স্থিতিশীলতা নিয়ে আসতে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসন জরুরি। তাছাড়া প্রশাসন ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। তাই অ্যাকাডেমিক, প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা বিবেচনায় দ্রুতই বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসন গঠন জরুরি বলে মনে করেন এই অধ্যাপক।