আয়নাঘর রহস্য

তিনটি রাষ্ট্রীয় খেতাবধারী হয়েও রেহাই মেলেনি আয়নাঘর থেকে!

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১০ম বিএমএ লং কোর্সের অফিসার লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসিনুর রহমান ডিউক। সাহসিকতার জন্য বীরপ্রতীক, বিপিএম, বাংলাদেশ রাইফেল—এ তিনটি রাষ্ট্রীয় খেতাব লাভ করেছেন। ২০১৮ সালের ৮ আগস্ট রাত সোয়া ১০টার দিকে দুটি মাইক্রোবাসে আনুমানিক ১৪-১৫ জন লোক এসে মিরপুর ডিওএইচএস এলাকা থেকে হাসিনুরকে তুলে নিয়ে যায়। বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, ২০১৮ সালে শিক্ষার্থীদের ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ আন্দোলনের সময় হাসিনুরের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে ভুয়া তথ্য ছড়ানোর বিষয়টি গোয়েন্দা সংস্থার নজরে ছিল।

সেনাবাহিনীতে ২৮ বছর অত্যন্ত সুনাম ও দক্ষতার সঙ্গে কাজ করার পর ২০১০ সালের ৯ জুলাই রাতে ময়মনসিংহ সেনানিবাসের এআরডিওসি অফিসের সামনে থেকে অস্ত্রের মুখে প্রথম বার অপহৃত হন এ সেনা কর্মকর্তা। ২০১২ সালে ২৮ বছর চাকরি শেষে তাকে বরখাস্ত করা হয়। তার আগে ২০০৯ সালে চট্টগ্রাম র‍্যাব-৭-এর অধিনায়ক ছিলেন তিনি।

প্রথম বার গ্রেফতার নিয়ে আইএসপিআরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসিনুর রহমানকে শৃঙ্খলাপরিপন্থি কাজে জড়িত থাকার অভিযোগে সেনা আইনের সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী, গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পরই ঘটনা তদন্তে গত ১১ জুলাই একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত আদালত গঠন করা হয়। আদালতে তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলো হচ্ছে—হরকাতুল জিহাদ নেতা মাওলানা ইয়াহিয়ার সঙ্গে গোপনে যোগাযোগ রক্ষা করা, হিযবুত তাহীরের তিন সদস্যের সঙ্গে দেখা করা, চট্টগ্রামে একজন গুলিবিদ্ধ ব্যক্তির ব্যাপারে টেলিফোনে বিদেশির সঙ্গে ফোনালাপ, পাহাড়ে শান্তি চুক্তিবিরোধী একটি গ্রুপের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা ও সেনা অভিযানের খবর ফাঁস করে দেওয়া।

এরপর রাজেন্দ্রপুরে গহিন অরণ্যের মধ্যে অন্ধকার ছোট এক রুমে দীর্ঘ ৪৩ দিন চোখ বাঁধা অবস্থায় থাকেন তিনি। হ্যান্ডকাফ লাগানো, বিভিন্ন বাহিনীর জিজ্ঞাসাবাদ, রাতভর অমানসিক নির্যাতন, এমনকি ভারতীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের জেরার মুখে ছিলেন তিনি। ফ্লোরে শুয়ে মৃত্যুর জন্য প্রতীক্ষা করতে বলা হতো। যে কোনোদিন ক্রসফায়ারে মারা হবে সে ভয় দেখানো হতো, এমনকি বলা হতো শেষ দোয়া করে নাও। এরপরে কোর্টমার্শাল করে সাজানো বিচারে ৪ বছর ৩ মাস কারাদণ্ড দিয়ে লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসিনুরকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। তার বিরুদ্ধে জঙ্গিদের সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগ মিথ্যা বলে দাবি করেছে তার পরিবার। হাসিন বলেছেন, বাংলাদেশকে দারুণভাবে ভালোবাসতেন তিনি। তার দাবি—নানা কারণে ভারতীয় গোয়েন্দাদের রোষানলে পড়েছিলেন তিনি। তাদের ইচ্ছানুযায়ী, শেখ হাসিনার সরকার তাকে অপহরণ করে গোপন স্থানে দীর্ঘদিন আটকে রেখে ভারতীয় গোয়েন্দাদের দোভাষীর সাহায্যে জেরা করতে দেয়।