চট্টগ্রামে সরকারি বিভিন্ন সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে জনবলসংকট প্রকট। অবসরে গেলেও শুন্য পদ পূরণ হচ্ছে না। বিগত কয়েক বছর যাবত কর্মচারী নিয়োগ বন্ধ রয়েছে। এতে প্রতিষ্ঠানগুলোতে সেবা প্রদান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ফলে আউটসোর্সিংয়ে লোক নিয়োগের মাধ্যমে জনবলের ঘাটতি পরিস্থিতি সামাল দিতে হচ্ছে। কর্মসংস্থানের সংকটের কারণে কম বেতনে অনেক মাস্টার্স পাশ করা নারী-পুরুষ তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির পদে কাজ করছেন। এসব লোক মাসিক ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকার বেশি বেতন পান না। দব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির মধ্যে কম মজুরিতে চলছে না তাদের সংসার।
আউটসোর্সিংয়ে জনবল নিয়োগে সরকারসংশ্লিষ্ট সংস্থার অনুমোদনও রয়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠান টেন্ডার প্রক্রিয়া ও সংস্থার গাইড লাইন অনুসারে লোক নিয়োগ দিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। আবার দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে অনেকেই কাজ করছেন। সেবামূলক এসব প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের অভিযোগ, সিবিএ তাদের কাজের বাইরেও প্রতিষ্ঠানের নানা বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে থাকে। যার কারণে সরকারিভাবে আউটসোর্সিংয়ে লোক নিয়োজিত করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন।
চমেক হাসপাতাল ২ হাজার ২০০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও ৫০০ শয্যার জনবল দিয়ে সেবা চলছে। চট্টগ্রামে অন্যান্য সরকারি হাসপাতালে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীসংকটে হাসপাতালের নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতাসহ সেবা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। অবসরে যাওয়ার পর শূন্য পদ আর পূরণ হচ্ছে না। বিশেষ করে প্রহরী, নিরাপত্তাকর্মী, ওয়ার্ড বয়, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, টিকিট কাউন্টারে কর্মীসহ বিভিন্ন পদে জনবলসংকটে রোগীদের সেবা পেতে হয়রানি পোহাতে হচ্ছে। চমেক হাসপাতাল সূত্র জানায়, বর্তমানে ১৯৩ জন লোক আউটসোর্সিংয়ে নিয়োগ করা হয়েছে। সরকারি নীতিমালা অনুসরণ করে টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে লোক নিয়োগ করা হয়েছে। আউটসোর্সিংয়ের এসব লোকের মাসিক বেতন সর্বোচ্চ ১৫/১৬ হাজারের মধ্যে। আনসার সদস্যদের মাধ্যমে ওয়ার্ডের নিরাপত্তার কাজ করানো হচ্ছে। এছাড়া চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে আউটসোর্সিং প্রক্রিয়ায় লোক নিয়োজিত করা হয়েছে। চমেক হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. রাজিব পালিত বলেন, ‘আমরা জনবলের তালিকা একাধিক বার মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি। কিন্তু অনুমোদন মিলছে না। তাই সেবা কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে আউটসোর্সিংয়ের লোক দিয়ে কাজ করাতে হচ্ছে।’
চট্টগ্রামে কর্ণফুলি গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানিতে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির স্থায়ী কর্মচারীর পদ রয়েছে ৬৪২টি। তার মধ্যে কর্মরত আছেন ৯৬ জন। এই প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে আউটসোর্সিংয়ে ৩১৫ জন ও দৈনিক ভিত্তিতে ১৫ জন লোক নিয়োজিত রয়েছে। কম্পিউটার অপারেটর, দারোয়ান, পিয়ন, গাড়িচালক, পরিচ্ছন্নতাকর্মীসহ নানা পদে আউটসোর্সিংয়ের জনবল নিয়োজিত রয়েছে। অফিসের অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ কম্পিউটার অপারেটরের মাধ্যমে করা হচ্ছে। এতে প্রতিষ্ঠানের গোপনীয়তা প্রকাশ পাওয়ার অভিযোগও উঠেছে। কারণ স্থায়ী কর্মচারী না হওয়ায় তাদের কাজে জবাবদিহির সুযোগ নেই।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের বিতরণ বিভাগগুলোতে আউটসোর্সিংয়ে লোক নিয়োজিত রয়েছে। বিদ্যুৎ বিল তৈরি, রিডিং সংগ্রহ ও বিল পৌঁছানোর কাজ এসব লোকের মাধ্যমে করা হচ্ছে।
পিডিবি বিতরণ দক্ষিণাঞ্চলের উপপরিচালক (প্রশাসন) আরিফুল হাসান বলেন, ‘আমরা জনবলের ঘাটতির তথ্য পাঠিয়েছি। ইতিমধ্যে নিম্নমান হিসাব সহকারী পদে ৩০০ জন নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।’
চট্টগ্রাম ওয়াসায় আউটসোর্সিংয়ে প্রচুর লোক নিয়োজিত আছে। ওয়াসায় কর্মকর্তা-কর্মচারী মিলিয়ে অনুমোদিত পদ রয়েছে ১১ হাজার ১৯টি। আউটসোর্সিং ও দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে প্রায় ৩০০ জন কর্মরত রয়েছে।