বন্যা সতর্কতার মধ্যে কাপ্তাই হ্রদের জলকপাট খুললো সাড়ে ৩ ফুট

সেপ্টেম্বরের শুরুতেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যার শঙ্কা বাড়িয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এর মধ্যেই উজানের পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টিপাতের কারণে ফের বৃদ্ধি পেয়েছে কাপ্তাই হ্রদের পানি। এতে আবারও বিপদসীমায় পৌঁছেছে হ্রদের পানির স্তর। পানি কমাতে কাপ্তাই বাঁধের ১৬টি জলকপাট সাড়ে ৩ ফুট করে খুলে দেওয়া হয়েছে।

এতে প্রতি সেকেন্ডে ৬৮ হাজার কিউসেক পানি কর্ণফুলীতে নির্গত হচ্ছে। এর আগে সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) জলকপাট দুই ফুট খোলা থাকলেও হ্রদে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় আজ সকাল থেকে সাড়ে তিন ফুট করে জলকপাট খুলে দেওয়া হয়। বর্তমানে কাপ্তাই হ্রদের পানির স্তর রয়েছে ১০৮.৭৪ এমএসএল (মিনস সি লেভেল)। হ্রদের সর্বোচ্চ পানি ধারণ ক্ষমতা ১০৯ এমএসএল।

কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক এটিএম আবদুজ্জাহের গণমাধ্যমকে বলেন, পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় সাড়ে তিন ফুট করে গেট খুলে দেওয়া হয়েছে। এতে প্রতি সেকেন্ডে পানি নিষ্কাশন হচ্ছে ৬৮ হাজার কিউসেক। পাশাপাশি বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৫টি ইউনিট চালু রেখে ২২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। এতে ছাড়া হচ্ছে প্রতি সেকেন্ডে ৩২ হাজার কিউসেক পানি।

এদিকে আবহাওয়া অফিসের মতে, চলতি মাসে ভারী বৃষ্টিপাত এবং উজান থেকে নেমে আসা পানির কারণে দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি আরও গুরুতর হতে পারে। বিশেষ করে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা এবং গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে এসব অঞ্চলে নতুন করে প্লাবনের সম্ভাবনা রয়েছে।

কাপ্তাই হ্রদের পানির স্তর আবারও বেড়ে যাওয়ায় গত দুই সপ্তাহ ধরে দুর্ভোগে রয়েছে হ্রদের নিম্নাঞ্চল। প্রায় ১৮ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। 

রাঙামাটির জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন খান জানান, জেলায় পানিবন্দী মানুষের জন্য ৯২ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য বরাদ্দ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বাঁধের পানি ছাড়া অব্যাহত রয়েছে। আশা করছি অল্প কিছু দিনের মধ্যে পানি কমে আসবে।