সাভারের আমিনবাজারে বাবা ও তার দুই বছরের শিশু সন্তানের খণ্ডিত লাশ উদ্ধার করেছে সাভার মডেল থানা পুলিশ। ঘটনার পর থেকেই নিহতের বাড়ির গরুর খামারের রাখাল জয় (৩০) পলাতক রয়েছে।
সোমবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সাভারের আমিনবাজার ইউনিয়নের বড়দেশী এলাকায় রূপালি সৈকত হাউজিংয়ের ভেতর থেকে তাদের অর্ধগলিত ও খন্ডিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহতরা হলেন, বাবা ফুয়াদ ইসলাম (৫৪) ও তার ছেলে আশিক (২)। ফুয়াদ ইসলাম তার ছেলে আশিককে নিয়ে আমিনবাজার ইউনিয়নের বড়দেশী এলাকার রুপালি সৈকত হাউজিংয়ে বসবাস করতো। তাদের গ্রামের বাড়ি ফরিদপুর বলে জানা যায়।
স্থানীয়রা জানায়, ফুয়াদের আমিনবাজার বড়দেশী এলাকায় রূপালি সৈকত হাউজিংয়ের ভেতরে একটি গরুর খামার ছিল। সেখানে জয় নামে একজন রাখালকে দিয়ে চারটি গরু ও তিনটি বাছুর পালন করতেন। সোমবার দুপুরে স্থানীয়রা ফুয়াদের অর্ধগলিত মরদেহ ও তার ছেলের খণ্ডিত লাশ পড়ে থাকতে দেখে সাভার মডেল থানা পুলিশকে বিষয়টি জানায়।
জানা যায়, নিহত ফুয়াদ ইসলামের প্রথম স্ত্রী গ্রামে থাকেন। এখানে দ্বিতীয় বিয়ে করেন তিনি। সেই স্ত্রীর একটি পুত্র সন্তান হলে ৩ থেকে ৪ মাসের মাথায় স্ত্রী তাদের ছেড়ে চলে যান। তখন থেকে ফুয়াদ শিশু সন্তানকে দেখাশোনার পাশাপাশি গরুর খামার করে জীবিকা নির্বাহ করতেন।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, গতকাল রোববার (১ সেপ্টেম্বর) ঐ রাখাল জয় ফুয়াদুল ইসলামের খামারের গরু বিক্রি করতে আসেন। কিন্তু এলাকাবাসী মালিক না থাকায় গরুগুলো বিক্রি করতে দেননি। স্থানীয়রা মালিকের উপস্থিতিতে গরু বিক্রি করতে বললে তিনি চলে যান। পরে গতকাল সোমবার খামারের ভেতর থেকে দুর্গন্ধ বের হলে স্থানীয়রা খামারের ভেতরে গিয়ে বাবা ও ছেলের লাশ দেখতে পেয়ে থানায় খবর দেন।
সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুর রাশিদ বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে নিহতদের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের লাশ খামারের ভেতরে বালুচাপা দেওয়া ছিল। কিন্তু শিয়াল বালু খুঁড়ে বের করে আনলে দুর্গন্ধ বের হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে ৫ থেকে ৬ দিন আগে তাদের হত্যা করে বালুচাপা দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার পর থেকে জয় নামের রাখাল পলাতক রয়েছেন। পুলিশ তাকে আটকের চেষ্টা করছে।