সিডিএর বাস্তবায়িত প্রকল্প মূল্যায়ন করলে অনেক অনিয়ম বের হবে

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গত ১৫ বছরে একাধিক প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে। কিছু প্রকল্পের সুফলতা নিয়ে জনমনে আপত্তি রয়েছে। বাস্তবায়িত প্রকল্প নিয়ে সুফলতা ও অর্থের সঠিক ব্যবহার হয়েছে কি না, মূল্যায়ন করা প্রয়োজন বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। এসব প্রকল্পের মাধ্যমে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট অনেকেই আর্থিক সুবিধা লাভের অভিযোগ রয়েছে। কর্তৃপক্ষের পছন্দের কতিপয় কর্মকর্তাদের প্রকল্পের পরিচালকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কোণঠাসা হয়ে পড়ে দক্ষ কর্মকর্তারা। কর্তৃপক্ষের পছন্দের লোকদের প্রকল্পের দায়িত্ব ও একাধিক পদে অতিরিক্ত দায়িত্ব দিয়ে প্রশাসনকে কুক্ষিগত করার অভিযোগ বঞ্চিত কর্মকর্তাদের।

সিডিএ রাজনৈতিক বিবেচনায় জনস্বার্থের পরিপন্থি অনেকগুলো প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে। তার মধ্যে অধিকাংশ প্রকল্প নিয়ে নগর পরিকল্পনাবিদসহ সচেতন মানুষের আপত্তি ছিল। কিন্তু জনমত উপেক্ষা করে সিডিএ একের পর এক একাধিক প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে। বাস্তবায়িত অধিকাংশ প্রকল্পের মাধ্যমে জনগণের কাঙ্ক্ষিত সুফল পাচ্ছে না। এসব প্রকল্পের কয়েক দফায় ব্যয় ও সময় বাড়ানো হচ্ছে। বাস্তবায়িত প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে—চারটি ফ্লাইওভার, বাকলিয়া এক্সেস রোড, অক্সিজেন থেকে কুয়েশ সড়ক, কালুরঘাট থেকে চাক্তাই বেড়িবাঁধ কাম সড়ক, পতেঙ্গা থেকে ফৌজদারহাট আউটার রিং রোড।

কর্মকর্তাদের অভিযোগ, প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে চলছে স্বজনপ্রীতি। কর্তৃপক্ষ পছন্দের কর্মকর্তাদের পিডি নিয়োগ দিয়ে কাজ করানো হয়েছে। এতে কর্তৃপক্ষের পছন্দের কতিপয় কর্মকর্তা একাধিক পদে অতিরিক্ত দায়িত্ব নিয়ে প্রশাসনকে নিয়ন্ত্রণ করেছে। প্রধান প্রকৌশলীর দায়িত্বে আছেন কাজী হাসান বিন শামস। তিনি একই সঙ্গে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর চলতি দায়িত্ব, ভারপ্রাপ্ত প্রধান নগর পরিকল্পাবিদের দায়িত্ব ও সিডিএর সবচেয়ে ব্যয়বহুল চট্টগ্রাম আউটার রিং রোড প্রকল্পের পিডি। আবার প্রকৌশলী হাবিবুর রহমান নির্বাহী প্রকৌশলী হলেও তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর অতিরিক্ত দায়িত্ব ও একটি প্রকল্পের পিডি। প্রকৌশলী মাহফুজুর রহমান নির্বাহী প্রকৌশলী (প্রকল্প), এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের প্রকল্প, আখতারুজ্জামান ফ্লাইওভার ও বায়েজিদ বোস্তামী রোডের পিডি ছিলেন। প্রকৌশলী মাঈনুদ্দিন আহমেদ বাকলিয়া এক্সে রোড ও জলাবদ্ধতা নিরসসন প্রকল্পের পিডির দায়িত্বে রয়েছেন।

অনেক প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে সিডিএর একাধিক প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে মামলা বিচারাধীন রয়েছে। নির্বাহী প্রকৌশলী সাত জনের মধ্যে চার জনের বিরুদ্ধে দুদকে মামলা বিচারাধীন রয়েছে। সহকারী প্রকৌশলী পাঁচ জন, উপসহকারী প্রকৌশলী চার ও অ্যাস্টিমেটর দুই জনের বিরুদ্ধে দুদকে মামলা বিচারাধীন রয়েছে। তবে যাদের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে তাদের কোনো প্রকল্পের দায়িত্ব দেওয়া সমীচীন হবে না বলে অনেকেই মনে করেন।

জানতে চাইলে পরিকল্পিত চট্টগ্রাম ফোরামের সহসভাপতি প্রকৌশলী সুভাস বড়ুয়া বলেন, সিডিএ যেসব প্রকল্প বাস্তায়ন করেছে তা পুনরায় মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। জনস্বার্থে কতটুকু উপকারে আসছে অর্থের ব্যয় সঠিক ভাবে হয়েছে কি না, দেখা যেতে পারে।’

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর  সিডিএতে ১৫ বছর যাবত্ উপকার ভোগী ও বঞ্চিতদের মধ্যে অস্থিরতা বিরাজ করছে। সম্প্রতি অতীতে বঞ্চিত ৩ জন প্রকৌশলী একটি করে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি বঞ্চিত কর্মচারী বিক্ষোভ করেছে। সরকার পতনের পর থেকে চেয়ারম্যান অফিসে আসছেন না। কিনি আত্মগোপনে চলে গেছেন।

সিডিএর প্রকৌশলী ও কর্মকর্তাদের অভিযোগ গত ১৫ বছর যাবত্ ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে কর্তৃপক্ষের প্রশ্রয়ে একচ্ছত্র সুবিধা ভোগ করেছে। বঞ্চিতদের বসার জন্য অফিস পর্যন্ত দেওয়া হয়নি। গত ১৫ বছর বছর যাবত্ পদোন্নতিবঞ্চিত প্রকৌশলী ও কর্মকর্তাদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। জনবলের প্রকল্প সংকট চলছে। বিগত চেয়ারম্যান জানে আলম দোভাষ জনবল নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি দিয়েছিলেন। কিন্তু পরবর্তী সময়ে নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায়।