ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে পৃথক ঘটনায় গরুচোর ও ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনিতে দুই যুবক নিহত হয়েছে। অন্যদিকে ছেলেধরা সন্দেহে ধাওয়া করে পরিত্যক্ত অবস্থায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ রেলগেইট এলাকা থেকে কালাে গ্লাসের একটি সাদা মাইক্রোবাস আটক করেছে র্যাব-১৪ ও পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার দিবাগত রাত একটায় উপজেলার লালপুর নোয়াগাঁও গ্রামের জহিরুল ইসলামের বাড়িতে ৫/৬ জনের একদল চোর গরু চুরির প্রস্তুতি নিচ্ছিলো। এ সময় গৃহকর্তা টের পেয়ে গোয়াল ঘরে গেলে অস্ত্রধারী চোরেরা তার ওপর আক্রমণ করে। তাকে মারত্মক আহত করে।
তার চিৎকারে স্থানীয় লোকজন ছুটে এলে অন্য চোরেরা পালিয়ে গেলেও একজন ধরা পড়ে। এ সময় উত্তেজিত জনতা তাকে গণপিটুনি দিয়ে মারাত্মক আহত করে। পরে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে বুধবার সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে পাঠানো হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
গণপিটুনিতে নিহত চোরের নাম আমজাদ (৩৫)। সে কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরব উপজেলার আগানগর গ্রামে আবু তাহের মিয়ার ছেলে বলে জানা যায়। এই ঘটনায় গরু চোর দলের ছুরিকাঘাতে মারত্মক আহত গৃহকর্তা জহিরুল ইসলাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।
উল্লেখ্য, গণপিটুনির পর নিহত আমজাদের গরু চুরির স্বীকারোক্তিমূলক একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। এতে সে রায়পুরা উপজেলার মাঝেরচর গ্রামের হেলাল মিয়া ও বাচ্চু মিয়াসহ আরও মোট পাঁচজন জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।
এদিকে বুধবার সকাল ১০টায় উপজেলার চরচারতলা গ্রামে ছেলেধরা সন্দেহে অজ্ঞাত ( ৩০) এক যুবককে গণপিটুনি দিলে ঘটনাস্থলেই সে মারা যায়। স্থানীয় মধ্যপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে ধারালো রামদা নিয়ে সন্ধেহজনকভাবে বসে থাকতে দেখে এক মহিলা চিৎকার করলে জনগণ ছুটে আসে। এ সময় উত্তেজিত জনতা গণপিটুনি দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
অপরদিকে বুধবার দুপুর ১২টায় ছেলেধরা সন্দেহে স্থানীয়দের অভিযোগের প্রেক্ষিতে ধাওয়া করে পরিত্যক্ত অবস্থায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের আশুগঞ্জ রেলগেইট এলাকা থেকে কালো গ্লাসের একটি সাদা মাইক্রোবাস আটক করেছে র্যাব-১৪ ও পুলিশ। এ সময় ড্রাইভার পালিয়ে গেছে।
আরও পড়ুন: গাইবান্ধার ত্রিমোহনী-কালীর বাজার সড়কে চরম দুর্ভোগ
এই ব্যাপারে আশুগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ মাসুদ আলম বলেন, নিহত দুই যুবকের লাশ ময়না তদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইত্তেফাক/নূহু