গণঅভ্যুত্থান ও শেখ হাসিনার দেশ ত্যাগের পর গ্রেফতার আতঙ্কে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ। বিভিন্ন সূত্র জানায়, অন্তত কয়েক শ নেতাকর্মী সিলেট সীমান্ত দিয়ে ভারতে পাড়ি দিয়েছেন। পালিয়ে যাওয়ারা ভারতের গৌহাটি, শিলং, ডাউকি, জোয়াইসহ কয়েকটি এলাকায় বসবাস করছেন বলে একাধিক সূত্র জানায়। এদিকে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ইমিগ্রেশন পুলিশ যুবলীগের চার নেতাকে আটক করে। তারা বর্তমানে জেলহাজতে।
গত ২৯ আগস্ট বৃহস্পতিবার সালেহ আহমদ জুয়েল ও জালাল আহমদ সৌদি আরব যাওয়ার পথে ওসমানী বিমান বন্দরে আটক হন। সালেহ আহমদ সাবেক পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিনের ভাগনা ও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান। জালাল আহমদ বড়লেখা সদর ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি। এর আগে ২৭ আগস্ট সোমবার ওসমানী বিমানবন্দরে সৌদি আরবের জেদ্দায় যাওয়ার পথে আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুর রহমান জামিল ও অ্যাডভোকেট সৈয়দ শামীমকে আটক হরা হয়। তদের রাজনৈতিক একটি মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়।
সিলেটে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী ও সাধারণ কর্মীরাও গ্রেফতার, জনরোষ এড়াতে গা ঢাকা দিয়েছেন। অনেকেই সীমান্ত অতিক্রম করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গরু ও চিনির চোরাই কারবারিদের সঙ্গে অবৈধভাবে বিরাট অঙ্কের দফারফা করে তারা সীমান্ত পাড়ি দেন। সিলেট সীমান্তপথ অনেকটা নিরাপদ ভেবে জেলার বাহির থেকেও আওয়ামী লীগ নেতা ও সমর্থকরা এ পথে পাড়ি দিয়েছেন। তবে কেউ কেউ ধরা খেয়ে অর্থ-মান-সম্মান, সব হারিয়েছেন। কারো জীবন প্রদীপও নিভে গেছে। এর মধ্যে সাবেক বিচারপতি সামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক কানাইঘাটের ডোনা সীমান্তে ধরা খেয়ে চরম অপদস্ত হয়েছেন। পাচারকারীরা তার কাছ থেকে ৬০-৭০ লাখ টাকা কেড়ে নিয়েছে। বিজিবি তাকে আটক করে। পরে আদালতে হাজির করা হলে তার ওপর বিক্ষুব্ধ জনতা হামলা চালায়। বর্তমানে তিনি সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে বিশেষ ব্যবস্থায় চিকিৎসাধীন। বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইসহাক আলী খান পান্না ঐ সময় সিলেট সীমান্ত পাড়ি দিয়ে শিলংয়ের একটি পাহাড় থেকে পড়ে গিয়ে নির্মমভাবে মৃত্যুবরণ করেন। অবশ্য পরে তার লাশ দেশে আনা হয়।
অন্যদিকে সরকার পতনের পর থেকে সিলেটের চার জেলার ভিন্ন আদালতে দুই ডজনেরও বেশি মামলা হয়েছে। প্রতিদিন আদালত ও থানায় পৃথক মামলা হচ্ছে। এসব মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থেকে শুরু করে বিগত সরকারে উচ্চ পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা, মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, পুলিশ কর্মকর্তা, স্থানীয় আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতা ও কর্মীদের আসামি করা হচ্ছে। এর মধ্যে হত্যা মামলাও রয়েছে। সব মিলিয়ে আসামি কয়েক হাজার।