বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেনের হুঁশিয়ারিতে দপ্তর ছেড়ে পালিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) আলোচিত ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী আশিকুর রহমান।
অদক্ষতা ও দুর্নীতির অভিযোগে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্দোলনের মুখে ডিএসসিসির প্রধান প্রকৌশলী পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত হয়েছিলেন সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসের ঘনিষ্ঠজন আশিকুর রহমান। গত সোমবার (২ সেপ্টেম্বর) মিছিল নিয়ে বরখাস্ত হওয়া সেই প্রকৌশলীকে চেয়ারে বসান বিএনপি নেতাকর্মীরা। তারা তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।
বৃহস্পতিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে ইশরাক হোসেন বলেন, ‘ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের সাবেক (ভারপ্রাপ্ত) প্রধান প্রকৌশলী আশিকুর রহমানকে জোরপূর্বক পুনরায় বসানোর পেছনে আমার ইন্ধন রয়েছে বলেও বিভিন্ন গণমাধ্যম সংবাদ প্রচার করেছে। এ ধরনের অপকর্মে আমার সম্পৃক্ততা নেই।’
যারা এ ধরনের কাজ করেছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের কাছে অনুরোধ জানান ইশরাক। বিএনপি নেতার এ ঘোষণার পর নগর ভবন ছেড়ে পালিয়েছেন আলোচিত প্রকৌশলী আশিকুর রহমান।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন সূত্রে জানা গেছে, আশিকুর রহমান ১৯৯৩ সালের ২৭ জানুয়ারি তৎকালীন ঢাকা সিটি কর্পোরেশনে সহকারী প্রকৌশলী (পুর) হিসেবে যোগদান করেন। পরে সহকারী প্রকৌশলী পদ থেকে খুব কম সময়ের মধ্যে নির্বাহী প্রকৌশলী এবং তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পদে পদোন্নতি পান। সর্বশেষ দুই বছর আগে নিয়মবহির্ভূতভাবে যোগ্যদের পিছনে ফেলে বাগিয়ে নেন প্রধান প্রকৌশলীর পদটি।
২০১৫ সালে মেয়র হানিফ ফ্লাইওভারে টোল সংক্রান্ত দুর্নীতিতে আশিকুর রহমানকে সিটি কর্পোরেশন থেকে সরিয়ে নিতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেন সাবেক মেয়র সাঈদ খোকন। তখন তাকে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রকৌশল বিভাগে দায়িত্ব দেওয়া হয়। সেখানেও নানা অপকর্মে জড়িয়েছিলেন তিনি।
পরে ২০২১ সালের ৭ জুন আবার তাকে নগর ভবনে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসেবে নিয়োগ দেন সাবেক মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস। ২০২২ সালের ২০ অক্টোবর তাকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। গত ১৩ আগস্ট স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণের আবেদন করেন আশিকুর রহমান। তবে সেই আবেদন গৃহীত হয়নি। পরে দায়িত্ব পালনে অবহেলা, অসদাচরণ, অদক্ষতা ও দুর্নীতির অভিযোগে গুরুদণ্ডে দণ্ডনীয় অপরাধের কথা উল্লেখ করে পরদিন তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।