কোটা সংস্কার আন্দোলন

দিশেহারা সবজী বিক্রেতা মুনের পরিবার

১৬ জুলাই শহীদ আবু সাঈদের গুলিবিদ্ধের মাত্র পনের মিনিট আগে শর্টগান ও টিয়ারসেলের প্রায় দুই শতাধিক ছররা ঝাঝরা করে মুনের (১৯) ডান হাত, মুখ ও বুকে। নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার নিতাই ইউনিয়নের পানিয়ারপুকুর গ্রামের আব্দুল খালেকের ছেলে সে। রংপুর পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের ষষ্ট সেমিস্টারের মেধাবী ছাত্র। 

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকরা তার শরীরের চারটি বড় ধরনের ছররা অপসারিত করতে পারলেও সূক্ষ্ম ছররাগুলো অপসারণ করতে পারেনি। রংপুর মেডিকেলের কলেজ হাসপাতালে ১৬ জুলাই থেকে ২০ জুলাই পর্যন্ত চিকিৎসা নিয়ে ফ্যাসিষ্ট শেখ হাসিনার পতনের দাবিতে রংপুরের রণাঙ্গনে মাঠে নামে মুন। বুলেটের ক্ষত যেন ছুঁতে পারেনি তাকে। ৬ আগস্ট পর্যন্ত রক্তে ভেজা রাজপথে আন্দোলনে সরব ছিল সে।

গুলির ছররার যন্ত্রণা বেশী হলে গত ২১ আগস্ট ঢাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা করায় মুন। ডাক্তার ছাড়পত্র দেয়ার আগে বলে দেন, গুলির ছররাগুলো আপাতত ক্ষতি না করলেও এক সময় ইনফেকশন বা পচন ধরার সম্ভাবনা রয়েছে। শরীর থেকে সব ছররা অপসারিত করতে হলে বিদেশে উন্নত চিকিৎসা করাতে হবে।

তার বাবা আব্দুল খালেক জানান, আমি একজন ক্ষুদে সবজি বিক্রেতা। টানাপোড়নের সংসারে ছেলের জন্য লাখ টাকা খরচ করেছি। তাকে বিদেশে চিকিৎসা করানো আমার কাছে স্বপ্নের মত। মা মুন্নি আক্তারও মেধাবী ছেলে মুনের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কিত।

মুন বলেন, উন্নত চিকিৎসা করে সুস্থ জীবন ফিরে পেতে চাই। দেশের ক্রান্তি লগ্নে কিংবা মহৎ কোন কাজে অংশগ্রহণ করলে ধন্য হবে আমার জীবন।