গ্রেপ্তার ৪, চলছে শাটডাউন

অচলাবস্থা কাটেনি কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের

কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ডা. সজীব কাজীর উপর হামলার ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। আহত সজীব মামলাটি করেন। হামলার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ চারজনকে গ্রেফতার করেছে। পাশাপাশি কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসকের ওপর হামলার ঘটনায় দ্বিতীয় দিনের মতো চলছে শাটডাউন কর্মসূচী।

চিকিৎসকরা তাদের নিরাপত্তাসহ নানা দাবীতে মানববন্ধন সমাবেশ করেছে চিকিৎসক, নার্স, ইন্টার্নি ও মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা কাজে না ফেরার ঘোষণা দিয়েছে। বৃহস্পতিবার হাসপাতালের বহি:বিভাগের সামনে তারা এ মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করেছেন। এ সময় প্রাইভেট চেম্বারও বন্ধ রাখার আহবান জানান বক্তারা।

পরে শিক্ষার্থীদের একটি মিছিল পুলিশ সুপার কার্যালয়ে গিয়ে বিক্ষোভ করে। 

অপরদিকে টানা কর্মবিরতির ফলে কার্যত অচল হয়ে পড়ে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের সেবা কার্যক্রম। শাট-ডাউন কর্মসূচীর ফলে সেবা না পেয়ে হাসপাতাল ছাড়ছেন রোগীরা।

নিউমোনিয়া আক্রান্ত শিশুকে নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি থাকা ছলিমা খাতুন বলেন,  গত মঙ্গলবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত কোন ডাক্তার আসেনি ওয়ার্ডে। আমার সন্তানের অবস্থা অবনতির দিকে, তাই প্রাইভেট হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছি। 

বৃদ্ধ বাবাকে নিয়ে ভর্তি থাকা আরিফ উল্লাহ বলেন, দুইদিন কোন ডাক্তার বাবাকে দেখতে আসে নি। কি করবো বুঝতে পারছি না। ভর্তি সকল রোগীর একই অবস্থা। 

এদিকে, চিকিৎসক সজীব কাজীর উপর হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ৪ জনকে আদালতে নিয়ে যাওয়া হয়। তদন্তকারী কর্মকর্তা সাতদিনের রিমান্ড আবেদন করেন।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন, কক্সবাজার পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের নতুন বাহারছড়া এলাকার মোহাম্মদ সেলিম রেজার ছেলে তাহসিন মোহাম্মদ রেজা (২৫), তামিম মোহাম্মদ রেজা (২২), কালুর দোকান এলাকার সাইফুল আজিমের ছেলে সাইদুল লতিফ সাকিব (২৪) ও টেকপাড়া এলাকার আবু বক্করের ছেলে সাইফ বিন সম্রাট (২৪)।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুস সত্তার বলেন, গ্রেফতারকৃতদের দুইজনকে ৭দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে। 

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মিজানুর রহমান বলেন, কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে হাসপাতালের চিকিৎসক ও ওয়ার্ড কর্মীদের ওপর হামলা ও ভাঙচুর ঘটনায় আহত চিকিৎসকের দায়ের করা মামলায় চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে অন্য অভিযুক্তদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে। 

এদিকে, চিকিৎসক সজীব কাজীর উপর হামলা ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতার, নিজেদের নিরাপত্তার দাবিতে চলমান শাটডাউন আন্দোলনের সমর্থণে অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক, সহকারী অধ্যাপক, কনসালটেন্ট (সকল), প্রভাষক, সহকারী রেজিষ্টার, মেডিকেল অফিসারদের সকল ধরণের প্রাইভেট প্র্যাক্টিস ও চেম্বার সেবা বন্ধ রাখার অনুরোধ জানিয়েছেন ২৫০ শয্যা সদর হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজের চিকিৎসক এবং শিক্ষার্থীরা। এ নিয়ে তারা একটি বিবৃতিও দেন।