আবাহনীর ফুটবল ম্যানেজার রূপু 

টানা ১৯-২০ বছর আবাহনীর ফুটবল ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন দেশের সাবেক ফুটবলার সত্যজিত দাস রূপু। গত মৌসুমে দায়িত্ব দিয়েছিলেন আরেক সাবেক ফুটবলার নজরুল ইসলামকে। এক বছর পর আবার পুরোনো দায়িত্বে ফিরলেন রূপু। গতকাল আবাহনীর শীর্ষ মহলের সিদ্ধান্তে পুনরায় রূপুকে ফুটবল ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। নজরুল আছেন, থাকবেন। সহকারী হয়ে কাজ করবেন তিনি। 

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আবাহনীর শীর্ষ কোনো কর্মকর্তাই নেই। গ্রেফতার হয়েছেন ক্লাবের চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমান। ডিরেক্টর ইনচার্জ কাজী নাবিল উধাও। বোর্ড পরিচালক পদে অন্য যারা রয়েছেন তারাও আবাহনীর সংস্পর্শে আসতে রাজি নয়। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের ঘটনার পর আবাহনীর ওপর দিয়ে ঝড় গেছে। 

কিন্তু এবার ৫ আগস্টের পর ক্লাব জ্বালাও- পোড়াওয়ের মতো ঘটনা ঘটেনি। আবাহনী এবার কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি। দল টিকিয়ে রাখাই চ্যালেঞ্জ। একটা সময় লিগে না খেলারও সিদ্ধান্ত ছিল। সেখান থেকে সরে এসে ক্লাবটাকে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টায় মাঠে নামার পরিকল্পনা করা হয়। বিদেশি কোচ আনার পরিকল্পনা বাদ দিয়ে দেশি কোচ মারুফুল হককে নিয়েছে। অন্য সব ক্লাব বিদেশি ফুটবলার নিয়ে খেললেও আবাহনী এবার বিদেশি খেলোয়াড় ছাড়াই খেলবে। শিরোপা জয়ের জন্য মাঠে নামবে না। নামবে ফুটবলে টিকে থাকার লড়াইয়ে। 

কোচ মারুফুল হকের সঙ্গে এক জন দক্ষ ম্যানেজার দরকার। ডাগ আউটে নজরুল ইসলামের চেয়ে রূপুর অবস্থানে মাঠের ফুটবলাররা উজ্জীবিত থাকবেন। নানা ভাবনায় রূপুকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাছাড়া এবার আবাহনীর ফুটবল দল গঠনে রূপুর অবদানও কম নয়। এই ক্লাবেরই অধিনায়ক ছিলেন তিনি। ফেনীতে আজমেরী বেগম গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনালে মোহন বাগানকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়া আবাহনীর অধিনায়ক ছিলেন রূপু। কলকাতার মোহামেডান, ইস্ট বেঙ্গল ক্লাব, মোহন বাগান এবং বাংলাদেশের ব্রাদার্স ইউনিয়ন, মোহামেডান, আবাহনীকে নিয়ে ঢাকায় হওয়া উপমহাদেশে সাড়া ফেলে দেওয়া বিটিসি ক্লাব কাপ টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন আবাহনীর অধিনায়ক ছিলেন রূপু। 

ভারতের নাগজি ট্রফি, বরদুলই ট্রফিও এনেছেন রূপু। ঘরোয়া ফুটবল লিগ চ্যাম্পিয়ন, স্বাধীনতা কাপ ফুটবল চ্যাম্পিয়ন হওয়া ছাড়াও ম্যানেজার হিসেবেও রূপু পেশাদার লিগের প্রথম টানা তিন আসরে হ্যাটট্রিক শিরোপা পায় আবাহনী। সাফল্যের মালা অনেক বড়, তবে এবারের লিগে আবাহনী কেমন করবে তা নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। দেশি ফুটবলারদের লড়াই করতে হবে।