ভোলার চরফ্যাশনের রসুলপুর গ্রামে হুমকির মুখে ৮০ বছরের পৈতৃক সম্পত্তি থেকে উৎখাত হয়েছেন মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আলম। পৈতৃক প্রায় ৪ একর ৮৮ শতাংশ জমি ও উৎপাদিত ফসল দীর্ঘ ৮০ বছর ভোগ দখল করেন ফারুক আলম ও তার পরিবার। সম্প্রতি ওই এলাকার আলমগীর, জামাল পাটোয়ারী ওই জমির মালিকানা দাবি করে দখল নেয়।
ঢাকায় বসবাসকারী ফারুক আলম স্ত্রীকে নিয়ে ১৫ জুন ওই জমি এলাকায় গেলে সন্ত্রাসীরা হামলা করে কুপিয়ে পিটিয়ে হাত-পা ভেঙে দেয়। এরপর মেরে ফেলার হুমকি দেয়। বৃহস্পতিবার ভোলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে সম্পত্তি উদ্ধার ও নিরাপত্তা দাবি করেন মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আলম।
তার অভিযোগ ওই সন্ত্রাসীদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে স্থানীয়রা। ভয়ে কেউ মুখ খুলতে এবং প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছেন না।
শশীভূষন থানার ওসি মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘ফারুক আলমের ওপর হামলার বিষয়টি আমি জানি। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। জমির মালিকানা প্রমাণের জন্য আলমগীর গংদের কাগজপত্র নিয়ে থানায় আসতে বলা হয়েছে। তারা মূল কাগজ দেখাতে পারেননি। সময় নিয়েছেন। তবে ক্রয়সূত্রে জমির মালিক দাবি করছেন।’
অপরদিকে পৈতৃক সম্পত্তির প্রমাণপত্র দেখিয়েছেন বলে দাবি করেন ফারুক আলম। ফারুক আলম তার পৈতৃক সম্পত্তি উদ্ধারে ভোলা-৪ আসনের এমপি সাবেক উপমন্ত্রী আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকবের সঙ্গে দেখা করে সহায়তা চান। এমপি জ্যাকব বিষয়টি নিষ্পত্তি করতে উপজেলা চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে আলমগীর বাহিনীকে ওই জমি ছেড়ে দিতেও বলেন। এরপরেও ওই বাহিনী জমি ছেড়ে না দিয়ে উল্টো ফারুক আলমকে এলাকায় এলে হত্যার হুমকি দেয় বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানান তিনি।
এ ব্যাপারে আলমগীর হোসেন সাংবাদিকদের জানান, জমি দখল বা ফারুক আলমের ওপর তার নেতৃত্বে হামলার কোনো ঘটনা ঘটেনি। এটি বানোয়াট। এছাড়া তারা ৪০ বছর আগে ওই জমি হাজারিদের কাছ থেকে ক্রয় করেছেন। এর দলিল রয়েছে। ফারুক আলম এখন তাদের বিরুদ্ধে জমি দখলের মিথ্যা অভিযোগ তুলছেন। স্থানীয় এমপি জ্যাকবের কাছেও মিথ্যা অভিযোগ দিয়েছেন।
আরও পড়ুন: যৌন নিপীড়নকারী শিক্ষকের বিচার দাবিতে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন
অভিযুক্ত জামাল পাটোয়ারী জানান, তারা ফারুক আলম নামের কাউকে চেনেন না। ওই জমি ১৯৬২ সাল থেকে তার বাপ-দাদারা ভোগ দখল করতেন। ওই সূত্রে তারা এখন মালিক।
ইত্তেফাক/নূহু