নরসুন্দর সমাচার

 

সবকিছুই বদলায়, কেবল নাপিত, নাপিতদের আচরণ আর তাদের পরিবেশ ছাড়া। এগুলো কখনোই বদলায় না। জীবনে প্রথম কেউ যখন একটা নাপিতের দোকানে ঢোকেন, তখন সেখানে তিনি যে অভিজ্ঞতা লাভ করেন, জীবনের শেষ দিনটি পর্যন্ত তা একইরকম থাকে। আজ সকালে রোজকার মতো দাড়ি কামালাম। বড় রাস্তার দিক থেকে আমি যখন নাপিতের দোকানের দরজার দিকে এগোচ্ছিলাম, তখন একজন লোক জোনস স্ট্রিট থেকে দরজার দিকে এগোচ্ছিল—এটা সবসময়ই হয়। আমি দ্রুত পা চালালাম, কিন্তু কোনো লাভ হলো না; লোকটা আমার চেয়ে সামান্য এক পদক্ষেপ এগিয়ে থেকে দরজায় ঢুকল, আর আমিও পায়ে পায়ে তাকে অনুসরণ করলাম আর দেখলাম যে, একমাত্র খালি চেয়ারটায় সে বসল, যেটায় সেরা নাপিতটা সেবা দেয়। সবসময়ই এরকম ঘটে। আমিও বসলাম এই আশায় যে, বাকি যে দুজন নাপিত আছে, তাদের মধ্যে ভালো নাপিতটির চেয়ারটা হয়তো আমার কপালে জুটবে; কেননা সে তখন তার খদ্দেরের চুল আঁচড়াতে শুরু করেছে, আর এদিকে তার সহকর্মী তখনো তার খদ্দেরের জুলফি ঘষে তেল লাগানো শেষ করেনি। প্রবল আগ্রহে আমি সম্ভাবনাটির দিকে লক্ষ করতে থাকলাম। যখন লক্ষ করলাম যে, ১ নং নাপিতের চেয়ে ২ নং নাপিত এগিয়ে চলেছে, তখন আমার আগ্রহ বেড়ে গেল। তারপর একজন নবাগত খদ্দেরের স্নানের টিকিটের ভাংতি দিতে গিয়ে এক নং নাপিত একমুহূর্তের জন্য থামতেই সে দৌড়ে হেরে যেতেই আমার আগ্রহ দুশ্চিন্তায় পরিণত হলো। তারপর আমি আবার আবিষ্ট হয়ে লক্ষ করলাম, সে আর তার সহকর্মী উভয়েই তাদের যার যার খদ্দেরের বুক থেকে তোয়ালে টেনে সরিয়ে গাল থেকে পাউডার ঝাড়তে শুরু করেছে। এখন সম্ভাবনাটা প্রায় সমান সমান হয়ে দাঁড়িয়েছে যে, কে প্রথম পরবর্তী খদ্দেরকে ডাকবে। এই দোদুল্যমান অবস্থা দেখে আমি নিশ্বাস বন্ধ করে রইলাম। তারপর সেই চরম মুহূর্তে ১ নং একটু থেমে চিরুনি দিয়ে তার খদ্দেরের ভুরু দু বার আঁচড়াতেই আমি দেখলাম যে, সে একমুহূর্তের জন্য দৌড় প্রতিযোগিতায় হেরে গেছে; আর আমি তখন উঠে দাঁড়ালাম এবং ২ নং নাপিতের হাতে পড়া থেকে উদ্ধার পেতে দোকান থেকে বের হয়ে এলাম; কেননা আমার সেই ঈর্ষণীয় দৃঢ়তা নেই, যা একজন মানুষকে শান্তভাবে অপেক্ষমাণ নাপিতের চোখে তাকিয়ে তাকে বলতে পারবে যে, সে তার সহকর্মী অন্য নাপিতটির চেয়ারের জন্য অপেক্ষা করবে।

বাইরে মিনিট পনেরো অপেক্ষা করে আবার এই প্রত্যাশা নিয়ে ফিরে এলাম যে এবার হয়তো ভাগ্য সুপ্রসন্ন হবে। অবশ্যই সব চেয়ারই তখন খদ্দেরদের দখলে ছিল এবং চারজন লোক নীরবে, অমিশুক হয়ে বিক্ষিপ্তভাবে অপেক্ষা করছিল; আর তাদের দেখে মনে হচ্ছিল যেন সবাই একঘেয়েমিতে ভুগছে, যা সর্বদা লোকদের মাঝে হয়—যখন তারা নাপিতের দোকানে বসে কখন তাদের পালা আসবে সে ডাকের জন্য অপেক্ষা করে। আমিও একটা লোহার হাতাওয়ালা পুরনো সোফায় বসলাম এবং সময় কাটাবার জন্য কিছুক্ষণ চুল রং করার সবধরনের টোটকা ওষুধের ফ্রেমে আঁটা বিজ্ঞাপন পড়তে শুরু করলাম। তারপর ব্যক্তিগত মালিকানায় প্রস্তুত বে-রাম আফটার শেভ লোশনের বোতলগুলোর গায়ে তেলতেলে হয়ে যাওয়া নামগুলো পড়লাম; তারপর দেয়ালের গায়ে খোপে খোপে সাজিয়ে রাখা ব্যক্তিগত মালিকানার শেভিং-কাপের নাম ও নম্বরগুলো পড়লাম; দেয়ালে ঝোলানো দাগেভরা নষ্ট এবং সস্তা কাগজে ছাপা যুদ্ধবিগ্রহের দৃশ্য, প্রাক্তন রাষ্ট্রপতিগণ, এলায়িত ভঙ্গিতে শায়িত অবস্থায় ইন্দ্রিয়পরায়ণ সুলতানার ভাস্কর্য, দাদুর চশমা চোখে বালিকার ক্লান্তিকর এবং চিরস্থায়ী ছবিগুলো খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখতে লাগলাম; আর মনে মনে অভিসম্পাত দিলাম যে, হাসিখুশি ক্যানারি পাখি আর তোতাপাখির ছবি নেই—এমন নাপিতের দোকান খুব কমই আছে। সবশেষে নোংরা সেন্টার-টেবিলের ওপর ছড়ানো-ছিটানো গতবছরের সচিত্র মাসিক পত্রিকাগুলো ঘাঁটতে শুরু করলাম এবং সেগুলোতে পুরনো বিস্মৃত ঘটনাবলির অপ্রতিপাদ্য অসত্য বিবরণের পক্ষে-বিপক্ষে যুক্তি দিতে থাকলাম।

অবশেষে আমার পালা এল। একটি কণ্ঠ ডেকে উঠল, ‘এরপর কে আসুন!’ এবং অবশ্যই আমি সেই ২ নং-এর কাছেই ধরা দিলাম। এটাই সবসময় ঘটে। নম্র এবং খুব দুর্বলভাবে আমি বললাম যে, আমার একটু তাড়া আছে, তবে মনে হলো কথাটা সে আদৌ শোনেনি। জোরে এক ঠেলা দিয়ে সে আমার মাথাটা উঁচু করে নিচে একটা রুমাল বিছাল। শার্টের কলারের ভেতরে লাঙ্গলের ফলার মতো আঙুল চালিয়ে দিয়ে সেখানে একটা তোয়ালে রাখল। চুলে আঙুল দিয়ে খুঁচিয়ে মন্তব্য করল যে, চুল ছাঁটা দরকার। আমি বললাম, এটা এখন করতে চাই না। সে তখন আবার চুলের ভেতরে আঙুল চালিয়ে দিয়ে বলল, বর্তমান স্টাইলের পক্ষে এটা খুব লম্বা হয়ে গেছে—একটুখানি ছেঁটে ফেললে ভালো হবে; বিশেষত পেছন দিকে অবশ্যই করা দরকার। আমি বললাম, মাত্র এক সপ্তাহ আগে চুল কাটিয়েছি। বিষয়টা নিয়ে সে একমুহূর্ত ভাবল, তারপর বেশ অবজ্ঞার সঙ্গে জিজ্ঞেস করল, কে কেটেছিল? আমিও সঙ্গে সঙ্গে উত্তর দিলাম, ‘তুমিই কেটেছিলে!’ এবার তাকে ঠিক ধরেছি। এরপর সে সাবানে ফেনা মেশাতে মেশাতে আয়নায় নিজের চেহারার দিকে তাকাল এবং তারপর মুখটা আয়নার কাছে নিয়ে গিয়ে নিজের গাল খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখতে লাগল কিংবা একটা ব্রন পরীক্ষা করতে লাগল। তারপর সে আমার এক গালে সাবানের ফেনা লাগাতে শুরু করল। আর তারপর যেই অন্য গালে সাবানের ফেনা লাগাতে যাবে, ঠিক তখনই বাইরে দুটো কুকুরের লড়াইয়ের শব্দে আকৃষ্ট হয়ে জানালার কাছে ছুটে গেল। সেখানে কিছুক্ষণ থেকে লড়াইটা দেখল এবং পরিণতিতে অন্য নাপিতদের কাছে দৌড়ে দুই শিলিং হারাল। এই ব্যাপারটা আমাকে বিশাল একটা সন্তুষ্টি দিল। গালে সাবানের ফেনা লাগানো শেষ করার পর সে হাত দিয়ে সাবানের ফেনাটা আমার গালে ঘষতে লাগল।

এরপর ক্ষুরটা একটা ঝুলন্ত পুরানো চামড়ার টুকরার রেতিতে ঘষে ধার দিতে শুরু করল। এখানেও তার বেশ দেরি হলো। আগের রাতে একজন রাজার মতো লাল কেমব্র্রিকের পোশাক আর নকল পশমি কোট পরে, সস্তাদরের একটি মুখোশনৃত্যের আসরে তার উপস্থিত থাকার কল্পিত বিবরণ নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে বাদানুবাদ করতে গিয়ে আরো দেরি করল। একজন যুবতীকে সে কীভাবে মন্ত্রমুগ্ধ করেছিল, তা নিয়ে তার বন্ধুরা তার সঙ্গে ঠাট্টা-মশকারা করতেই সে এমন খুশি হলো যে, বিতর্কটা আরো কিছুক্ষণ প্রলম্বিত করার জন্য সে বন্ধুদের ঠাট্টা-তামাশায় ইচ্ছা করে বিরক্ত হওয়ার ভান করে যেতে লাগল। এই ব্যাপারটা আবার আয়নায় তার নিজের চেহারা খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখায় রূপ নিল এবং ক্ষুরটা রেখে সে নিপুণভাবে চুল আঁচড়াল; একটা চুল বাঁকা করে কপালের ওপর অর্ধচন্দ্রাকারে চেপে ধরল, পেছন দিকে একটি সঠিক টেরি কাটল এবং চুল আঁচড়ে সুন্দর ও নিখুঁতভাবে কানের ওপর দিয়ে দুটো ডানা সামনের দিকে নিয়ে এল। ইতিমধ্যে আমার গালে সাবান শুকাতে শুরু করেছে এবং আপাত আমার প্রাণশক্তি কুরে কুরে খেতে লাগল।

এবার সে আমার দাড়ি কামাতে শুরু করল, এবং আমার মুখে আঙুল দাবিয়ে চামড়া সোজা করল এবং দাড়ি কামানোর সুবিধার্থে মাথাটা উঁচুনিচু আর এদিক-ওদিক ঘোরাতে লাগল। যতক্ষণ সে আমার মুখের শক্ত দিকটায় ছিল, ততক্ষণ আমি তেমন কষ্ট পাইনি; তবে যখন সে চিবুকটা ধরে নিচের দিকে ক্ষুরের আঁচড় আর পোঁচ দিয়ে দাড়ি চাঁছা শুরু করল আর মাঝে মাঝে হেঁচকা টান মারতে লাগল, তখন আমার চোখে পানি এসে গেল। এরপর সে ওপরের ঠোঁটের কোনায় দাড়ি কামাবার সুবিধার্থে আমার নাকটা একটা হাতলের মতো চেপে ধরল, আর তখন এই একটুখানি অবস্থা-বিচারে জোরালোভাবে একটা ইঙ্গিত পেয়ে আমি আবিষ্কার করলাম যে, এই দোকানে তার কাজের একটা অংশ ছিল কেরোসিন-বাতি পরিষ্কার করা। আসলে মাঝে মাঝেই আমার মনে অলস কৌতুহল জাগত যে, এ কাজটা কি নাপিতরাই করে, নাকি তাদের মালিক করে!

প্রায় এই সময়েই আমি একটু কৌতুকভরে অনুমান করার চেষ্টা করছিলাম যে, এবার সে ঠিক কোন জায়গায় আমার দাড়ি কামাবে, তবে সে আমার অনুমানের আগেই চলছিল, এবং আমি কাটার সম্ভাব্য জায়গাটার ব্যাপারে মনস্থির করার আগেই সে আমার থুতনির নিচেই এক জায়গায় চামড়ায় ঘ্যাঁচ করে কাটল। সঙ্গে সঙ্গে সে তার ক্ষুরটা আবার ধারালো করে নিল—এটা অবশ্য সে আগেই একবার করেছিল। খুব ঘন বা ছোট ছোট করে দাড়ি কামানো আমি পছন্দ করি না, এবং দ্বিতীয়বার তাকে আমার দাড়ি কামাবার সুযোগও দিতে চাইনি। তাই তাকে ক্ষুরটা আবার ব্যবহার করা থেকে নিবৃত্ত করার চেষ্টা করলাম; কেননা আমার আশঙ্কা ছিল যে, সে হয়তো আমার থুতনির একপাশে ক্ষুরটা চালাবার চেষ্টা করবে, খুব নরম আর স্পর্শকাতর এই জায়গাটা আমি সবসময় সযত্নে আগলে রাখতাম, এখানে দু বার ক্ষুর ব্যবহার করলে একটা না একটা অঘটন ঘটবেই; তবে সে বলল, সে কেবল একটু খড়খড়ে জায়গা মসৃণ করতে চাইছে, এবং কথা বলার সঙ্গেসঙ্গেই সে ক্ষুরটা একবার বেকায়দায় চালাতেই খোঁচা লেগে খড়খড়ে জায়গা মসৃণ করার ফলস্বরূপ একটা অপ্রীতিকর ব্রন কেটে গিয়ে সেখানে তীব্র জ্বালাপোড়া শুরু হলো। এখন সে তার তোয়ালেটা বে-রাম লোশনে ভিজিয়ে বিশ্রীভাবে সারা মুখের ওপর হঠাত্ প্রচণ্ডভাবে চড় মারার মতো থপথপ করে লেপ্টে দিতে লাগল; এমনভাবে জিনিসটা মুখের ওপর মারছিল যেন আর কোনো মানুষ এভাবে মুখ ধোয়ায়নি। তারপর তোয়ালের শুকনো অংশ দিয়ে মুখে ঝাপটা মেরে আমার মুখ মুছে দিল, এভাবে কোনো মানুষ কখনো মুখ মোছে না; তবে একজন নাপিত একজন খ্রিস্টানের মতো কারো মুখ মুছে দেবার ঘটনাটা বিরল। তারপর সে তোয়ালের কোনা দিয়ে বে-রাম তরলটা কাটা জায়গায় লাগাল, তারপর ক্ষত জায়গাটায় পাউডার ছিটাল। তারপর আবার বে-রাম দিয়ে ভিজিয়ে আবার হয়তো ক্ষতটা ভিজিয়ে নিঃসন্দেহে আবার পাউডার দিয়েই এভাবেই হয়তো অনন্তকাল চলত, যদি না আমি বিদ্রোহ করে তাকে এটা না করার জন্য অনুরোধ করতাম। এরপর সে আমার পুরো মুখে পাউডার বুলিয়ে দিয়ে আমাকে খাড়া করে বসাল এবং আমার চুলের মধ্য দিয়ে আঙুলগুলো লাঙ্গলের ফলার মতো চালাতে শুরু করল। তারপর চুলে শ্যাম্পু দেওয়ার প্রস্তাব করল এবং বলল, এটা আমার চুলে দেওয়া খুবই জরুরি। আমি তাকে জানালাম যে, গতকালই স্নানের সময় চুলে খুব ভালো করে শ্যাম্পু দিয়েছি। ‘আবার’ তাকে বাগে পেয়েছি। এরপর সে ‘স্মিথ হেয়ার গ্লোরিফায়ার’ নামে একটা বস্তু চুলে লাগাবার কথা বলে আমার কাছে এক বোতল এই জিনিসটা বিক্রির প্রস্তাব করল। তবে আমি রাজি হলাম না। তারপর সে ‘জোন’স ডিলাইট অব দি টয়লেট’ নামে নতুন একটা সুগন্ধির খুব প্রশংসা করে এটাও খানিকটা বিক্রি করার প্রস্তাব করল। আমি আবার তার প্রস্তাব নাকচ করলাম। এরপর সে তার নিজের আবিষ্কৃত দাঁত পরিষ্কার করার জঘন্য একটা জিনিস বিক্রির প্রস্তাব করলে সেটাও যখন আমি নাকচ করলাম, তখন আমার কাছে ছুরি বিক্রিরও প্রস্তাব করল।

এই শেষ উদ্যোগেও ব্যর্থতার পর সে আবার কাজ শুরু করল। সারাগায়ে, হাত-পায়ে পানি ছিটাতে লাগল এবং আমার প্রতিবাদ সত্ত্বেও চুলে তেল মাখতে শুরু করল। চুলের গোড়া ধরে ঘষে ঘষে চিরুনি দিয়ে চুল আঁচড়াল, পেছন পর্যন্ত সিঁথি কাটল এবং কপালের ওপর একটা চুল নামিয়ে চিরন্তন অর্ধচন্দ্রাকৃতি করে লেপটে দিল। এবং তারপর চিরুনি দিয়ে আমার অত্যল্প ভুরু আঁচড়িয়ে তাতে পমেড মেখে দূষিত করল। এভাবে দুপুরের হুইসল বাজা পর্যন্ত গল্প করেই যেতেই লাগল, আর তখন আমি বুঝতে পারলাম ট্রেন ধরতে আমার পাঁচ মিনিট দেরি হয়ে গেছে। তারপর সে একটানে তোয়ালেটা আমার গায়ের ওপর থেকে সরিয়ে, হালকাভাবে তোয়ালে দিয়ে আমার মুখ মুছে, আবার আমার ভুরুর ওপর চিরুনি চালিয়ে দিয়ে উত্ফুল্লভাবে ডেকে উঠল, ‘এরপর কে আসুন!’

এই নাপিতটা দু্ই ঘণ্টা পর সন্ন্যাস রোগে আক্রান্ত হয়ে মাটিতে পড়ে গিয়ে মারা গেল। আর আমি পুরোটা দিন প্রতিশোধ নেবার জন্য অপেক্ষা করছি—এবং তার শেষকৃত্যে অংশ নিতে যাচ্ছি।

 

মার্ক টোয়েন বিশ্বের সেরা লেখকের একজন। তাঁর রচনায় অন্য আমেরিকার পরিচয় পাওয়া যায়, প্রাচুর্যের মধ্যে থেকেও যে হাঁপিয়ে উঠেছে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে যার শ্লেষ খুবই তীব্র। কিন্তু About Barbers—নরসুন্দর সমাচার গল্পে তাঁর অন্য এক পরিচয় মেলে। যে কোনো বয়সের পাঠক এই গল্পের মধ্যে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করবে।