দৈনিক ইত্তেফাকে সংবাদ প্রকাশের পর এক অন্তঃসত্ত্বা শরীরে ভুল গ্রুপের রক্ত প্রয়োগে গর্ভের শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় গুরুদাসপুরের নিউ আলপনা ক্লিনিক সিলগালা করা হয়েছে। নাটোরের সিভিল সার্জন মশিউর রহমান স্বাক্ষরিত চিঠির প্রেক্ষিতে বুধবার দুপুরে ক্লিনিকটি সিলগালা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসাদুল ইসলামের ভ্রমমাণ আদালত।
সিভিল সার্জনের চিঠির বরাত দিয়ে গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মুজাহিদুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, নানা অব্যবস্থাপনার কারণে নিউ আলপনা ক্লিনিকটি ২০২২ সালে সিলগালা করা হয়েছিল। তারপর তালা ভেঙ্গে আবারও চিকিৎসা, অপারেশনসহ যাবতীয় কার্যক্রম শুরু করে কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি তাদের জানা ছিল না।
ইত্তেফাক পত্রিকার অনলাইন এবং প্রিন্ট সংস্করণে ‘ভুল রক্ত প্রয়োগে গর্ভের শিশুর মৃত্যু, মায়ের অবস্থা সংকটাপন্ন’ শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদটি সিভিল সার্জনের নজরে আসে। মুজাহিদুল বলেন, পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে তদন্ত করা হয়েছে। ইতিমধ্যে ক্লিনিকের কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করে সিলগালা করা হয়। একইসঙ্গে গর্ভের শিশু মৃত্যু নিয়ে ভুক্তভোগীদের আইনের আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসাদুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, ক্লিনিকটি সিলগালা করা হলেও কর্তৃপক্ষ পলাতক থাকায় অন্য কোনো ব্যবস্থা নেওয়া যায়নি। তাছাড়া গুরুদাসপুরের বেসরকারি ক্লিনিকগুলোতে নিয়মিত অভিযান চালানো হবে।
প্রসঙ্গত, নিউ আলপনা ক্লিনিকে সাথী খাতুনের শরীরে ভুল গ্রুপের রক্ত প্রয়োগের ফলে গর্ভের ৮ মাস ২১ দিন বয়সী শিশুর মৃত্যু হয়। পরে ২২ সেপ্টেম্বর হাজেরা ক্লিনিকে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে গর্ভের মৃত শিশুকে বের করা হলেও প্রাণ সংশয়ে পড়েছেন ওই নারী। মঙ্গলবার দুপুরে সাথী খাতুনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। এদিকে মৃত শিশুর ছোট্ট দেহখানা ময়না তদন্তের জন্য মঙ্গলবার সকালেই রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ। সাথী খাতুন গুরুদাসপুর উপজেলার সাবগাড়ি গ্রামের আব্দুস সালাম ম-লের মেয়ে। এ ঘটনায় ইত্তেফাকে সংবাদ প্রকাশ হলে ক্লিনিক বন্ধ করে দেওয়া হয়।
গুরুদাসপু থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. গোলাম সরোয়ার হোসেন ইত্তেফাককে বলেন, মঙ্গলবার সকালে শিশুর দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। শিশুটির পিতা একটি লিখিত অভিযোগও দিয়েছেন। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।