জামাল ইস্যুতে কম্পিটিশন কমিটি উদাসীন, দাবি ব্রাদার্সের 

বাফুফের কম্পিটিশন কমিটির উদাসীনতায় জাতীয় দলের অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া চাইলেও ক্লাব ফুটবলে খেলতে পারছেন না। জামালকে খেলানোর ব্যাপারে কম্পিটিশন কমিটি চাইলে একটা পথ বের করতে পারে। কিন্তু তারা রহস্যজনক কারণে সহযোগিতা করছে না বলে জানিয়েছে ব্রাদার্স ইউনিয়ন। গতকাল সকালে ফুটবল অনুশীলন শুরু করেছে ব্রাদার্স। আগের দিন জার্সি তলে দেওয়া হয়েছে দলের ফুটবলারদের হাতে। সবকিছু ঠিকঠাক গেলেও জামাল ভূঁইয়াকে নিয়ে টেনশন কমছে না। 

ব্রাদার্সের বিশ্বাস বাফুফের কম্পিটিশন কমিটির উদ্যোগে একটা সুরাহা করা যায়, কিন্তু কম্পিটিশন কমিটি জামালকে নিয়ে ভাবতে রাজি না। নিয়ম অনুযায়ী রেজিস্ট্রেশনের সময় চলে যাওয়ার পর আর কোনো রেজিস্ট্রেশন করা হয় না। ব্রাদার্স মনে করছে করা যায়। কিছু কিছু ব্যাপার থাকে, যা একটু বাস্তবায়ন করতে গেলে ব্যত্যয় ঘটে। কারো কোনো ক্ষতি হয় না, কারো অসুবিধাও হয় না। যার জন্য করা হয় সে হয়তো স্বাভাবিক স্রোতে ফিরে আসার সুযোগ পায়। জামাল ভূঁইয়াকে সেভাবেই একটা পথ খুলে দেওয়ার অনুরোধ করেছিল ব্রাদার্স। 

কিন্তু কম্পিটিশন কমিটি আমলেই নিচ্ছে না। উলটো জামাল ভূঁইয়া যেন না খেলতে পারে সেটা নিয়ে নীরবে কাজ করছে দায়িত্বপ্রাপ্তরা-এমন আশঙ্কা ব্রাদার্সের। ফিফা চায় ফুটবলাররা খেলবেন। ফিফার সঙ্গে জামাল ভূঁইয়া সম্পর্কে কথা বলতে পারে বাফুফের কম্পিটিশন কমিটি। একটা সুরাহা করা যায় কীভাবে, ফিফার কাছে জানতে চাইতে পারে। কিন্তু কম্পিটিশন কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্তরা কোনোভাবেই কথা শুনতে রাজি না। এখানেই ব্রাদার্সের আশঙ্কা। ইচ্ছে করেই কি জামালকে মাঠে নামতে দেওয়া হচ্ছে না? 

ব্রাদার্স মেনেই নিয়েছে যে, খেলোয়াড় রেজিস্ট্রেশনের সময় ফুরিয়ে গেছে কিন্তু কিছু বিষয় নিয়ে কথা বলা যায় ফিফার কাছে। ফিফা যদি অনুমোদন দেয় তাহলে জামাল ইস্যুর জট খুলে যেতে পারে বলে বিশ্বাস করেন ব্রাদার্সের ফুটবল ম্যানেজার আমের খান। বাফুফের ভেতরে কত অনিয়ম নিয়মে পরিণত হয়ে যায় মুহূর্তের মধ্যে। কারো আবদার থাকলে নিয়মের বই খুলে দেখারও প্রয়োজন মনে করেন না সংশ্লিষ্টরা। জানাজানি হলেও মুখ লুকিয়ে রাখেন, যেটা হয় গেছে সেটা তবুও চলতে থাকে। সংশোধন করার প্রয়োজন মনে করেন না কমিটির কর্মকর্তারা। তা না হলে কম্পিটিশন কমিটির জাবের বিন আনসারি, অন্য কমিটির হাসান মাহমুদরা কীভাবে ফিফার চোখে অনিয়মের অংশ হন। তাদের সম্পর্কে ফিফা ভালো কথা বলেনি। অনিয়মের কারণে ফিফার অফিসেও যেতে হয়েছিল। বাফুফের তদন্ত কমিটির মুখোমুখি হতে হয়েছিল। তাদের সম্পর্কে রিপোর্টও দেওয়া হয়েছিল। তারপরও জাবের-হাসানরা বহাল তবিয়তে রয়েছেন। 

ব্রাদার্স বলছে জাবের আগেই জানিয়ে দেয় হবে না, হবে না। জামাল ইস্যুটা সংশ্লিষ্ট কমিটির টেবিলে, সিদ্ধান্ত হয়নি। তার আগেই জামালের ব্যাপারে জাবের নেতিবাচক মতামত প্রকাশ করেন বলে জানালেন আমের খান। 'আমার কথা হচ্ছে জাতীয় দলের অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া। সে একটা ইস্যুতে আটকে গেছে। দেখতে দৃষ্টিকটু লাগছে। সবাই মিলে আন্তরিকতা দিয়ে সমাধানের পথ বের করা উচিত'-বললেন আমের খান।

ব্রাদার্সের এই সংগঠক বাফুফের সদস্য। চোখের সামনে দেখেছেন অসম্ভবকে সম্ভব করার জাদুমন্ত্র জানেন জাবেররা। ছুঁ মন্ত্রর দিয়ে অন্যের কতকিছু সহজে সমাধান করে দিয়েছেন। এখনো দিচ্ছেন। অথচ কারো কারো বেলায় কঠোর আইন প্রয়োগের ভয়ভীতি দেখানো হয়। জাবেররা এখন চেয়ারম্যানকে সন্তুষ্ট করার কাজে ব্যস্ত।