ময়মনসিংহের গৌরীপুর পৌরসভায় প্রায় পাঁচ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত পানি সরবরাহের দুই প্রকল্পে মেলেনি একফোঁটা পানিও। অন্যদিকে বেড়েছে পৌরবাসীর পানিকর।
জানা গেছে, ময়মনসিংহের ‘ক’ ক্যাটাগরিভূক্ত ‘গৌরীপুর পৌরসভার শহরে পানি সরবরাহ প্রকল্পের অধীনে প্রথম ধাপে ব্যয় করা হয় ২ কোটি ৭ লাখ ১৩ হাজার ৫শ ৯০ টাকা। দ্বিতীয় ধাপে ব্যয় হয় ২ কোটি ৮৬ লাখ ৭ হাজার ৯২০ টাকা। পৌরসভার পাম্পচালক পদে দুই কর্মচারীর বেতন দেওয়া হয়েছে বছরে প্রায় ১০ লাখ টাকা। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, এই অর্থ ব্যয়ে শহরবাসীর ভাগ্যে জোটেনি ‘একফোঁটা’ পানিও। জল সরবরাহের সকল টাকাই গেছে জলে!
সরজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, এসব এলাকার কোথাও, প্রকল্পটি হস্তান্তরের ৪ বছর অতিক্রম করলেও কোনো পরিবার বা প্রতিষ্ঠান এ প্রকল্পের অধীনে পানি নেয়নি। পানি সরবরাহ প্রকল্পের অধীনে স্থাপিত পাইপ লাইন থেকে খোদ গৌরীপুর পৌরসভার ভবনেও কোনো পানি সংযোগ পাওয়া যায়নি। বিশাল প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলেও পৌর এলাকার কেউ এ প্রকল্পের ব্যয় সংক্রান্ত কোনো তথ্য জানে না।
গৌরীপুর পৌরসভার উপ-প্রকৌশলী মদন মোহন দাস জানান, পরীক্ষামূলকভাবে ২শ পরিবারকে পানির সংযোগ দেওয়া হয়েছিল। দুই প্রকল্পের অধীনে ৫টি পাম্প হাউজ, প্রতি মাসে যে টাকা বিদ্যুৎ বিল আসে, তার ১০ ভাগের একভাগও আয় আসে না। গ্রাহকরাও এ পানি ব্যবহারে আগ্রহী নয়, ফলে বন্ধ হয়ে যায়।
ময়মনসিংহের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সারোয়ার হোসেনকে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি রিসিভ করেননি। ফলে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।