সারিয়াকান্দিতে যমুনার চরে মুজিববর্ষে নির্মিত আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৬৫টি সেমিপাকা ঘর যমুনায় বিলীন হয়েছে। গত ১৫ দিনে ঘরগুলো ভাঙনের মুখে পড়ে। প্রকল্পে বসবাসরত ১৫টি পরিবার এখন আতঙ্ক-উৎকণ্ঠায় নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন।
উপজেলার চালুয়াবাড়ী ইউনিয়নের বিরামের পাঁচগাছি মৌজায় দুই বছর আগে নির্মিত প্রকল্পে ৮০টি সেমিপাকা ঘর নির্মাণ করে ৮০টি পরিবারকে পুনর্বাসন করা হয়। ২০-২২ বিঘা জমিতে বালু ভরাট আর ঘর নির্মাণে ৪ কোটি টাকারও বেশি ব্যয় হয় বলে জানা গেছে।
শনিবার (৫ অক্টোবর) সকালে দুর্গম চরের ঐ আশ্রয়ণে সরেজমিন গিয়ে দেখা গেল ভয়াবহ এক চিত্র। প্রকল্পের বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম, ইসমাইল সরকার, বজলু সরকার, মাফু সরকার, রেজাউর সরকার, ফিরোজ প্রামানিক, ভিক্কু আকন্দ আক্ষেপ করে বলেন, প্রকল্প ভেঙে গেলেও এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা জনপ্রতিনিধিরা আমাদের দেখতে আসেননি।
তারা বলেন, বাতাসে প্রচণ্ড ঢেউয়ে ভাঙন শুরু হলে বাড়িঘর টেনে সারা যায় না। এরই মধ্যে কয়েক জনের ঘর নদীতে বিলীন হয়েছে। চরের সচেতন লোকেরা বলছেন, কোনো যাচাইবাছাই না করে অসৎ উদ্দেশ্যে অস্থিতিশীল চরে একের পর এক এ সব প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এতে সরকারের কোটি কোটি টাকা অপচয় হলেও দেখার কেউ নেই।
এ ব্যাপারে চালুয়াবাড়ি ইউপি চেয়ারম্যান তাজুল ইসলাম বাদশা বলেন, আমার আমলের আগে ঐ প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়েছে। স্থান নির্বাচনে আরও সচেতন হওয়া উচিত ছিল।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহরিয়ার রহমান বলেন, আমি সারিয়াকান্দিতে নতুন যোগদান করেছি। সরেজমিন প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাবো কী ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
জেলা প্রশাসক হোসনা আফরোজা জানান, এখন থেকে সার্ভে ছাড়া যমুনার চরে কোনো প্রকল্প গ্রহণ করা হবে না।