হুমকির পর গাজায় তরুণ সাংবাদিককে হত্যা করলো ইসরায়েলি বাহিনী

গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি হামলার ভিডিও ধারণ বন্ধের নির্দেশ দিয়ে বার বার হুমকিবার্তা পাঠানোর কয়েক সপ্তাহ পর ফিলিস্তিনি তরুণ সাংবাদিককে হত্যা করেছে ইসরায়েলি বাহিনী।

রোববার (৬ অক্টোবর) ১৯ বছর বয়সী হাসান হামাদ জাবালিয়া শরণার্থী শিবিরে তার বাসস্থানে ভারী গোলার আঘাতে মারা যান।

ফিলিস্তিনের তরুণ সাংবাদিক হাসান হামাদ। ছবি: সংগৃহীত

নিহত হওয়ার কয়েক মুহূর্ত আগে হামাদ নতুন ইসরায়েলি আগ্রাসন নিয়ে রিপোর্ট করছিলেন। এক্স-এ তার অ্যাকাউন্টে অ্যাক্সেস করা একজন সহকর্মী বলেছেন, হামাদ গভীর রাত পর্যন্ত ইসরায়েলি আক্রমণের ভিডিও পাঠাচ্ছিলেন।

স্থানীয় সময় ভোর ৬টায় তাদের শেষ ফোনালাপে হামাদ বলেন, 'ওরা আছে। ওই যে ওখানে ওরা। সব শেষ...।'

হত্যাকাণ্ডের কয়েক সপ্তাহ আগে হামাদ তার সহকর্মীদের কাছে ইসরায়েলি নম্বর থেকে পাওয়া একটি হোয়াটসঅ্যাপ বার্তার স্ক্রিনশট শেয়ার করেছিলেন। মেসেজে লেখা ছিল, 'শোনো...তুমি যদি ইসরায়েল সম্পর্কে মিথ্যা প্রচার অব্যাহত রাখো, তবে আমরা তোমার জন্য আসব এবং তোমার পরিবারকে... এটা আপনাদের শেষ সতর্কবাণী।'

ফিলিস্তিনের তরুণ সাংবাদিক হাসান হামাদ। ছবি: সংগৃহীত

তার সহকর্মীদের মতে, হামাদ তার কাজের কারণে শুধু একটি হুমকিই পাননি। তিনি একজন ইসরায়েলি কর্মকর্তার কাছ থেকে ফোনকল এবং সরাসরি টেক্সট বার্তাও পেয়েছিলেন। এতে তাকে ভিডিও ধারণ বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। গত ১৩ মে প্রথম মেসেজ পান তিনি।

মিডিয়া টাউন প্রোডাকশন কোম্পানির ম্যানেজার আশরাফ মাশহারাভি বলেন, এরপরও তাকে ফোন ও টেক্সট মেসেজে একাধিকবার হুমকি দেওয়া হয়। তবে তিনি এসব হুমকি মানতে নারাজ ছিলেন। বিশ্বাস করেছিলেন যে, তিনি কোনো ভুল করেননি এবং সাংবাদিকের স্বাভাবিক ভূমিকা পালন করছেন। আমরা তাকে কাজ কমানোর পরামর্শ দিয়েছিলাম, কিন্তু তিনি পুরোপুরি তা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। সে বলেছিল, হুমকিতে আমি আতঙ্কিত হব না। আমরা সঠিক এবং তারা ভুলের মধ্যে রয়েছে।