দীর্ঘ ২৪ ঘণ্টার প্রচেষ্টায় রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার দীঘলকান্দি এলাকায় লাইনচ্যুত তেলবাহী আটটি ওয়াগনের মধ্যে ছয়টি উদ্ধার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনাস্থলে লণ্ডভণ্ড হয়ে যাওয়া রেললাইন পুনর্নির্মাণের কাজও চলছে। এদিকে এ ঘটনায় প্রায় ২৪ ঘণ্টা ধরে রাজশাহীর সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ ছিল। বুধবার রাত ও বৃহস্পতিবারে বিভিন্ন রুটের ছয়টি ট্রেনের যাত্রা বাতিল ও টিকিট ফেরত নেওয়া হয়। এছাড়াও রাজশাহীগামী কয়েকটি ট্রেন বিভিন্ন স্টেশনে আটকা পড়ে।
বৃহস্পতিবার রাত ৮টায় লাইনচ্যুত ওয়াগন উদ্ধার এবং রেললাইন পুনর্নির্মাণ শেষ করতে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা থাকলেও সন্ধ্যার পর বৃষ্টির কারণে উদ্ধার অভিযান ব্যাহত হয়। তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক খোন্দকার শহীদুল ইসলাম বলেন, বৃহস্পতিবার রাতেই বাকি দুইটি ওয়াগন উদ্ধার এবং রেললাইন পুনর্নির্মাণ করে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে রাজশাহীর উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা ট্রেনগুলো রাজশাহী স্টেশনে আনা এবং আন্তঃনগর পদ্মা এক্সপ্রেস এবং ধূমকেতু এক্সপ্রেস ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে দেওয়ার প্রচেষ্টা চলছে। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, দুপুর ১টার মধ্যে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত চারটি ওয়াগন উদ্ধার করা হয়। বাকিগুলো উদ্ধার করা হচ্ছে। লাইন সংস্কার কাজে নিয়োজিত প্রকৌশলীর গাফলতির কারণে তেলবাহী ওয়াগনটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে বলেও জানান পশ্চিমাঞ্চল রেলের ঐ কর্মকর্তা।
পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের প্রধান প্রকৌশলী আফজাল হোসেন বলেন, বুধবার সন্ধ্যার পর থেকে গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত রাজশাহীর সঙ্গে সারাদেশের সকল ধরনের ট্রেন যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। রাজশাহীর উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা ট্রেনগুলোও মাঝপথে আটকা পড়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপকের (জিএম) কার্যালয় থেকে বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত সকল ট্রেনের যাত্রা বাতিল করা হয়।
এদিকে দিঘলকান্দি এলাকায় ফার্নেস অয়েলবাহী ওয়াগন লাইনচ্যুতির ঘটনায় বুধবার রাতে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রশিদকে সাময়িক বরখাস্তের কথা গণমাধ্যমকে জানান মহাব্যবস্থাপক খোন্দকার শহিদুল ইসলাম। কিন্তু বরখাস্ত হওয়া সেই প্রকৌশলী আব্দুর রশিদকে গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দিনভর দুর্ঘটনাস্থলে দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়। পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের প্রধান প্রকৌশলী আফজাল হোসেন, প্রধান সংকেত ও টেলিযোগাযোগ প্রকৌশলী অসীম কুমার তালুকদার, বিভাগীয় রেলওয়ে ম্যানেজার (পাকশী) মিজানুর রহমানসহ রেলের সংশ্লিষ্ট বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন।